somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গোলকধাঁধায় ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম

১৬ ই আগস্ট, ২০২৩ সন্ধ্যা ৬:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ছয়মাস পর পর রক্তের কিছু পরীক্ষা করাই, সেটা করার জন্য হাসপাতালে গিয়েছিলাম। দেখি মানুষে গিজগিজ করছে, সবাই জ্বরের রোগী! রক্ত পরীক্ষার রুমে দেখি রোগীদের বিশাল লাইন, স্ট্রেচারে করেও রোগী আসছে। ভয়াবহ অবস্থা! বেসরকারি এই হাসপাতালে কখনো এতো মানুষ দেখিনি! এত ভিড়ের কারণ ডেঙ্গু। ডেঙ্গুর ভয়াবহ পরিস্থিতি বোঝার জন্য এখন কোন হাসপাতালে গিয়ে দাঁড়ানোই যথেষ্ট !

কিন্তু পরিস্থিতি কেন এতো খারাপ হলো, এর দায় কার, আমাদের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সিটি কর্পোরেশন নাকি নাগরিকদের, সেই প্রশ্নের জবাব খুঁজে পাইনি! বলা হচ্ছে, জমে থাকা পানিই এডিস মশার উৎস স্থল, তাই জনসাধারণ যেন ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে বাড়ির ভেতরে বাইরে কোথাও পানি জমে আছে দেখলে তা ফেলে দেন। কিন্তু বাড়ির ভেতর- বাইর ছাড়াও এমন অনেক জায়গাতেই পানি জমে থাকতে দেখেছি, যেগুলো থেকে পানি নিষ্কাশন করা দুঃসাধ্য, যেমন উপরের ছবিতে ফুটপাতে ম্যানহোলের ঢাকনায় জমা পানি। পানিটা কয়েকদিন ধরে জমা, যদিও ময়লা কিন্তু আশ্বস্ত হবার কোনো অবকাশ নেই কারণ ময়লা পানিতেও এডিস জন্মে! এমন অনেক জমা পানি দেখেছি ফুটপাতে ভাঙ্গা টাইলসের গর্তে, রাস্তায়, ওভারব্রিজের নীচে। মাছের বাজারে সবসময় সর্বত্র পানি জমা থাকে, এটার দায়িত্ব জনসাধারণের নয়, বরং সিটি কর্পোরেশনের। কিন্তু এই সব ভাঙ্গা জায়গা যেখানে পানি জমে তা কখনো মেরামত করা হয়না, নিয়মিত ওষুধ ছিটানোও হয় না। ফলে এগুলো এডিস মশা বিস্তারের স্থান হিসেবে সব সময় রয়েই যায়... এই তো অবস্থা।‌ প্রদীপের নীচে অন্ধকার!

অবশ্য ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের কর্তারা দীর্ঘদিন ধরে নানারকম চেষ্টা করে যাচ্ছেন, যার সবকটিই ব্যর্থ হয়েছে। ফগার মেশিন দিয়ে এক জায়গার মশা আরেক জায়গায় পাঠানোর কার্যক্রম সবসময়ই চালু আছে, এর সাথে যুক্ত হয়েছে হাঁস, ব্যাঙ, মাছ, কার্টুন বই। ২০১৮ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত হাঁস, মাছ ও ব্যাঙ দিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে ডিএসসিসি।
২২ মে ২০২২ ঢাকাপ্রকাশ ২৪ ডটকমে সম্পর্কে বলা হয়
মশার লার্ভা ও প্রজননস্থল ধ্বংস করতে ডিএসসিসি লেক-খাল-জলাশয়ে মাছ অবমুক্ত থেকে শুরু করে হাঁস বা ব্যাঙেরও প্রয়োগ করেছিল। কিন্তু এ সব পদক্ষেপে সুফল পাওয়া যায়নি বলেই অভিযোগ নগরবাসীর।

গাপ্পি মাছ: কিউলেক্স মশা নিধনে ডিএসসিসি নগরীর বিভিন্ন ড্রেনে গাপ্পি মাছ অবমুক্ত করেছিল ২০১৮ সালে। কিন্তু ঢাকার ড্রেনের পানি এতটাই দূষিত যে কয়েকদিনের মধ্যেই গাপ্পি মাছ মরে ভেসে উঠে। তখন অনেক সমালোচনা হয় বিষয়টি নিয়ে।

গাপ্পি মাছের পর হাঁস: গাপ্পি মাছ দিয়ে মশা নিধন ব্যর্থ হওয়ার পর ২০২০ সালে মশা নিধনে কয়েক হাজার হাঁস রাজধানীর বিভিন্ন খাল, ঝিল ও জলাশয়ে ছেড়েছিল ডিএসসিসি। যদিও একবছর পর সেসব হাঁসের প্রায় ৯০ ভাগই গায়েব যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। তদারকির অভাবে হাঁসগুলো চুরি হয়ে যায়।

এরপর নামানো হলো ব্যাঙ: গাপ্পি মাছ ও হাঁস দিয়ে মশা নিধনের প্রচেষ্টা ফলপ্রসূ না হওয়ায় ২০২১ সালের মার্চে রাজধানীর খাল, ঝিল, লেক, পুকুর ও জলাশয়ে নামানো হলো বিশেষ প্রজাতির ব্যাঙ। এটিও ডিএসসিসির একটি উদ্যোগ।

এই উদ্যোগের বিফলতার পর ডিএসসিসি হয়তো তেমন কিছু করে নি, কারণ গুগল করে তেমন কোন খবর পাইনি, ৪ জুলাই ২০২৩ এ প্রকাশিত এই খবরটি ছাড়া। খবরের এক অংশ উদ্ধৃত করছি:

"রাজধানীতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ ঢাকা দক্ষিণে। যদিও দক্ষিণের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলছেন, ঢাকার বাইরে থেকেও বহু ডেঙ্গু রোগী ঢাকা দক্ষিণের হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। নগরবাসী সচেতন হলে মাত্র সাতদিনেই ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।"

মনে হয় ডিএসসিসির নগরবাসী খুব অসচেতন, তাই এতদিন পরেও অবস্থার উন্নতি না, অবনতি হচ্ছে।

দুই সিটি কর্পোরেশন ওষুধ ছিটানোর পাশাপাশি মোবাইল ফোনের জন্য "স্টপ ডেঙ্গু" নামে একটা আ্যাপ বানিয়েছে। ১৯ অগাস্ট ২০১৯ এর এই খবরে জানা যায়, স্টপ ডেঙ্গু

"স্টপ ডেঙ্গু" অ্যাপ তৈরি করেছে ই ক্যাব, তাদের সহযোগিতায় আছে কয়েকটি মন্ত্রণালয় বিভিন্ন সরকারি বিভাগ আর ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন। এই অ্যাপের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে,
এর মাধ্যমে মূলত ডেঙ্গু মোকাবেলায় দেশের প্রতিটি নাগরিককে যুক্ত করার চেষ্টা করা হবে।

নাগরিক সচেতনতা বাড়ানো এবং সবার কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেয়াই এই অ্যাপের কাজ। তথ্য পৌঁছানোর কাজ হবে এভাবে, কেউ এডিস মশার উৎপত্তিস্থল বা কোথাও পানি জমে থাকতে দেখলে তিনি সেটার ছবি তুলে সাথে সাথে এই অ্যাপে আপলোড করবেন, তারপর জমা দেবেন( কোথায় তা বলা হয়নি।) মোবাইলে ইন্টারনেট সংযোগ থাকতে হবে যাতে কোন জায়গা থেকে ছবি পাঠানো হচ্ছে সেটা ম্যাপিং হয়ে যায় অ্যাপে।‌ এভাবে সরাসরি সেই লোকেশনের তথ্য এর কাছে চলে যাবে।

তারপর কি ব্যবস্থা নেয়া হবে সে সম্পর্কে কোন তথ্য দেয়া নেই। এই অ্যাপটির কার্যকারিতা সম্পর্কে এ যাবতকাল তেমন কিছু শোনা যায় নি। সম্ভবত এটি একটি বিফল প্রজেক্ট! আসলে ডেটাসহ স্মার্টফোন কম মানুষের হাতেই আছে, সুতরাং রাস্তাঘাটে বেরিয়ে জমা পানি দেখে তৎক্ষণাৎ ছবি তুলে পাঠাতে কম মানুষই পাঠাতে পারবে, অ্যাপ প্রস্তুতকারী হয়তো এটা বিবেচনা করে দেখেননি।

এর পরের খবর ক'দিন আগের, ২৬ জুলাই ২০২৩। ঢাকার দুই সিটির কর্মসূচি অনেক, ফলাফল শুন্য। এই খবরে বলা হয়েছে:

রাজধানীতে ডেঙ্গুর এমন নাজুক পরিস্থিতি তৈরি হলেও মশা নিধনে তেমন কিছুই করতে পারছে না ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। তাদের মশা নিধনে কোনো পদ্ধতিই কাজে লাগছে না। ফলে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা।

তবে আগামী আগস্ট, সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে বলে মনে করছেন কীটতত্ত্ববিদরা। তারা জানান, বর্ষা মৌসুমে সামনের দিনগুলোতে ডেঙ্গু আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। কারণ, যেখানেই বৃষ্টির পানি জমছে, সেখানেই এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যাচ্ছে। আবার এমন কিছু জায়গায় এডিস মশা প্রজনন করছে, যেখানে বৃষ্টির পানির সম্পর্ক নেই। এর মধ্যে রয়েছে বহুতল ভবনের পার্কিংয়ের জায়গা, নির্মাণাধীন ভবনের বেজমেন্ট, ওয়াসার মিটার বাক্স এবং বাসাবাড়িতে জমিয়ে রাখা পানি।

মশা নিয়ে জনসচেতনা তৈরিতে সবচেয়ে বেশি প্রচারণা বা কর্মসূচি চালাচ্ছে ডিএনসিসি। তারা স্কুলে পাঠ্যপুস্তকে এডিস ও কিউলেক্স মশা নিয়ে জনসচেতনতামূলক অধ্যায় যুক্ত করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাব করেছে। মশা নিয়ে গবেষণায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ডিএনসিসির সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। স্কুল-কলেজে ফ্রি বিলি করতে মশা সচেতনতার এক লাখ কার্টুন বই ছাপানো হয়েছে। এছাড়া ঢাকা উত্তরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদরাসা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চলছে।


ডিএনসিসির ডেঙ্গু সচেতনতামূলক প্রচারণা।

এমন উদ্যোগের পরও ডিএনসিসি এলাকায় মশার উপদ্রব লাফিয়ে বাড়ছে।

জনসচেতনতা বাড়াতে নেয়া কিছু উদ্যোগকে মাঝে মাঝে হাস্যকর মনে হয়। যেমন অক্টোবর ১৮, ২০১৯ এর এই খবর:
view this link


সিটি কর্পোরেশনের কর্মীদের সঙ্গে যোগ দিয়ে এফডিসিতে মশা নিধন অভিযানে অংশ নিলেন খল অভিনেতা মিশা সওদাগর ও চিত্রনায়ক জায়েদ খান।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে দুই সিটি কর্পোরেশন একটা কাজ ভালোভাবে করছে; কোনো ভবনে পানি জমা আছে দেখলেই মোটা অংকের টাকা জরিমানা করা! এই পদ্ধতি ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কোনো সুফল বয়ে এনেছে বলে জানা যায়নি।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ: জরিমানা করেই যেন দুই সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব শেষ।

২৪ জুলাই ২০২৩ এর এই খবরে বলা আছে,

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সারা বছর কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় এমন ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। মশা নিধন ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকার এখনো তেমন কোনো নীতিমালা তৈরি করতে পারেনি।

তাই সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভায় মশা নিধন কর্মকাণ্ড অকার্যকর হয়ে পড়েছে। কোথাও প্রশিক্ষিত জনবল নেই। তাই জরিমানা করে ও লোক দেখানো কিছু কাজ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হবে।

তারা বলছেন, একবার এডিসের প্রজননস্থল ধ্বংসের পর সেখানে আবার লার্ভা পাওয়া যাচ্ছে। লার্ভা শনাক্তে দুই সিটিতে কোনো গবেষণাগারও নেই। নেই কোনো কীটতত্ত্ববিদও। এ কারণে ডেঙ্গু রোধে লোক দেখানো কার্যক্রম ফলপ্রসূ হচ্ছে না।


অথচ ছয় মাস আগে, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৩ এর খবরে দেখতে পাই,view this link ডিএনসিসির মেয়র বলছেন, শিগগিরই ল্যাব বা গবেষণাগার স্থাপন করা হবে। মশা নিধন কার্যক্রম দেখতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি শহরে গিয়েছিলেন, সেখান থেকেই তিনি গবেষণাগার স্থাপনের ধারণা পান। সেই কার্যক্রম দেখার পর ঢাকা শহরে মশা নিধনে এতদিন ভুল পদ্ধিতি ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিস) মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, ‘আমরা এতো দিন ভুল পদ্ধতি ব্যবহার করেছি। তাতে মশা তো ধ্বংস হয়নি বরং অর্থের অপচয় হয়েছে। তাই অতিদ্রুত ডিএনসিসি মশার প্রজাতি চিহ্নিত করতে একটি ল্যাব স্থাপন করতে চাই।’



মায়ামিতে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ শিখছেন ডিএনসিসির মেয়র।

দুই মাস পরেই, ১৯ মার্চ, ২০২৩ এর খবরের শিরোনাম, সেই ভুল পদ্ধতিতেই মশা নিধনে অভিযান শুরু ডিএনসিসির।

"কিংকর্তব্যবিমূঢ়" শব্দটির অর্থ, "কর্তব্য স্থির করতে অক্ষম এমন, হতবুদ্ধি।" ডিএনসিসির এইসব কর্মকান্ড দেখে মনে হয়, ডেঙ্গু তাদের কিংকর্তব্যবিমূঢ় করে তুলেছে! নাহলে কীভাবে তারা মনে করে বাচ্চাদের জন্য কার্টুন বই দিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব !!


মশার কামড় ক্ষতিকর!!

বাচ্চাদের জন্য কার্টুন বই প্রকাশের এর এই খবরে দেখা যায়, view this link(২৪ জুলাই ২০২৩)

মশার কামড় ক্ষতিকর" বইটির প্রকাশনা অনুষ্ঠানে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজা বইটি সম্পর্কে সাংবাদিকদের বলেন, চলতি বছরের শুরুতে ডিএুনসিসির একটি প্রতিনিধিদল যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি ডেড কান্ট্রিতে গিয়ে দেখেন সেখানে মশার কামড় নিয়ে স্কুলগুলোয় শিক্ষার্থীদের একটি বই পড়ানো হয়। এর ফলে তারা মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে সফলতা পেয়েছে। সেই বইটি ডিএনসিসি সংগ্রহ করে বাংলায় অনুবাদ করে "মশার কামড় ক্ষতিকর" নামে এক লক্ষ বই স্কুলের শিশুদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। অনুষ্ঠানে উত্তর সিটির মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘মশার কামড়ে যেসব রোগ হয়, সেগুলো সম্পর্কে আমরা আমাদের ছোট মণিদের জানাতে চাই। বইটির মাধ্যমে তারা যখন জানবে, বাড়ি গিয়ে তারা নিজেদের মা-বাবাকে বলবে, সচেতন করবে। বইটির প্রতিটি পৃষ্ঠায় থাকা ছবিগুলোয় রং করে শিক্ষার্থীরা মশার কামড়ের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে শিখবে। যেমন এতে বলা আছে, কিছু মশা কামড়ালে চুলকানি হয়, কোনো কোনো মশার কামড়ে আবার অসুস্থ হয়। তাই সুস্থ থাকতে হলে মশার কামড় খাওয়া যাবে না। বাইটের সঙ্গে ফাইট করতে হবে। বইটির শেষ করলে “সাব্বাস” সার্টিফিকেট দেওয়া হবে।

মায়ামির স্কুল আর বাংলাদেশের স্কুল!! ডেঙ্গু দমনের এমন চমৎকার বুদ্ধি যার মাথা থেকে বের হয়েছে সেই প্রতিভাবানকে আমিও সাব্বাস জানাই!

ডেঙ্গু সংক্রান্ত আরো দুটি খবর:
কীটনাশক প্রতিরোধী হয়ে উঠছে ঢাকার এডিস মশা। ১০ অগাস্ট ২০২৩

অগাস্ট পিক সিজন হতে পারে। বিবিসি বাংলা, অগাস্ট ১, ২০২৩

২২ জুলাই ২০২৩ এর খবর, এডিস মশা ঠেকাতে 'বিটিআই' আনছে ঢাকা উত্তর সিটি, এতে কি হবে। এই খবরে বলা হয়, এডিস মশা নির্মূলে এর উৎস স্থলে প্রয়োগ করা হবে বিটিআই। বিটিআই সম্পর্কে এই খবর থেকে জানা গেল, "বিটিআই এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া। মশার লার্ভা ধ্বংস করে বিটিআই। এর বৈশিষ্ট্য হলো, এতে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই মানুষের শরীরে। শুধু তা–ই নয়, পানিতে এটি প্রয়োগ করলে অন্য জলজ প্রাণীরও এতে ক্ষতি হয় না।"

এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ একটি তথ্য জানা গেল যে, বিটিআই কেবল এডিস মশার লার্ভা ধ্বংস করে কিন্তু পূর্ণ মশার উপর এর কোন কার্যকারিতা নেই। ‌


এরপর, এডিস নিধনে বিটিআই প্রয়োগ শুরু করলো ঢাকা উত্তর। ৭ অগাস্ট ২০২৩।view this link

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অগ্রাধিকার দিয়ে বিটিআই প্রয়োগ করা হবে।কালের কন্ঠের অগাস্ট ৯, ২০২৩।

কিন্তু এক সপ্তাহ গেল না, জানা গেল বিটিআই বলে যা আনা এবং প্রয়োগ করা হয়েছে, তা খাঁটি নয়!! মশা মারতে আনা বিটিআই আমদানি নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ সিঙ্গাপুরের প্রতিষ্ঠানের। প্রথম আলো ১৫ অগাস্ট ২০২৩

এই খবরে বলা হয়েছে, আমদানিকারক মার্শাল এগ্রোভেট সিঙ্গাপুরের বেস্ট কেমিক্যাল লিমিটেড তৈরি বলে যে বিটিআই কীটনাশক এনেছেন, তা সত্য নয় বলে বেস্ট কেমিক্যাল লিমিটেড জানিয়েছে। তারা "জালিয়াতির সতর্কবার্তা" শিরোনামে তারা জানিয়েছে,

এটা আমাদের নজরে এসেছে যে বাংলাদেশের মার্শাল অ্যাগ্রোভেট কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড পাঁচ টন বিটিআই লার্ভিসাইড পণ্য ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) সরবরাহ করেছিল। এতে তারা জালিয়াতির মাধ্যমে (ফ্রডলি) আমাদের কোম্পানির নাম (বেস্ট কেমিক্যাল) বিটিআইয়ের প্রস্তুতকারক হিসেবে ব্যবহার করেছে।

এই সতর্কবার্তায় তারা আরো বলেছে, মার্শাল এগ্রোভেট মি. লি শিয়াং নামের এক ব্যক্তিকে বেস্ট কেমিক্যাল এর রপ্তানি ম্যানেজার এবং বিটিআই বিশেষজ্ঞ দাবি করেছিল অথচ তিনি বেস্ট কেমিক্যাল এর কোনো কর্মী নন। ওই বার্তায় এই জালিয়াতির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

খবরের পরবর্তী অংশে আছে বেস্ট কেমিক্যাল লিমিটেড, মার্শাল এগ্রোভেট এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে মার্শাল এগ্রোভেটের কাউকে পাওয়া যায়নি। ডিএনসিসির উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা একজন আরেকজনের উপর দোষ চাপিয়েছেন। যেমন লি শিয়াং পরিচয় দিয়ে ভূয়া বিটিআই বিশেষজ্ঞর উপস্থিতি সম্পর্কে ডিএনসিসির স্বাস্থ্য বিভাগের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, "আমরা তো ব্যবহারকারী পর্যায়ের। আমদানি হয়েছে ভান্ডার ও ক্রয় শাখা থেকে। তারাই এর ব্যাখ্যা দিতে পারবে।"

এ বিষয়ে ডিএনসিসির প্রধান ভান্ডার ও ক্রয় কর্মকর্তা রমেন্দ্রনাথ বিশ্বাসের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।

ডিএনসিসির মেয়র এই জালিয়াতির ব্যাপারে জানান,
"ঠিকাদারকে কোন টাকা পরিশোধ করা হয়নি।" আরো জানান, আইইডিসিআরকে বিটিআইয়ের কার্যকারিতা পরীক্ষা করতে দেওয়া হয়েছে। যেটা আনা হয়েছে সেটা আসলেই বিটিআই কিনা। আগামী বৃহস্পতিবার এর মধ্যে ফল জানা যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিশ্বাস না হয় করলামই যে, মার্শাল এগ্রোভেট বিনা পয়সায় ঢাকা উত্তর সিটিকে বিটিআই দিয়েছে, লি শিয়াং নামের লোকটিকে সাজিয়ে আনার খরচও তারা উত্তর সিটি থেকে নেয় নি, কিন্তু তার পরও প্রশ্ন থাকে, (১)তারা যে বিষ ঢালল গুলশান লেকে পরিবেশের উপর তার কতটা প্রভাব পড়বে সেগুলো কি যাচাই করা হচ্ছে? (২) এখন তাহলে মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম কি বন্ধ থাকবে?

অথচ এতসব কিছু না করে কলকাতার মশা নিয়ন্ত্রন কার্যক্রম অনুসরণ করলে এরচেয়ে ভালোভাবে মশা নিধন করা যেত। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে যেভাবে সফল হয়েছে কলকাতা।

ডেঙ্গু দমন শিখতে আটলান্টিক পাড়ি দিয়ে আমেরিকা যাবার দরকার হয় না, ঢাকা থেকে ৩২৫ কিলোমিটার দূরে কলকাতায় গেলেই শেখা যায়। ঢাকার সাথে মায়ামি বা সিঙ্গাপুরের যত সাদৃশ্য, তার চাইতে ঢের বেশি সাদৃশ্য কলকাতার সাথে। দুই শহরেই জনসংখ্যার ঘনত্ব, নগরায়ন, ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য প্রায় অভিন্ন। দুই শহরেই ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাবের ইতিহাসও প্রায় কাছাকাছি সময়ের। তাই কলকাতা কীভাবে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করছে সেটা জানা আমাদের জন্য অর্থবহ হতে পারে। এই খবরের কিছু অংশ উদ্ধৃত করছি:

কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন মশা নিয়ন্ত্রণে তিন স্তরের নিয়ন্ত্রণ কমিটি করেছে, এই কমিটির পাশাপাশি আছে প্রতি ওয়ার্ডে স্বাস্থ্য কেন্দ্র, যেখানে শুধু ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসায় মোট ২৫০ জন চিকিৎসক আছেন। তাদের একটি তথ্য ভান্ডার আছে যেখানে কোন ওয়ার্ডে কোন কোন বাড়িতে চৌবাচ্চা ডোবা বা কুয়া আছে তার হিসাব রাখা হয়। কেউ ভবন নির্মাণ করতে গেলে মশা নিয়ন্ত্রণ কমিটির পক্ষ থেকে তাদের একটি নির্দেশিকা ধরিয়ে দেয়া হয়। সেখানে নির্মাণাধীন ভবন কিভাবে মশামুক্ত রাখা যাবে তার নির্দেশনা থাকে। কিভাবে মশক মুক্ত রাখা যাবে এসব ভবন হঠাৎ পরিদর্শনে যান র্যাপিড অ্যাকশন টিমের সদস্যরা। প্রথম দফায় লার্ভা পেলে জরিমানা করা হয় না। পরে পাওয়া গেলে এক লাখ রুপি জরিমানা করা হয়।

কলকাতার ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সাফল্যের সিংহভাগ কৃতিত্ব রাজনৈতিক নেতৃত্বকেই দিতে চান প্রধান ভেক্টর কন্ট্রোল কর্মকর্তা দেবাশীষ বিশ্বাস। এই কীটতত্ত্ববিদ বলেন মশা নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি আসলে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়।

ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র আতিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, 'কলকাতার ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে আমরা জেনেছি। আমরা সেখান থেকে বেশ কিছু বিষয় শিখেছি।'


কলকাতায় বা পুরো পশ্চিম বঙ্গে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা খুবই কম, সবচাইতে সাম্প্রতিক যে সংবাদ পড়েছি তা ২৬ জুলাই ২০২৩ এর। view this link এখানে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে ১৩ থেকে ২২ জুলাই—এই ১০ দিনে ডেঙ্গুর সংক্রমণে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

অথচ বাংলাদেশ একদিনে, শুধু উনিশে জুলাইতে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে! গতকাল (১৫ অগাস্ট ২০২৩) পর্যন্ত এ বছরে ৪২৬ জন মারা গেছেন!

ডেঙ্গুতে মৃত্যুর ক্রমবর্ধমান সংখ্যা দেখেই কিনা জানিনা, DNCC কবরস্থান সম্পর্কিত তথ্য দেয়া এই অ্যাপটি বানাতে আগ্রহী হয়েছে।view this link
গত ১০ অগাস্ট ২০২৩ তারিখে আ্যাপটির উদ্বোধন হয়। গুগল প্লে স্টোর থেকে গ্রেভইয়ার্ড ম্যানেজমেন্ট ডিএনসিসি (Graveyard Management DNCC) নামের অ্যাপটি ডাউনলোড করতে হবে। এর থেকে কবরস্থান সম্পর্কিত সব তথ্য জানা এবং আবেদন করা যাবে।

কিন্তু এটা না বানিয়ে বরং এমন একটি আ্যাপ যদি বানানো হতো, যেটা ব্যবহার করে একজন ডেঙ্গু রোগী জানতে পারতো কোন হাসপাতালে আসন খালি আছে, কোন এলাকার নিকটবর্তী কোন হাসপাতালের খরচ কত, তাহলে সেটা এই ডেঙ্গু মৌসুমে উপকারী হত!

অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, আমাদের নগরপিতারা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে এক গোলকধাঁধার মধ্যে পথ খুঁজে বেড়াচ্ছেন!

সকল তথ্যসূত্র দেয়া আছে।
প্রথম ছবিটি রাস্তা থেকে তোলা। বাকি ছবিগুলো অন্তর্জাল থেকে নেয়া।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই আগস্ট, ২০২৩ সন্ধ্যা ৬:২৯
২১টি মন্তব্য ২১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ডিটেকটিভ, সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার: মধ্য বৃত্ত

লিখেছেন রিয়াদ( শেষ রাতের আঁধার ), ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ বিকাল ৪:০৭


প্রফেসর সাজিদ এলাহী, বয়স সাতান্ন। ইংরেজি বিষয়ের প্রফেসর। লম্বা চওড়া শরীর, গায়ের রং হালকা তামাটে। প্রতিদিন সকালে উঠে এক ঘণ্টা করে হাঁটাহাঁটির কারণে এখনও শরীরে বয়সের ছাপ স্পষ্ট নয়। শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোষ্ট প্রকাশের পর, আপনি কি কিছুক্ষণ সামুতে থাকেন?

লিখেছেন সোনাগাজী, ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ বিকাল ৫:৫০



আমি পোষ্ট দেয়ার পর, বেশ কিছু সময় সামুতে থাকি; ঘর থেকে বের হওয়ার আগে, আমি প্রায়ই পোষ্ট দিই না সামুতে। অবশ্য আজকাল, আমি আমার নিজের নিয়মও খুব একটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ শবে বরাত ইবাদত এবং হালুয়া রুটি খাওয়ার উৎসবের ঘনঘটা

লিখেছেন এম ডি মুসা, ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ সন্ধ্যা ৬:২২

BVNEWS24 ||



আলোকসজ্জা করা যাবে কি?
শবে বরাত রাতে বাড়িঘর, মসজিদ ও ধর্মীয় স্থাপনায় আলোকসজ্জা করেছেন। এর মাধ্যমে একটি উৎসবের আমেজ তৈরি করা হয়। এই উৎসব করা কিসের ভুল? উৎসব মাধ্যমে... ...বাকিটুকু পড়ুন

পবিত্র লাইলাতুল বরাত রজনীতে মডারেট মুসলিম হওয়া উদাত্ত আহ্বান জানাই।

লিখেছেন মোহাম্মদ গোফরান, ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ সন্ধ্যা ৭:০৪


শবে বরাতের সাথে খানাদানার একটু সম্পর্ক আছে। তাই শুরুতেই হালাল খাবার।

ব্লগে ঢুকে দেখি শবই বরাত নিয়ে দুইটা পোস্ট আসছে।এই ব্লগ সকল ব্লগারের মত প্রকাশের একটি সুন্দর প্ল্যাটফর্ম। ব্লগটিমে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ জাতিসংঘেও পাঠাতে পারবো একটা স্মারক চিঠি

লিখেছেন জাহিদ অনিক, ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ রাত ১০:২৬



হৃদয়ে আবার কাঁপন - একটা ঠিকানার কি এক তৃষ্ণায়
মনে হয় আবার এসেছে ফিরে আরেক শীতকাল;
পশ্চিম আফ্রিকার সব তাপমাত্রা নিজের মধ্যে টেনে নিয়ে আমি কি এক প্রাণপণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×