somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে যে বড় ধরনের সংস্কারের হাওয়া দেখা যাচ্ছে, তাকে অনেকেই এখন বলছেন 'তারেক রহমান ম্যাজিক'। বর্তমান সরকারের ১০০ দিন ও ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিক্ষা মন্ত্রনালয় যেভাবে একের পর এক সাহসী পদক্ষেপের ঘোষণা দিচ্ছে, তা দেশের ঝিমিয়ে পড়া শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন এক প্রাণের সঞ্চার করেছে। শুধু গালভরা প্রতিশ্রুতি নয়, বরং মাঠপর্যায়ে এর বাস্তব রূপ দেওয়ার জন্য একটি বড় ধরনের মহাপরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছে প্রশাসন।

সবচেয়ে দৃশ্যমান পরিবর্তনটা শুরু হয়েছে একদম গোড়া থেকে-প্রাথমিক শিক্ষা খাত দিয়ে। বর্তমান সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের ঘোষণা অনুযায়ী, প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য এবার শুরু হচ্ছে এক অভিনব উদ্যোগ। প্রথম পর্যায়ে দুই লাখের বেশি শিক্ষার্থীর মাঝে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস ও জুতা (কেডস) বিতরণ করা হয়েছে, যা ধাপে ধাপে দেশের প্রতিটি উপজেলার সব প্রাথমিক শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। শুধু পোশাকেই শেষ নয়, শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে এবং স্কুল থেকে ঝরে পড়া রোধ করতে প্রতিটি উপজেলায় চালু হচ্ছে মিড-ডে মিল বা স্কুল ফিডিং প্রোগ্রাম। ১৯৯৩ সালের ঐতিহাসিক 'ফুড ফর এডুকেশন' (FFE) বা শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচির কথা যাদের মনে আছে, তারা মিল খুঁজে পাবেন বর্তমানের এই বর্ধিত পরিকল্পনায়। সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, দেশের কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয় যেন এই পোশাক আর দুপুরের খাবারের সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হয়।

তবে এই ম্যাজিকের আসল চমক লুকিয়ে আছে খোদ শিক্ষাপদ্ধতি বা কারিকুলামের আমূল পরিবর্তনে। মুখস্থ বিদ্যার পুরোনো ও জরাজীর্ণ খোলস ভেঙে এবার শিক্ষা ব্যবস্থাকে করা হচ্ছে সম্পূর্ণ প্র্যাকটিক্যাল ও স্কিল-ভিত্তিক। প্রস্তাবিত নতুন শিক্ষা কাঠামোয় তাত্ত্বিক পড়াশোনা কমিয়ে আনা হচ্ছে মাত্র ৪০ শতাংশে। বাকি ৬০ শতাংশের মধ্যে ৩০% থাকবে হাতে-কলমে প্র্যাকটিক্যাল শিক্ষা, ২০% ইন্টার্নশিপ ও প্রজেক্ট-ভিত্তিক লার্নিং এবং ১০% বরাদ্দ থাকবে এন্ট্রেপ্রেনিউরশিপ ও সফট স্কিলসের জন্য। অর্থাৎ, স্কুল-কলেজ থেকে পাস করে একজন শিক্ষার্থী যেন শুধু সার্টিফিকেটের বোঝা না বয়ে, সরাসরি কর্মক্ষেত্রের উপযোগী হয়ে বের হতে পারে—সেই ব্যবস্থাই করা হচ্ছে।

এই নতুন রূপান্তরের অংশ হিসেবেই আসছে বড় ধরনের বইয়ের পরিবর্তন ও নতুন নতুন বিষয়। চতুর্থ শ্রেণি থেকেই যুক্ত হচ্ছে 'স্পোর্টস অ্যান্ড কালচার' এবং 'লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস' বা আনন্দময় শিক্ষার মতো দারুণ সব বিষয়। আর ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে অত্যন্ত যুগোপযোগী দুটি বিষয় -'টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন' এবং মানসিক স্বাস্থ্য ও মূল্যবোধ বিকাশের জন্য 'লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস'।

গ্লোবাল মার্কেট ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের কথা মাথায় রেখে মাধ্যমিক স্তর থেকে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি আরবি, ফ্রেঞ্চ, জাপানি কিংবা চাইনিজের মতো একটি 'তৃতীয় ভাষা' শেখার সুযোগ বাধ্যতামূলক করার কাজ চলছে। এই বিপুল কর্মযজ্ঞকে সফল করতে 'ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব' ও ফ্রি ওয়াই-ফাইয়ের মতো ডিজিটাল সাপোর্ট নিয়ে শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫% বরাদ্দের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ঘোষণা ও পরিকল্পনা কতটা নিখুঁতভাবে বাস্তবায়ন হয়, সেটাই দেখার বিষয়; তবে শিক্ষা খাত নিয়ে সরকারের এই আধুনিক চিন্তাভাবনা যে দেশের কোটি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মনে নতুন এক আশার আলো জ্বেলেছে, তা বলাই বাহুল্য।


কালেকটেড
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:৩০
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×