মহান আল্লাহ্ পাক রব্বুল আলামীন কুরআন শরীফে ইরশাদ করেন,
অর্থ :- ‘‘আর যখন আপনার রব ফেরেশতাদেরকে বললেন , আমি যমীনে খলীফা প্রেরণ করবো ।’’ (সূরা বাক্বারা- ৩০)
অর্থাৎ মহান আল্লাহ্ পাক রব্বুল আলামীন যখন মানুষ প্রেরণ করার বা সৃষ্টি করার কথা জানালেন, ফেরেশতারা বললেন,
অর্থ :- ‘‘আপনি কি এমন সম্প্রদায় সৃষ্টি করবেন,যারা মারামারি,কাটাকাটি ও রক্ত প্রবাহিত করবে?অথচ আমরা সব সময় আপনার প্রশংসার সাথে তাসবীহ্-তাহলীল পাঠ করছি ও পবিত্রতা বর্ণনা করছি।’’ (সূরা বাক্বারা- ৩০)
অর্থাৎ যদি তাসবীহ্-তাহলীল ও যিকির-আযকারের জন্য হয়,তবে তো আমরাই রয়েছি,তাহলে বণী আদম সৃষ্টি করার কি কারণ রয়েছে?
ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের এ কথার জবাবে আল্লাহ্ পাক বলেন,
অর্থ :- ‘‘নিশ্চয়ই আমি যা জানি,তোমরা তা জাননা।’’ (সূরা বাক্বারা- ৩০)
অর্থাৎ মহান আল্লাহ্ পাক রব্বুল আলামীন বলেন,‘‘আমি যমীনে কেন খলীফা পাঠাবো, তার হাক্বীকী রহস্য তোমাদের জানা নেই।’’উক্ত গুপ্তভেদ বা হাক্বীকী রহস্য জানানোর লক্ষ্যেই মহান আল্লাহ্ পাক রব্বুল আলামীন কুরআন শরীফে ইরশাদ করেন,
অর্থ :- ‘‘আমি জ্বীন ও মানব জাতিকে একমাত্র আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি।’’(সূরা জারিয়াত-৫৬)
স্মরণীয় যে, ইবাদত হলো দুই প্রকার-১) ইবাদতে জাহেরাহ্ ও ২) ইবাদতে বাতেনাহ্।
ইবাদতে জাহেরাহ্ হচ্ছে-নামায,রোযা,হজ্ব,যাকাত ইত্যাদি। আর ইবাদতে বাতেনাহ্ হচ্ছে –ইরফানে খোদাওয়ান্দী বা মহান আল্লাহ্ পাক রব্বুল আলামীন উনার মুহব্বত-মা’রিফাত।
মহান আল্লাহ্ পাক রব্বুল আলামীন মানুষকে সৃষ্টি করেছেন ইবাদতে জাহেরার সাথে ইবাদতে বাতেনাহ্ করার জন্য।এক কথায় বললে-জাহির ও বাতিন উভয় দিক দিয়ে মহান আল্লাহ্ পাক রব্বুল আলামীন উনার হাক্বীকী আবদ বা গোলাম হওয়াই বান্দার একমাত্র দায়িত্ব ও কর্তব্য।তাই তাছাউফের পরিভাষায় আবদিয়াতের মাক্বাম হচ্ছে সর্বশ্রেষ্ঠ মাক্বাম।অর্থাৎ মহান আল্লাহ্ পাক রব্বুল আলামীন উনার মতে পরিপূর্ণ মত এবং হুযুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পথে পরিপূর্ণ পথ হওয়াই হাক্বীকী আবদ বা গোলাম।
আজকের মত এখানেই লেখার ইতি টানলাম। আশা করি পরবর্তি পর্ব নিয়ে অতিসওর আপনাদের মাঝে হাজির হব।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে আগস্ট, ২০১২ রাত ৩:৫১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


