অবশেষ অনেক প্রতীক্ষিত পরীক্ষা আজ দিয়ে এলাম। আমার সাড়ে চার বছর জীবনের প্রথম পরীক্ষা

। পরীক্ষার কয়েকদিন আগে থেকেই আম্মুর কী দুশ্চিন্তা!! আমি কি জানি কি করি! না, আম্মুকে কোনো বিব্রতকর অবস্থায় ফেলিনি। আজ সকাল দশটায় আম্মু আমাকে নিয়ে হাজির হন স্কুলে। অবশ্য আমার আগেই আরো কয়েকজন উপস্থিত ছিল। আমার চেয়ে আম্মু আরো বেশি ভীত ছিল

। আম্মু বলে তার নার্ভ নাকি খুব দুর্বল। আব্বুর সামান্য কড়া কথাতে আম্মু যখন কেঁদে ফেলে তখন সেটা আরও বেশি প্রমাণিত হয়।
প্রবেশ পত্র আমাদের হাতে ধরিয়ে দিয়ে হেডমিসট্রেস সব অভিভাবকদের একটি কক্ষে বন্দী করে ফেলে

। আমি চুপচাপ প্রথম বেঞ্চের একপাশে বসে পড়ি। আমার কয়েকজন সহপাঠীর কথা না বললেই নয়। একজন তার আব্বুর গলা জড়িয়ে ধরে সেকি কান্না!! কোনোভাবেই তাকে থামানো যাচ্ছে না। ম্যাডামরা তাকে চকোলেটের লোভ দেখালেন, বেলুন দেওয়ার কথা বললেন কিন্তু এতে কিছুই হলো না বরং তার কান্নার ভলিউম আরো বেড়ে গেল

। বিব্রতকর অবস্থা হালকা করার জন্য তার আব্বু অন্য অভিভাবকের দিকে তাকিয়ে বললেন- আমিও প্রথমদিন এরকম কান্না করেছিলাম। এতে আমার আম্মুসহ অন্যরা হো হো করে হেসে উঠলেন। আরেকজন পরীক্ষার্থীকে তার আম্মুকে বকাঝকা করছিলেন এই বলে যে- বাসায় এতো পাকামো করতে পারো আর এখানে এসে একেবারে বিড়াল হয়ে যাচ্ছো। এই দুজনকে অবশ্য কোনোভাবেই আমাদের সাথে বসানো যায়নি।
আমি অপেক্ষা করছি আর অন্যদের পরীক্ষা দেখছি। পরীক্ষা বলতে কিছু মৌখিক প্রশ্নোত্তর আরকি। এইসবেই আমাদের গলদঘর্ম অবস্থা। একটি মেয়েতো ভ্যা ভ্যা করে কেঁদে দিলো। ইতোমধ্যে আম্মু একবার বেরিয়ে এসে ইশারায় আমাকে সাহস দিয়ে গেলেন। অপেক্ষার পর আমার পালা এলো। ম্যাডাম আমাকে কোলে তুলে নিলেন। ম্যাডামের সাথে আমার প্রশ্নোত্তর পর্বের বর্ণনা দিচ্ছি।
১।তোমার নাম কি?
২।তোমার আব্বুর নাম কি?
৩।তুমি কোন হাত দিয়ে ভাত খাও?
৪। তোমার চুলের রং কি?
৫। তুমি কি
অ আ বলতে এবং লিখতে পারো?
৬। তুমি কি
A B C D বলতে এবং লিখতে পারো?
৭। তুমি কি সংখ্যা গণনা করতে পারো?
সবগুলো প্রশ্নের উত্তর দিতে পেরেছিলাম। অর্থাৎ হ্যাঁ বলেছিলাম আরকি

। অবশ্য অ আ এবং A B C D বলেও শোনালাম। তারপর ম্যাডাম আমাকে চুমু দিয়ে এবং একটি করে চকোলেট ও বেলুন দিয়ে বললেন- এবার তোমার আম্মুর কাছে যাও। আমি একদৌড়ে আম্মুর কাছে চলে গেলাম। আম্মু আমাকে দেখেই ছোটে এসে জড়িয়ে ধরলো। আর জিজ্ঞেস করতে লাগলো ম্যাডাম কি কি বলেছে? আবারও আম্মুকে সব বললাম। আমি যে কোনো ভয় পাইনি কিংবা কাঁদিনি এইজন্য আম্মু খুব খুশি হলেন।
আগামীকাল বিকাল চারটার সময় নাকি রেজাল্ট দিবে। তারপর ভর্তির পালা। বাসায় ফিরার সময় আম্মু আমাকে আমার প্রিয় লেইস চিপস্ কিনে দিলেন। ওই যে একটু টক টক লাগে খেতে। সাওয়ার ক্রীম এন্ড অনিয়ন ফ্লেভারের যেটা। এটা আমার খুব প্রিয়। আর চকোলেটতো আছেই।
আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন। যেন মনযোগ দিয়ে পড়াশোনা করে মানুষ হতে পারি। সবাই ভালো থাকবেন।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০১১ রাত ৮:০৩