জীবনের একটা পর্যায়ে খুব মন চাইতো উড়ে বেড়াতে। কয়েকটা বন্ধুর উদ্দেশ্যে লেখাটা লিখছি। কারও মনে হতেই পারে, সাজ্জাদ অকালপক্ক। কিন্তু সেটা পরে ভাবতে পারবেন।
এখন আমার বয়স ১৮ (যদিও প্রকৃত বয়স ২০) স্কুলে থাকাকালীন সময়ে যতটা মনে হয় ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে একটা সহপাঠী মেয়েকে ভাল লাগতো। কেমন জানি একটা দায়িত্ববোধ কাজ করতো। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে সেই দায়িত্ববোধ দায়িত্বহীনতায় রূপ নিয়ে নেয়। এরপর মানসিকভাবে আরো একটু পটু হতনে থাকি। কোনো একটা কল্পলোকের প্রেয়সীর ছবি আকিঁ মনের ক্যানভাসে। তারপর যখন কলেজের লায়েক হলাম।
এস এস সির অনাহুত ফলাফলকে চ্যালেন্জ করলাম মনে মনে। পড়লাম ও বেশ কিছুদিন, অতিরিক্তই বলা চলে। তখনই একদিন ক্যানভাসের প্রেয়সীকে প্রত্যক্ষ করলাম। আমি অভিভূত, মুগ্ধ। আমার প্রথম ক্র্যাশ সেই প্রেয়সীর সাথে বন্ধুত্বটা কাকতালীয় ভাবেই হয়। বন্ধুত্বের ব্যাপারে সেই প্রেয়সী উদাহরণ দেওয়ার মতো। কিন্তু ওই যে বললাম, প্রথম ক্র্যাশ। দায়িত্বহীন সাজ্জাদ আবার দায়িত্ববোধ অনুভব করতে থাকে। প্রথম ক্র্যাশ প্রথম ভালবাসার রূপ নেয়।কিন্তু আমার সেই প্রেয়সী....??? নাহ, সে ওই বন্ধুত্বের মধ্যেই ছিল। কিন্তু এটা বুঝতেই দেরী হয়ে যায় আমার। অনেক দেরী।
সে দেরীটা আমার জন্যে কাল হয়ে দাড়িয়েছে। আমার চ্যালেন্জটাও ভূলে গেছি অনেকদিন হল। কিন্তু আমি জানি অনেক দেরী হলেও এতোটা দেরী হয়নি যেখান থেকে ফিরে আসতে পারবোনা। আমি পারবো, পারা উচিতও। কারণ, মাত্রইতো বয়স ১৮, ক্র্যাশটা নাহয় আপাতত আরমারির লকারে রেখে দিব, হুম আমি পারবো। ইদানিং অভ্যস্তও হয়ে যাচ্ছি। কিন্তু এটা সহজ না। সবাই এতো দ্রুত সামলে উঠতেও পারেনা।
তাই আমার খুব কাছের কয়েকটা বন্ধুর জন্য বলছিঃ
তুমি যে প্রেয়সীকে কল্পলোকের রাণী ভাবছো, সে তোমার স্বপ্নকে রঙিন করতে আগ্রহী নাকি নিজের স্বপ্নের পথে তোমাকে সাময়িক সহযাত্রী হিসেবে কাজে লাগাচ্ছে , সেটা অনেক দেরী হওয়ার আগেই নিশ্চিত করে নাও। পরে হয়তো সেই প্রেয়সীর বন্ধুত্বের সংগা শুনে দায়িত্ববোধের প্রতি ঘৃণা জণ্মে যাবে। যেটা সামলাতে পারবেনা। কারণ, সবাই পারেনা, পারা উচিতও না।
অনেক দেরী থেকে দূরে থাকো, ভাল থাকো।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




