somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শিক্ষার্থীদের আত্মত্যাগ: একটি নতুন প্রতিচ্ছবি

২৯ শে জুলাই, ২০২৪ দুপুর ২:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছবি বিবিসি।

এ দেশের শিক্ষার্থীরা কতদিন আর রক্ত দেবে? বৈষম্যহীন ও অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তারা পাকিস্তান আমল থেকেই ত্যাগ স্বীকার করে আসছে। ১৯৫২ সালে ভাষার জন্য রক্ত দিয়েছে, কিন্তু এখনও সব ক্ষেত্রে বাংলার প্রতিষ্ঠা হয়নি। ১৯৬২ সালে শিক্ষার অধিকার রক্ষার দাবিতে রক্ত দিয়েছে, কিন্তু শিক্ষা এখন বাণিজ্যিক পণ্যে পরিণত হয়েছে। ১৯৬৯ সালে শিক্ষার অধিকার ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য রক্ত দিয়েছে, কিন্তু সেই অধিকার আজও নিশ্চিত হয়নি। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে তারা যে সাম্য ও ন্যায়ের রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখেছিল, তা স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পরেও বাস্তবায়িত হয়নি।

স্বাধীনতার পরও তাদের রক্তদানের অবসান ঘটেনি। ১৯৭৩ সালে তাদের গুলিবিদ্ধ হতে হয়েছে পুলিশ বাহিনীর হাতে। ১৯৮৩ সালে শিক্ষার অধিকার রক্ষার দাবিতে প্রাণ দিয়েছে মিলিটারি ট্যাংকের নিচে। ১৯৯০ সালে সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে অভূতপূর্ব অভ্যুত্থান ঘটিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে, কিন্তু আজও সেই গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত হয়নি।

১৯৯০ সালের পর থেকে ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ রাখা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের মধ্যে হানাহানি ও ভয় সৃষ্টি করে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখা হয়েছে। এর ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বিভীষিকার জায়গায় পরিণত হয়েছে।

তবুও শিক্ষার্থীরা থেমে থাকেনি। ২০১৫ সালের ভ্যাটবিরোধী আন্দোলন, ২০১৮ সালের নিরাপদ সড়ক আন্দোলন ও কোটা সংস্কার আন্দোলনে তাদের ত্যাগ ও রক্তদান অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু তাদের দাবিগুলো এখনও পূরণ হয়নি। আজ ২০২৪ সালে শিক্ষার্থীরা পুনরায় কোটা ব্যবস্থার যৌক্তিক সংস্কারের দাবি করেছে, যার পরিণতিতে শতাধিক ছাত্র ও সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছে এবং হাজার হাজার আহত হয়েছে।

১৯৫২ থেকে ২০২৪—এই দীর্ঘ সময়জুড়ে শিক্ষার্থীদের আত্মত্যাগ ও অর্জন কতটুকু স্থায়ী হয়েছে? যদি না হয়, তার কারণ আমাদের জাতীয় রাজনীতির সুবিধাবাদিতা। ছাত্রদের আন্দোলনের মাধ্যমে রাজনৈতিক অর্জন হলেও ক্ষমতায় গিয়ে তারা শিক্ষার্থীদের স্বার্থ উপেক্ষা করে। এই সুবিধাবাদিতার ফলে ছাত্রসমাজকে আগামীর বাংলাদেশের করণীয় ভাবতে হবে।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে জুলাই, ২০২৪ দুপুর ২:৫৩
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শেখ মুজিব হল → ওসমান হাদি হল: নতুন বাংলাদেশের শুরু ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:২৩


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিবুর রহমান হল ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব নিয়ে দেশের শিক্ষাঙ্গনে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। একদিকে ডাকসু নেতারা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট নাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাত কোটি বাঙালির হে মুগ্ধ জননী রেখেছো বাঙালি করে মানুষ করনি‼️রবিন্দ্র নাথ সঠিক ছিলেন বঙ্গবন্ধু ভুল ছিলেন। বাঙালি আজও অমানুষ!

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:১৩


১০ই জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলাদেশের জনগন সহ সমগ্র বিশ্বের প্রতি যে নির্দেশনা। তা এই ভাষণে প্রতিটি ছত্রে ছত্রে রচিত করেছিলেন। ৭ই মার্চের চাইতেও গুরুত্বপূর্ণ ছিলো ভাষণের নির্দেশনাগুলো! কি অবলীলায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

জন্মের শুভেচ্ছা হে রিদ্ধী প্রিয়া

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:০১



জন্মের শুভেচ্ছা নিও হাজার ফুলের
শৌরভে হে রিদ্ধী প্রিয়া, তোমার সময়
কাটুক আনন্দে চির।স্মৃতির সঞ্চয়
তোমার নিখাঁদ থাক সারাটা জীবন।
শোভাতে বিমুগ্ধ আমি তোমার চুলের
যখন ওগুলো দোলে চিত্তাকর্ষ হয়
তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

মা জননী

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৩৯


তুমি আপসহীন বলে ঘুমিয়ে গেলে
শহীদ জিয়ার পাশে অশ্রুসিক্ত শুধু
বাংলার মাটিতে ধানের শীষে শীষে
তোমার নামের ধ্বনিতে গান গায়ব
আমরা শুনোবো যে দোয়েলের ঠোঁটে
তুমি চিরামলিন তোমার কর্ম আদর্শে
আমরা জাগবো লাল সবুজ পতাকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

=হাঁটি, আমি হাঁটি রোজ সকালে-মনের আনন্দে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৭

রোজ সকালে খুব হাঁটার অভ্যাস আমার, সকালটা আমার জন্য আল্লাহর দেয়া অনন্য নিয়ামত। হাঁটা এমন অভ্যাস হয়েছে যে, না হাঁটলে মনে হয় -কী যেন করি নাই, কী যেন হলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×