somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইভ টিজিং 'শিকড়ের খোঁজে ----

১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১১ রাত ১১:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইভ টিজিং নিয়ে দেশ তোলপাড়। পাড়া মহল্লা অলি গলির কোনা কিঞ্চির এমন কোন স্থান নেই যেখানে এর আলোচনা-সমালোচনা হয়না। যারা এর স্বীকার হয়েছেন তারা নিজের মনকে টেনে-হিছড়ে বিয়ে নামক বদ্ধ ঘড়ে বন্ধি করেছেন কিংবা চির মুক্তির আশায় আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। অন্য বেচারাও হঠ্যাৎ লোহার চার দেওয়ালের মধ্যে আটকে গিয়ে মুক্ত বাতাসের স্বাদ নিতে তৃষ্ণাতর মত প্রহর গুনছে। তাদের বাবা মা বেচে থেকেও অসময়ে যেন মৃত্যু যন্ত্রনার তাড়া অনুভব করেন। মেয়ে থাকলে তা হারানোর শোক আর ছেলে হলে পৃথিবীর সব লাঞ্চনা শত প্রতিরোধ শত্তেও যেন ঘাড়ের উপর চেপে বসে। তখন মনে হয় ছেলে মেয়ে জন্ম দিয়েই ভুল করেছিলাম।
ভুল যে কে করেছে সেটা বলা মুশকিল। তবে ভুল একটা হয়েছে এটা নিশ্চিত। ছোট বা বড় হোক প্রথম থেকে ওই ভুলের উপযুক্ত প্রতিরোধ না করায় দেশ আজ তোলপাড়।
শুধু তোলপাড় বললে কম বলা হবে। একেবারে মহা তোলপাড়। দেশের কিঞ্চিত পরিমান জায়গায়ও ইভ টিজিং এর দূরগন্ধের সৃষ্ঠি হলে মিডিয়ার কর্মীরা ছুটে যান গন্তব্যে। অনেকে আবার ভালো মূল্যায়ন পেতে কিছু বুঝে ওঠার আগেই তেল থেকে তিল বানিয়ে ফেলেন। হতভাগা পুলিশ তখন চাকরী বাচাতে পাগলা ঘোড়ার মত ছুটে বেড়ান গন্ধ সৃষ্ঠি কারীকে ধরতে। যে কোন মূল্যে তখন ইভটিজারকে ধরে লোহার পকেটের মধ্যে বন্ধি করাই যেন তার জীবনের ব্রত হয়ে ওঠে। ততক্ষনে সাত পাহারের নিচে চাপা পড়ে যায় দূর গন্ধ সৃষ্ঠির রহস্য।
একটু পিছনের দিকে যাই। কত আর, ১০ বছর। হ্যা স্মৃতির পাতা থেকে এই ১০ বছর আগে দিন গুলো দেখলে ইভ টিজিং তো দূরের কথা টিজ এর অর্থও অনেকে জানতো না। স্পষ্ঠ মনে আছে, তখন অষ্ঠম শ্রেনীতে পড়ি। এক সহপাঠী কি যেন ভেবে একদিন বলল, দোস্ত কয়েকদিন ধরে কিছু মেয়কে প্রেমের প্রস্তাব দেওয়ার জন্য নিজের সাথে অনেক তোর-জোর করেছিলাম। কিন্তু যখনেই তাদের সামনে গিয়ে প্রেমের কথা বলতে উদ্যত হয়েছি ঠিক তখন অদৃশ্য এক শক্তি এসে শরীরে উত্তেজনা বড়িয়ে সব পন্ড করে দেয়। কি করি বলতো? এই প্রশ্নের উত্তর সেদিন ওকে দিতে পারিনি। তবে হৃদপিন্ড স্পন্দন বাড়িয়ে সাহসের সীমাবন্ধতা ওকে যে স্বরন করে দিতে চেয়েছিল সেটা ঠিকই অনুমান করেছিলাম।
তবে আগের মত হৃদপিন্ড এখন আর কাউকে স্পন্দন বাড়িয়ে সাহসের সীমাবদ্ধতা স্বরন করিয়ে নিজে আর লজ্জীত হতে চায়না। কারন এখন নাকি দ্বিতীয়/তৃতীয় শ্রেনীর ছেলে মেয়েরাও প্রেম লীলায় মক্ত হয! যেন কলি ফোটার আগেই ফুল।

আগে অনেকের মুখের দিকে হ্যা করে ঢাকার নানা কথা গিলেছি। হজম করতে করতে মনে হয়েছে সত্যিই ওটা আজগুবি শহর। এইচ এস সি পরীক্ষা শেষে সেখানে যাওয়ার প্রথম সুযোগ হয়েছিল। তবে বিকেলে ঘুরতে বেড়িয়ে পরি গোলক ধাধায়। শুরুতেই ফুটপাত দিয়ে হাটতে গিয়ে রমনীদের ধাক্কায় লাইচ্যুত হলাম। পিছনে তাকিয়ে ভাবলাম, নিশ্চই ব্যাস্ত শহরের ব্যস্ত মানুষ, হয়তোবা দুঃখিত শব্দটা উচ্চারন করতেও ভুলে গেছে। পিঠ চাপড়ে সঙ্গের বন্ধু বিদ্রুপ করে করল, দোস্ত এটা ঢাকার শহর, ধাক্কা দেওয়া ও খাওয়ার মত মনস্তাত্তিক শক্তি অর্জন করে এখানে চলাফেরা করতে হয়।
ওর কথায় মনস্তাত্তিক শক্তি যা অর্জন করেছিলাম রমনীদের পোশাক পরিচ্ছেদ দেখে মুহুতেই সব গুলিয়ে গেল। মনে হচ্ছিল টিভিতে দেখা কোন ভিন দেশের দৃশ্য। সবচেয়ে অবাক হয়েছিলম তাদের রুপের মাধর্য দেখে। বন্ধুকে বললাম, দোস্ত আমাদের দেশে যে এত সুন্দর মেয়ে আছে তাতো জানতামনা। বন্ধু সতর্ক করে বলল, তুই যাকে সুন্দরী বলছিস সে আসলে মা, সাথে তার মেয়ে। মেকাপের সাথে পোশাক মানিয়ে যাওয়ায় মেয়ের চেয়েও মাকে বেশি সুন্দর দেখাচ্ছে। কথা শেষ হবার আগেই লজ্জায় নিজের হতভাগা চোখ আর মুখ লুকানো ছাড়া ওই মূহুতে আর কিছুই ভেবে পাইনি।
মুখ লুকিয়ে সেদিন না হয় লজ্জা ঢাকতে পেরেছিলাম। কিন্তু এই তো কয়েকদিন আগে নিজের শহরের রাস্তা ধরে হাটছিলাম। হঠ্যাৎ লক্ষ্য করি জিরাফের মত গলা উচিয়ে আশেপাশের অনেক তরুন অপলক দৃষ্ঠিতে পিছনের দিকে তাকিয়ে আছে। কৌতুহল বশত ফিরে দেখি, খানিকটা দূরে এক রমনি পাতলা পোশাক পড়ে হেলে ঢুলে হেটে আসছে। মনে হচ্ছিল, পোশাকের পাতলা সুতাগুলোর পাশাপাশি ওরনাটাও লজ্জায় ছটফট করছে। পাশের লোকগুলোকে আর কি বলবো। কবি সাহিত্যিকরা তো আর মিথ্যে বক বক করেনা। কারন তারাও তো ওই বয়সটা পাড় করে এসেছে। হারে হারে টের পেয়ে বারবার সতর্ক করেছে নতুন প্রজন্মকে। শুধূ গুটি কয়েক গাছ অপসংস্কৃতিকে উপযুক্ত সার মনে করে সেটাকে মাত্রাঅতিরিক্ত প্রয়োগ করায় অস্বভাবিক ভাবে ফুলে ফাঁপা হয়ে উঠেছে। এদের দেখাদেখি তাদের বা আশেপাশের ডালের কলিগুলো কলি হয়ে ফোটার আগেই ফুল হয়ে ফোটার আশা করে। পরিনতিতে কলি ও ফুলের মাঝ পথে গিয়েই মৃত্যু ঘটে। আর তাদের পচা দূরগন্ধেই দেশে মহা তোলপাড় সৃষ্ঠি করে। ###

লেখক ---- মিঠুন পাল
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১১ রাত ১১:৪৪
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×