somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অলিম্পিকের ইতিহাসের সেই কলঙ্ক জনক অধ্যায়গূলো

০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০১২ রাত ১২:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কিছু দিন আগে শেষ হয়ে গেল ২০১২ সামার অলিম্পিক । এতে বিশ্বের ২০৪ টি দেশ থেকে ১০০০০ এর অধিক এথল্যাট অংশ গ্রহণ করে। দেশ, জাতি, ধর্ম - বর্ণ ভুলে সমগ্র বিশ্বের এক মিলন মেলায় পরিণত হয় এই অলিম্পিক। মুলত অলিম্পিক শুরু করার পেছনে মুল উদ্দেশ্যই ছিল এটি। এমন একটি আসর আয়োজন করা যা বিশ্ব শান্তি , সাম্য আর ঐকের মডেল হয়ে থাকবে। এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায় অলিম্পিক এই কাজে বহুলাংশেই সফল। তবে সময়ে সময়ে কিছু ঘটনা এই মহান আসরকেও করেছে কলঙ্কময় । আজ আমরা জানবো এমনি কিছু ঘটনা ।

বেইজিং অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান



২০০৮ সালের বেইজিং অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল নয় বছর বয়সী লিন মিয়াওকের কণ্ঠের গান । লিনের শ্রুতি মধুর কণ্ঠ আর কিউট চেহারা লাখ লাখ দর্শকের মন কেড়ে নেয় । তবে বাস্তবতা ভিন্ন । আসলে গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছিল ছবির ডানের মেয়েটি ।তার নাম ইয়াং পেয়ি । ইয়াং পেয়ির চেহারা চিনা আয়োজকদের যথেষ্ট কিউট মনে না হওয়ায় ষ্টেজে পাঠানো হয় লীনকে। ছল-চাতুরির আশ্রয় নেওয়ায় সেবার চীনকে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়তে হয় ।

এঞ্জেল মেটসের ব্রুস লি কিক--



অলিম্পিক আসরের মান উচুতে রাখতে সব সময় সেরা মানের রেফারি নিয়োগ করা হয়। রেফারিরাও চেষ্টা করেন যথাযথ ভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করতে ।আমাদের পরবর্তী ঘটনা রেফারি নিয়েই । কিউবার তায়কোয়ান্দো এক্সপার্ট এঞ্জেল মেটস ব্রোঞ্জ পদক ম্যাচে রেফারি দ্বারা ডিসকোয়ালিফাইড ঘোষিত হওয়ার পর রাগের মাথায়ে রেফারিকে " ব্রুস লি '' কিক করে বসেন। অবশ্য এই ঘটনার জন্য চরম মুল্য দিতে হয়েছিল এঞ্জেলোকে। অলিম্পিক কমিটি আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করে কিউবান এই এ্যাথলেটকে।

মেক্সিকো অলিম্পিকে ব্ল্যাক পাওয়ার প্রটেস্ট--



ষাট দশকের শেষ দিকে আমেরিকাতে সিভিল রাইট মুভম্যান্ট আন্দোলনে উত্তাল ছিল । আফ্রিকান আমেরিকানরা তাদের অধিকার আদায়ের ব্যাপারে সোচ্চার হয়ে উঠেন। আফ্রিকান আমেরিকান্দের দাবি দাওয়া আর অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্ল্যাটফর্ম হিসবে তারা ব্যাবহার করে অলিম্পিক আসরকে । ১৯৬৮ সালের মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত অলিম্পিকের ২০০ মিটার স্প্রিন্টের পদক বিতরণের সময় টম স্মিথ আর জন কার্লোস ষ্টেজে উঠেন কালো গ্লাভস আর খালি পায়ে। কালো মুষ্টিবদ্ধ ছিল ব্ল্যাক কমিউনিটির ঐকের প্রতীক , আর খালি পা তাদের কমিউনিটির দারিদ্রতার কথা মাথায় রেখে । যেহুতু অলিম্পিক সকল প্রকার রাজনৈতিক মুভমেন্টের মুক্ত , তাই অলিম্পিক কমিটি এই ঘটনাটিকে মারাত্বক অফেন্ড হিসেবে নেয় ।

অলিম্পিক বয়কট ৮০, ৮৪--




সকল প্রকার রাজনৈতিক প্রতিকুলতাকে উপেক্ষা করে অলিম্পিক আয়োজন ও সফল করা হবে - এমনটিই ভাবা হত। তবে সেই সুরও কাটা গিয়েছে বহু বার । সোভিয়েত ইউনিয়ন দ্বারা আফগানিস্তান হামলার প্রতিবাদে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার ১৯৮০ সালে মস্কো অলিম্পিক বয়কটের ডাক দেন ।ফলশ্রুতিতে ৬৫ টি দেশ ৮০ সালের মস্কো অলিম্পিক বর্জন করে।

আমেরিকার এহেন সজ্জন ব্যাবহার ফিরিয়ে দেওয়ার মোক্ষম সুযোগ আসে ১৯৮৪ সালের লস এঞ্জেলেস গেমসে । নিরাপত্তার ধুয়া তুলে এই গেমস থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেয় সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন , কিউবা, হাঙ্গেরি সহ বিশ্বের ১১ টি দেশ ।

মিউনিখ হত্যাকান্ড--



১৯৭২ সালের জার্মানির মিউনিখ অলিম্পিকে এক ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা ঘটে । ফিলিস্তিনি জঙ্গি সংঘটন ব্ল্যাক সেপ্টেম্বরের অস্র সজ্জিত এক দল নিরাপত্তা বেষ্টনী ভঙ্গ করে অলিম্পিক ভিলেজে ঢুকে পরে । অস্রের মুখে জিম্মি করে নেয় ইসরাইলী এথলেটদের। জিম্মিদের বিনিময়ে তারা ইসরাইলে আটক প্যালেস্তাইন্দের মুক্তি দাবি করে । ঈস্ররাইলি সরকার সন্ত্রাসীদের সাথে কোন প্রকার সমঝোতায় যেতে অপারগতা প্রকাশ করে। বাধ্য হয়ে জার্মান সরকার বন্দিদের মুক্তির জন্য অপারেশন চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়। বাজে প্ল্যানিং আর সমন্বয় হীনতার কারনে অপারেশন সফল হয়নি । জিম্মিকারিদের গুলিতে নিহত হন নয়জন ইসরাইলী । সমগ্র অলিম্পিক ইতিহাসে আজো পর্যন্ত এটি সবচাইতে জঘন্য ও কালো অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয় ।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০১২ রাত ১২:২০
২৬টি মন্তব্য ২১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চিলেকোঠার প্রেম- ১৩

লিখেছেন কবিতা পড়ার প্রহর, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২০ বিকাল ৪:২৫


দিন দিন শুভ্র যেন পরম নিশ্চিন্ত হয়ে পড়ছে। পরীক্ষা শেষ। পড়ালেখাও নেই, চাকুরীও নেই আর চাকুরীর জন্য তাড়াও নেই তার মাঝে। যদি বলি শুভ্র কি করবে এবার? সে বলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নগ্ন দেহের অপূর্ব সৌন্দর্যতা বুঝেন না! বলাৎকার বুঝেন?

লিখেছেন মুজিব রহমান, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ৮:৩৫


শৈল্পিক প্রকাশের সর্বোচ্চ রূপ হিসেবে বিবেচনা করা হয় নগ্নতাকে৷ ইউরোপে অন্ধকার যুগ কাটিয়ে রেনেসাঁ নিয়ে এসেছিল আধুনিক ও সভ্য ইউরোপ৷ রেনেসাঁ যুগের শিল্পীরা দেদারছেই এঁকেছেন শৈল্পিক নগ্ন ছবি৷... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নবীকে ব্যঙ্গ করার সঠিক শাস্তি সে ফরাসি শিক্ষক কি পেয়েছে?

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ৯:৫৩



গত কয়েকদিন আগে ফ্রান্সে কি হয়েছিল? একজন শিক্ষক ক্লাসে আমাদের নবীর ব্যঙ্গচিত্র দেখিয়েছিলেন, বলা হয়েছিল তার উদ্দেশ্যে ছিল বাকস্বাধীনতা ও ব্যক্তিস্বাধীনতার বিষয়ে বুঝানো। এটার পর এক মুসলিম যুবক তার ধর্মীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবি ও পাঠক

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ১১:৩১

কবিদের কাজ কবিরা করেন
কবিতা লেখেন তাই
ভেতরে হয়ত মানিক রতন
কিবা ধুলোবালিছাই

জহু্রি চেনেন জহর, তেমনি
সোনার পাঠক হলে
ধুলোবালিছাই ছড়ানো পথেও
মাটি ফুঁড়ে সোনা ফলে।

৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০

***

স্বরচিত কবিতাটির ছন্দ-বিশ্লেষণ

শুরুতেই সংক্ষেপে ছন্দের প্রকারভেদ জেনে নিই। ছন্দ... ...বাকিটুকু পড়ুন

হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর প্রিয় খাবার সমূহ

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ৩:৩৪



আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)।
প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) যেসব খাবার গ্রহণ করেছেন, তা ছিল সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যসম্মত ও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। নবীজি (সা.) মোরগ, লাউ, জলপাই, সামুদ্রিক মাছ,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×