somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ধর্ষিতা নারী ও নোংরা নদীর গল্প

১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ রাত ১২:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

(ধর্ষিতা নারী ও নোংরা নদীর গল্প)
পর্ব-১ঃ
এখানে রমণীগুলো নদীর মতো, নদীও নারীর মতো কথা...
একদা কইতো,এখন আবু জাফরের রমণীরা কথা বললেও নদী'রা নির্বাক হয়ে গেছে।
পর্ব-২ঃ
হে হে...এহেন বদের হাড্ডি আমরা,যাকে ধর্ষণ করলাম তাকেই আবার মুখ ভেংচিয়ে বলি
তুমি ধর্ষিতা হে নারী,আমায় ছুঁয়ো না
(নারী'র আগে ধর্ষিতা বলি,সে আগে কিন্তু অভোলা,নিস্পাপ আর রূপসীও ছিলো
এখন সে সুনীলের রক্ত-মাংসের যে কোন নারী।)আমার পাপ হবে।
অথচ সে আমার দ্বারাই ধর্ষিত হয়ে জগতের কলঙ্ক মাথায় নিয়েছে।
টাকার বিনিময়ে কিংবা বিপদে ফেলে যে নারীকে আমি ধর্ষণ করলাম
আর যাই হউক,তাকে ঘরের বধূ হিসেবেতো চাইই না,বরং তাকে ভালো মানুষ মানতেও আজ আমি নারাজ।
আমি চাই,নিষ্পাপ,অভোলা রূপসী কেও আমার হাত ধরুক।
পর্ব-৩ঃ
আমাদের সভ্যতার বিষে নদী'রা আজ নোংরা,কালো,ক্ষীণ,সরু,ক্ষরস্রোতঃসী
নদীর পাঁড়ে আজ কাশবন নেই,জলের গভীরে মাছের ঝাঁক নেই
দুই দ্বারে আজ তার শুধুই ইট-কংক্রিট,কোথাও সবুজ নেই।
নদীর পানি টলটল করে না,তাই শেষ বিকেলের রুপার থালাটাও আর হয় না।
কোন উদাস বাউল আজ আর সন্ধ্যার পর-পরেই জলের তালে গান গায় না।
পর্ব-৪ঃ
একটু তালে-তালে বলি অথবা কবিতার দ্বারস্থ হয়েই বলিঃ
বহুদিন হয়ে গেছে শীতের পাখি'রা (সকালে,সাঁঝে),নদীর পাঁড়ে রোদ পোহাতে আসে না
বহুদিন হয়ে গেছে কুমারী'রা এ ঘাঁট থেকে(ক্লান্ত দুপুরে),বাঁশির সুর ভাসতে দেখে না।
বহুদিন হয়ে গেছে
নদী'রা আর পলি মাটি দিয়ে(বর্ষার ভরা মৌসুমে),ধরা শুদ্ধ করতে চায় না।
ওদেরকে যে আমারাই বিষাক্ত পদার্থে ভরিয়ে দিচ্ছি।
বহুদিন হয়ে গেছে এ পথে কোন নাইয়র যায় না
বহুদিন হয়ে গেছে এখানে আর হাঁসের দলের প্যাক-প্যাক শুনা যায় না।
বহুদিন হয়ে গেছে নদী'র দ্রবীভূত অক্সিজেন শূন্যের কোঠা ছাড়ায় না
বহুদিন হয়ে গেছে নদী'র ক্ষুদে জলজ প্রাণীগুলো আর দেখা যায় না।
বহুদিন হয়ে গেছে নদী'রা সাগরে ছোটে না
বহুদিন হয়ে গেছে নদী'র জলে কারো তৃষ্ণা মিটে না।
বহুদিন ধরে এ পাঁড়ে এ পরিত্যাক্ত নৌযানের,নিথর পড়ে থাকা
বহুদিন ধরে জগতের সব বিষের,নদী গর্ভে লুকিয়ে বাঁচা।
বহুদিন ধরে ক্ষীণ,সরু,অপ্রসস্থ,নোংরা,কালো জলাধারের,বিপরীতে বয়ে চলা।
বহুদিন ধরে এ নদী'র দুর্গন্ধ শুঁকে,ধর্ষিতা নারীর মতোন শুধুই নোংরা বলে যাওয়া।
বহুদিন ধরে কেও নদীকে ভয় পায় না।
কিভাবে পাবে তার গর্জন যে আমরাই কেঁড়ে নিয়েছি।
বহুদিন হলো এখানে দিন-রাত্রি তার রুপে কারো মন কাঁড়ে না
বহুদিন হলো এখানে কেও কবিতার খাতা নিয়ে বসে না।

বহুদিন দিন ধরে নদী কেন এমন করছে?
বহুদিন ধরে আমরা কেন নদী'র সাথে এমন করছি?
আমরা জানি না,আমরা বুঝি না! :-P
পর্ব-৫ঃ
অথছ আমিই বলি
তুমি নোংরা,তোমার জলে দুর্গন্ধ।
এ জলে তরী ভাসিয়ে আমি নৌকা বিলাস করতে পারি না,আমার বমি আসে।
একটি বিকেলও আমি জীবন থেকে,এই দুষিত নদীর তীরে হারিয়ে যেতে দিতে পারি না
একটি সকালও,আমি নদীর জলে নাইতে পারি না,আমি পারি না।
এই অপবাদ আমরা কি করে দেই?বলতে পারেন কি?
শুধু ভাবুনতো একবার,নয়নাভিরাম না হউক,নোংরা হলেও নদীতো?
আমাদেরকে তার নোংরা রূপটাইতো দেখতে হবে!
আমরাই যে চাই,ওরা এমনি হউক।
আমরা যদি তাকে দেখার আগেই,তার বুকে ভাসার আগেই নাক সিটকাই
সে কি তখন কিছু বলতে পারে?পারে না।
সে আজ নির্বাক,আমাদের অত্যাচারে।কিছুই বলতে পারে না,শুধুই সইতে পারে।
আমরা তাকে দেখবো,তাকে দেখাবো।
দেখতে-দেখতে কিংবা দেখাতে-দেখাতে,কোন একদিনও হয়তো কারো টনক নড়বে।
(কল্পনা শুরু)
কোন এক সকাল থেকে,এই-এই নোংরা নদীকে দেখতেই এতো মানুষের ভিড় হয় প্রতিদিন!
ওর তেজস্বী রুপটা যদি ফিরিয়ে দেয়ার ব্যাবস্থা গ্রহন পূর্বক দীর্ঘমেয়াদী রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নেয়া হয়
তবেতো রীতিমতো শুধু এই জনহিতকর কাজের দ্বারাই আমি দেশ বরেণ্য হয়ে যাবো! :* আহ...
(কল্পনা শেষ)

শেষ কথাঃ (আমরা কেন জানি অনেক কিছু ভেবে আবার নিচের লাইনে ফিরে আসি!)
*** শুধু বর্ষা এলেই আমরা কিছুটা হতভম্ব হয়ে যাই,এই এই এইবার একে কি করে আবার মেরে ফেলা যায়!

#ধর্ষিতা_নারী_ও_নোংরা_নদীর_গল্প
সংযুক্তিঃ
[http://goo.gl/rrRTTR]
[http://goo.gl/8Ov3p9]
[http://goo.gl/21XTQK]
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ বিকাল ৩:০৬
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেশভাগ এবং ধর্ম- অধর্ম

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৪



শীতের শেষে সমস্ত গাছের পাতা ঝরে পড়ে।
তখন পাতা ছাড়া গাছ একদম রুগ্ন মনে হয়। শুকনো পাতা দিয়ে মাটির পথ ঢেকে যায়। সেই পথ দিয়ে কোনো পথিক হেটে গেলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিরো থেকে হিরো (মহাজগৎ সংক্রান্ত) - পর্ব-১

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০




কোন কিছুর অস্তিত্ববিহীন অসীম শূন্যে উদ্ভব ঘটেছে সকল বস্তু ও শক্তি উপাদানের। তাতে কোন স্থান না থাকায় উক্ত বস্তু ও শক্তি উপাদান সমূহ একে অপরের স্থান হয়েছে। সুতরাং... ...বাকিটুকু পড়ুন

শব্দের শক্তি, ভাষার মাধুর্য....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:৫২

এমিরেটস, কাতার এয়ার লাইন্স ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট রিক্রুটমেন্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে গ্রুপ ডিসকাশন। গ্রুপ ডিসকাশনের সারমর্ম হচ্ছে—৬-৮ জন কয়েকটি গ্রুপে একটি নির্দিষ্ট টপিক নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করবে। নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বলুন - "হ্যালো আল্লাহ্‌, আমি এখনো বেঁচে আছি!"

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৫:৫৫

আপনার কাছে মনে হচ্ছে, আল্লাহ্‌ আপনার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।
তিনি আপনার দোয়া কবুল করছেন না।
আপনার কাছের মানুষকে দূরে সরিয়ে দিয়েছেন।
আপনার কোন চাকরী নাই। রিজিক ছোট হয়ে এসেছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

উচ্চবংশীয় ছাগল!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:০৯



এককালে কেবল ঘড়িতেই বাজতো টিক টিক- টিক টিক;
বারবেলায় এসে দেখছি টিক টিক বলে কিছু নেই আর ঠিক ঠিক!
বরং 'টিকটক'- এ আকণ্ঠ বুদ হয়ে আছে আবালবৃদ্ধবনিতা!
মানুষের লম্ফঝম্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

×