সম্প্রতি একটা বিতর্ক আমদের দেশে বিশেষ করে প্রকট আকার ধারন করেছে। কিছুদিন আগেই অনুষ্ঠিত হল আর্জেন্টিনা এবং ইরান এর মধ্যেকার ফুটবল খেলা। এখানে কেউ স্বাভাবগত ভাবে নিজেদের প্রিয়দল আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করেছে আবার কেউ অতিবেশি ইসলামি চিন্তার বহিঃপ্রকাশ করতে সমর্থন করেছে ইরানকে। যদিও ইসলামি চেতনার চে’ প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য। কারন ঐ দিন যারা ইরানের সমর্থন করেছিল তারা প্রায় শতভাগ আর্জেন্টিনার ঘোর প্রতিপক্ষ ব্রাজিলের সমর্থক। খেলা আর্জেন্টিনার সাথে না হয়ে ব্রাজিলের সাথে হলে তাদের ধর্মবোধ যে কতটা জেগে উঠত তা বলতে চাচ্ছিনা। আর আর্জেন্টিনার সমর্থকদের মধ্যেও যারা অতি ধার্মিক প্রকৃতির তারাও হতাশার দোলাচলে দল খাচ্ছিল। কেননা একদিকে প্রিয় দল আর অন্যদিকে ধর্ম। যেকোনো বিতর্কে জিততে ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করাটা অবশ্য বর্তমান সময়ের অন্যতম একটি ব্যধিও বটে। এবার আসি আসল কথায়-কাকে সমর্থন করার জন্য ইসলাম বলে।
প্রথমত, ফুটবল খেলাটাই শরীয়তের দৃষ্টিতে হারাম। আর কোন হারামের সমর্থন করাও হারাম সে যেই করুকনা কেন। যামানার শ্রেষ্ঠ বুজুর্গও যদি হারাম করে তবুও তা হারামই আর তার সমর্থন করাও হারাম। আর তাই ইরানের সমর্থন নয় বরং সমর্থন না করাটাই ছিল কর্তব্য। প্রশ্ন উঠতে পারে যখন বিধর্মীদের সাথে প্রতিযোগিতা হবে তখন? হ্যাঁ, এর উত্তর এই যে কোন গুনাহের প্রতিযোগিতায় মুসলমানের পিছিয়ে থাকাটাই সবার কাম্য হওয়া উচিত। কারন প্রতিযোগিতা যদি বিষপানের হয় তবে কেউ চাইবে না যে আমার আত্মীয় এক পেয়ালা বিষ বেশি পান করুক।
দ্বিতীয়ত, ইরানিদের আকিদা সম্পর্কে বলতে গেলে ওরা ভ্রান্ত আকিদায় বিশ্বাসী। ওরা শিয়া যাদের একাংশের আকিদা এই যে, ওহী হযরত আলী (রা) এর নিকটেই অবতীর্ণ হয়ে ছিল। জিবরাঈল (আঃ) এর ভুলে ওহী মহানবী (সঃ) এর নিকটে আসে। ইতিহাস স্বাক্ষি দেয়, খোদ হযরত আলী (রা) কিছু শিয়াদের অতিভক্তির কারনে তাদের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন। তাছাড়া বর্তমান সময়ে তারা মুসলিম বিশ্বের যে ক্ষতি করেছে তা অবর্ণনীয়। ইরাকের মুজাহিদরা তাদের দ্বারা নিষ্পেষিত হয়েছে এমনকি তারা মুসলিম মুজাহিদের জঙ্গি আক্ষা দিয়ে তাদের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছে। এদের জন্যই মুসলিম বিশ্ব ইমাম আবু হানিফা (র) এর জ্ঞান আহরন থেকে বঞ্চিত হয়েছে। কথিত আছে, তারা ইমাম আবু হানিফা (র) এর এত সংখ্যক বই সমুদ্রে ফেলে দিয়েছিল যে সমুদ্রে বইএর দ্বিপ জেগে উঠে ছিল। এর পরও ইরানের সমর্থন করা কার কাম্য হতে পারেনা।
লেখা আর দীর্ঘায়ীত করতে চাচ্ছিনা। বরং পরিশেষে এটাই বলতে চাচ্ছি যে, আমাদের ধর্ম কোন খেলনা না যে যেকোনো বিতর্কে জিততে ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে ধর্মকে লোক হাসানোর মাধ্যম বানাব। কোন হারাম যেই করুক না কেন তা হারামই হবে। হযরত মাওলানা উমর পালনপুরি (র) বলেছিলেন, যদি সারা দুনিয়ার সবচে’ বড় আলেমকে ডেকে সুন্নত মোতাবেক কোন শুকুর যবাই করে যমযমের পানি দিয়ে ধুয়ে কাবাঘরে রান্না করেও পরিবেশন করা হয় তবুও তা হারামই হবে। তাই এই খেলা নিয়ে বিতর্কে ধর্মকে জরানো মোটেই উচিত নয় সে যত বড় ধর্মপ্রাণই হোকনা কেন। আর কারো মাঝে ধর্মবোধ জাগ্রত হলে তার কর্তব্য খেলা দেখা এবং সমর্থন করা থেকে বিরত থাকা। কারন এটাই ধর্মের দাবি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




