গাবলুঃ বন্ধুগণ,আজ ২২ শ্রাবণ। এই দিনেই বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আমাদের ছেড়ে চলে যান।
আমি তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে গান শুরু করছি।
"ও আমার সোনার বাংলা
আমি তোমায় ভালবাসি।
চিরদিন তোমার আকা"
রবিঃ এই হতভাগা থাম বলছি। ফের গাইবি তো তোর মাথা ফাটিয়ে দেব।
গাবলুঃ আপনি কে দাদু?
রবিঃ হায়রে বাঙালি ! আমাকেই চিনতে পারছেনা। আমি রবীন্দ্রনাথ।
গাবলুঃ কিন্তু, আপনি তো মালা গলায় দিয়ে ফটোতে থাকেন।
রবিঃ হ্যাঁ, তাই ছিলাম। কিন্তু তোদের কার্যকলাপ দেখে আর স্থির থাকতে পারলামনা।
একের পর এক সোনার ছেলে মুক্তচিন্তার 'অপরাধে' খুন হয়ে যাচ্ছে এদিকে তোরা আমার ছবিতে মালা দিয়ে আর মানববন্ধন না কী যেন একটা করে দায় এড়িয়ে যাচ্ছিস।
ভাবছিস, যাক আমিতো বেঁচে গেলাম।
গাবলুঃ তবে কী করব দাদু?
রবিঃ নতুন সমাজের জন্য তোদের বাঁচতে হবে। ভাবছিস কী করে তাইতো? দুটো পথ আছে।
গাবলুঃ কী পথ?
রবিঃ তোদের আত্মপরিচয় সম্পূর্ণ গোপন করে এই যুদ্ধ করতে হবে। 'আমি আন্দোলনের নেতা' এটা সবাইকে জাহির করার মনোভাব ছাড়তে হবে। মনে রাখবি, যে কোন আন্দোলনেরই একটা মস্তিষ্ক থাকে। কিন্তু তার পরিচয় ঢাক পিটিয়ে জানানো যায়না। আন্দোলনের সফলতার স্বার্থেই জানানো যায়না।
গাবলুঃ আর অন্যটা?
রবিঃ ওরে গবেট, Attack is the best defense কথাটা শুনিসনি। শত্রুর মনে যতক্ষণ ভয় থাকবে, মারতে এলে সে নিজেও মারা পড়তে পারে ততক্ষণ সে আঘাত করার আগে দুবার ভাববে। ভাববেই।
গাবলুঃ আপনি কবি, আপনি ঋষি। আপনি মারামারি করতে বলছেন?
রবিঃ আমার ঐ একটাই ইমেজ মিডিয়া নিজের স্বার্থে তৈরি করেছে। আর তোরাও আমার লেখা কিছুই না পড়ে ঐ নিয়ে মেতে আছিস। ১৮৯৩-৯৪ সালে 'সাধনা' পত্রিকাতে কী লিখেছিলাম একটু পড়ে নিস।
আমি আত্মরক্ষা করতে বলেছি। আর আত্মরক্ষা করতে গি্য়ে কত কিছুই তো ঘটে যেতে পারে যাতে আক্রান্তের উপর দোষ পড়েনা।
তোরা আজকালকার ছেলে বুঝিসই তো সব।
গাবলুঃ কিন্তু আমরা ছাপোষা সাধারণ মানুষ। আমরা কী ঐসব পারবো?
রবিঃ তোদেরই মাটিতে জন্মে ছাপোষা সূর্য সেন, প্রীতিলতারা যদি পারে, তোরাও পারবি। বিশ্বাস রাখ, তোরাই পারবি।
আমি এখন আসি।
গাবলুঃ আমাদের ছেড়ে কোথায় যাচ্ছেন আপনি?
রবিঃ ওরে আমি তোদের ছেড়ে কিভাবে যাবো?
আমি তো তোদের রক্তে মিশে আছি শুধু একটু ধুলো জমে গেছে।


অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

