somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি উত্তরাধুনিক কবিতা রচনা-প্রক্রিয়া [কবি ও কাব্য সমালোচকদের মতামত সাপেক্ষে]

১৪ ই এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কবি বলিয়াছেন, "ঢাকা শহরে ক্রৌঞ্চ অপেক্ষাও কবিদিগের সংখ্যা অধিক"।
এই যা, নিশ্চয়ই কোথাও ভুল সংঘটিত হইতেছে! এইরূপ অন্তর্ঘাতমূলক বাণী কবিদিগের কোমল অন্তঃকরণের পক্ষে শোভণীয় নহে, তাই এমত কথা তাহারা বলিবেন না, দ্ব্যর্থহীন। বরঞ্চ ইহার পক্ষে কোনো কাব্য সমালোচকের উক্তি হওয়ার যথেষ্ঠ সম্ভাবনা বিদ্যমান। তবে এই ব্যাপারে কবি আইরিনের মতামত নিম্নরূপ:
"আজকাল কাকের সংখ্যা হ্রাস পাইয়াছে, পূর্বেকার ন্যায় কা-কা শব্দ আর শ্রুত হয় না। রাস্তায় অনেক ময়লার স্তুপ বিদ্যমান রহিয়া থাকিলেও, সেই স্থানে কাকদিগকে ঘোরাফেরা করিতে দেখা যায় না। কাকের সংখ্যা হ্রাস কিন্তু পরিবেশের ভারসাম্যহীনতারই আরেকটি লক্ষ্মণ। কবিদিগের সংখ্যা বাড়িয়া যাওয়ার পেছনের বাস্তবতা হইলো, আসলে কাকের সংখ্যাই হ্রাস পাইয়াছে!"

পরিসংখ্যানবিদদের পরিসংখ্যানজ্ঞানে আমি মাঝে মাঝে বিস্মায়াবিষ্ট সন্দেহে স্তম্ভিত হইয়া থাকি, কবিদিগের পরিসংখ্যানজ্ঞানে কদাচ নহি। তবে ইদানিংকালে কবিতার মূল্যমান সম্পর্কে বিজ্ঞজনেরা যেইরূপ হতাশা পরিব্যক্ত করিয়া থাকেন, উহার পশ্চাতে মূল কারণ কবিতার মান নহে। বরঞ্চ কবিতা আজকাল সহজবোধ্য হইয়া গিয়াছে, আর মানবসম্প্রদায়কে সহজ-সরল বস্তু কম আকর্ষণ করিয়া থাকে। তাই কবিদিগের জন্য নিম্নে একটি চমৎকার কিন্তু জটিল উত্তরাধুনিক কবিতা লেখার প্রক্রিয়া বর্ণনা করার প্রয়াস পাওয়া হইল:

পদক্ষেপ ১। প্রথমে একটি গদ্য নির্বাচন করুন
[কবি লেনিনের সহজ-সরল "আমাদের কৃষি ও খাদ্য সংকট" প্রবন্ধটি উদাহরণ হিসেব উপস্থাপন করা হইল]

আমাদের কৃষকরা শিল্পী সুলতানের আঁকা চিত্রের মতো সবল, পেশীবহুল দেহের অধিকারী নয়। তারা কৃষকায় না খাওয়া ভূখা-নাঙা।...

পদক্ষেপ ২। বাক্যগুলো পরপর লাইনে সন্নিবিষ্ট করুন
আমাদের কৃষকরা শিল্পী সুলতানের আঁকা চিত্রের মতো সবল, পেশীবহুল দেহের অধিকারী নয়।
তারা কৃষকায় না খাওয়া ভূখা-নাঙা।
তাদের নেই আধুনিক জ্ঞান, নেই চাষ করার জমি।
কৃষিতে আমাদের বিপুল সম্ভাবনা অথচ আমরা আমাদের ছেলেদের আদম-দালালদের মাধ্যমে হয় করছি সর্বসান্ত নাহয় পরকালে পার।
যারা কিছুটা সৌভাগ্যের অধিকারী তারা কোনোরকম গাধার খাঁটুনিতে অত্যন্ত ক্লেশকর অথচ কম-বেতনে কাজ পাচ্ছে।
জাপান, ভিয়েতনাম থেকে আমরা কী কিছুই শিখতে পারিনা?
কী করে যুদ্ধ-বিধ্বস্ত জাতি থেকে তারা এশিয়ার শ্রেষ্ঠ অবস্থানে উঠে আসছে ধাপে ধাপে তা থেকে আমরা উদাহরণ নিতে পারি।
আমাদের বাইরে রফতানি যোগ্য খাবার নয় অন্তত দেশের প্রত্যেকের মুখের আহার দরকার।
কৃষি আর খাদ্যোৎপাদনে আপরা গার্মেন্টসের মতো বিশাল শিল্প গড়ে তুলতে পারি।
কৃষির বীজোৎপাদন, ফসল ফলানো, বাজারজাতকরণ একটি বৃহৎ সমন্বিত শিল্প হিসেবে গড়ে তোলা এখন অত্যন্ত জরুরি কাজ।
আর শিল্পায়ন করে যাতে প্রচলিত জাতগুলোর অবলুপ্তি না ঘটে সেদিকেও নজর দিতে হবে।

পদক্ষেপ ৩। এইবার একটা কর্তনযন্ত্র লইয়া প্রতি লাইন হইতে কিছু শব্দ কাটিয়া ফেলুন।
[খুব সাবধান, এমৎভাবে কর্তন করিতে হইবে যাহাতে কাক-পক্ষীও টের নাহি পায়। এইস্থলে আমার বেশি কিছু করিবার অবকাশ নাই।]

কৃষকরা শিল্পী, চিত্রের দেহ
কৃশকায় নাঙা আধুনিক জ্ঞান চাষ
বিপুল সম্ভাবনা পরকালে পার।
সৌভাগ্যের খাঁটুনিতে ক্লেশকর
যুদ্ধ উদাহরণ, দেশের মুখ—
বিশাল শিল্প সমন্বিত এখন
প্রচলিত জাতের অবলুপ্তি।


এটি একটি উত্তরাধুনিক কবিতা, যাহার মানে কেবলমাত্র আপনি ও স্রষ্টা অবগত। কিয়ৎদিবস পরে আপনিও উহা বিস্মৃত হইবেন! তখন কাব্য সমালোচকগণ প্রতিনিয়ত উহার মধ্যে নানাবিধ সৌন্দর্য ও রহস্য অনুসন্ধানে পরিব্যাপ্ত থাকিবেন আর মাঝে মাঝে আবিষ্কারের আনন্দে উদ্বেলিত হইবেন।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই এপ্রিল, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:২২
৩৬টি মন্তব্য ২৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জ্ঞানহীন পাণ্ডিত্য

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০


এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে স্বদেশ,
যে কিছু জানে না; সে-ই দেয় উপদেশ।
“এই করো, সেই করো;” দেখায় সে দিক-
অন্যের জানায় ভ্রান্তি, তারটাই ঠিক।
কণ্ঠে এমনই জোর, যে কিছুটা জানে-
সব ভুলে সে-ও তার কাছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গণতন্ত্র হলো সংখ্যাগরিষ্ঠের মত এবং শরিয়া আইন হলো সকল পক্ষের সম্মতি বিশিষ্ট ইসলামী হুকুমতের আইন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:১৯



সূরাঃ ৬ আনআম, ১১৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
১১৬। যদি তুমি দুনিয়ার অধিকাংশ লোকের কথামত চল তবে তারা তোমাকে আল্লাহর পথ হতে বিচ্যুত করবে। তারা তো শুধু অনুমানের অনুসরন করে:... ...বাকিটুকু পড়ুন

'বাবু': একটি শব্দের উদ্ভব ও এগিয়ে চলা

লিখেছেন আবু সিদ, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:০৮

'বাবু' আমাদের প্রতিদিনকার জীবনে বহুল ব্যবহৃত একটি শব্দ। কয়েক শ' বছর আগেও শব্দটি ছিল। বাংলা ভাষাভাষীরা সেটা ব্যবহারও করতেন; তবে তা ভিন্ন অর্থে। 'বাবু' শব্দের উৎপত্তি ও বিবর্তনের ধাপগুলো এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কেমন হবে?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৫৭



সামনের গণভোট ঘিরে অনেক অপপ্রচার চলছে বলে শোনা যাচ্ছে। অনেকেই জানতে চাঁচ্ছেন, গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কি রকম হবে? নির্বাচন কমিশনের ওয়েসবাইট থেকে জানতে পারা গিয়েছে যে, গণভোটের ব্যালটটি উপরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুহতারাম গোলাম আযমই প্রথম We Revolt বলেছিলেন !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:৫৮


আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের দলীয় ইশতেহার প্রকাশ করেছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘জনতার ইশতেহার’। দলটির দাবি, অ্যাপভিত্তিক প্রচারণার মাধ্যমে সংগৃহীত ৩৭ লাখের বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×