
জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সেই আইকনিক ফটো--যেখানে দেখা যাচ্ছিল একটা ভার্সিটির ফাস্ট কি সেকেন্ড ইয়ারের মেয়ে পুলিশের গাড়ি আটকাচ্ছে, ওর ভার্সিটির এক বড় ভাইকে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর। ওই দৃশ্য দেখে অন্য অনেকের মতো আমারও হৃদয় আদ্র হয়ে উঠেছিল। মনে হয়েছিল, "ইশ, এরকম একটা আদুরে, কিন্তু সাহসী ছোট বোন যদি আমারও থাকত...!"
আজ কি মনে করে ওর ফেসবুক প্রফাইল ভালো করে দেখলাম...'নুসরাত নূর' নামের ওর প্রফাইলে স্বাভাবিকভাবেই লীগের কঠোর সমালোচনা আছে, বিএনপিরও কঠোর সমালোচনা আছে। কিন্তু...কিন্তু জামাত-এনসিপির কোনো সমালোচনা নেই। বরং, এনসিপি-ইনকিলাব মঞ্চের প্রশস্তিও রয়েছে ব্যাপক...! জামাত-এনসিপির ডানপন্থী, দেশবিরোধী গতানুতিক বয়ানের সাথে ওর ফেসবুক প্রোফাইলের পোস্টগুলোর যেন কোনো পার্থক্যই নেই! জামাত-এনসিপির উগ্রপন্থীরা বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসের ব্যাপারে যেভাবে চরম নিন্দাযোগ্য কথাবার্তা বলেছিল নির্বাচনের আগে ও পরে, ঠিক সেরকমটাই ছিল নুসরাতের কথাও! নাসির পাটওয়ারির মতো বদ্ধ উন্মাদ, নর্দমার কীট তাদের প্রিয় নেতা বলে কথা!

হায়, এই যে জুলাইয়ের পর আমাদের জুলাইয়ের সাহসী মুখগুলো ক্রমাগত ডা**নপন্থার দিকে ধাবিত হয়েছে বা ডা*নপন্থী লোকজনের চরম অনুরাগী হয়েছে, এমনকি মধ্যপন্থী দল বিএনপিরও অ্যান্টি হয়ে গেছে-- এর দায় শুধু ওদের একার না! আমরা যারা ওদের সিনিয়ার প্রজন্ম আছি, আমরা যারা সমাজের সিনিয়ার সিটিজেন বা মধ্যপন্থী রাজনীতির অনুসারী আমরা যারা, তাদের সবারই এই দায় অনেক বেশি। কেননা, আমরা ওদের নিয়ে কাজ করতে পারিনি, ওদেরকে গাইডলাইন দিতে পারিনি, ওদেরকে আমাদের সহোদর-সহোদরার মতো করে আমাদের পাশে রাখতে পারিনি...!
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



