somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পয়সারহাটে পাখীর হাট

২৭ শে জানুয়ারি, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ব্যস্তময় জীবনে শৃঙ্খলে আবদ্ধ মানুষগুলো যখন কাজের ফাঁকে একটু আধটু ফুরসত পায় তখন তারা প্রকৃতির কাছাকাছি আসতে চেষ্টা করে। যেন প্রকৃতির এক একটা সৌন্দর্য দেখে জীবনের এক একটা ব্যথা -বেদনা, পাওয়া-না পাওয়ার বেদনা, মানসিক কষ্ট থেকে কিছুটা সময় হলেও নিজেকে আনন্দের মাঝে ডুবিয়ে রাখা যায় আর নতুন উদ্দ্যমে আগামী দিনটি শুরু হয়। পড়ন্ত বিকালে আকাশের নানা রঙের মেঘগুলো যখন তেজহীন সূর্যের চারদিকে চুপচাপ দাড়িয়ে থাকে আর সময়ের ব্যবধানে বিলীন হতে থাকে তখন সবকিছু যেন কোন এক নিপুন শিল্পীর আঁকা ছবি বলে মনে হয়। আর এমন একটি মুহূর্তে যখন রঙ-বেরঙের পাখীরা ঝাঁকে ঝাঁকে ডানা মেলে নিজ বাসা পানে ফিরে যেতে থাকে, তখন সত্যিই প্রকৃতির এই অপরূপ দৃশ্য যে কোন মানুষকে বিমোহিত করে যা নিজ চোখে না দেখলে কেবল বর্ণনায় বোঝানো কারও পক্ষে সম্ভব নয়। এমনই একটি অপরূপ সৌন্দর্যের লীলা ক্ষেত্র বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার পয়সারহাট গ্রামের বুক চিরে বয়ে যাওয়া ”বিসারকান্দি” নদীর দু’পাশের পাখীদের আবাসস্থল। এ যেন নানা প্রজাতির হাজার হাজার পাখীর অভয়াশ্রম। নদীটির উপর আছে একটা লম্বা ব্রীজ যার উপর দাঁড়িয়ে অনেক কাছ থেকে এসব পাখীদের বিচরণ খুব সহজেই উপভোগ করা যায়। জীবিকা নির্বাহের জন্য মানুষ যেমন সকালে যার যার কর্মস্থলে রওনা হয় তেমনি পাখীগুলোও ভোরের স্নিগ্ধ আবহাওয়ায় খাবারের সন্ধানে ঝাঁক বেধে উড়াল দেয় পাশের অথবা দূরের কোন হাওড়-বাওড়ে। সারাদিন খাবারের সন্ধান করে যখন পাখীগুলো আবার পয়সারহাটের ”বিসারকান্দি” নদী তীরবর্তী তাদের আশ্রমে ফিরে আসতে শুরু করে তখন পড়ন্ত বিকালের আকাশে হাজার হাজার পাখীরা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে পুরা এলাকাটিতে এক মনোরম পরিবেশ সৃষ্টি করে। ঝাঁক ঝাঁক পাখীর দল নদীর বুকে জমে থাকা শেওলাতে আর তীরের গাছ-গাছালিতে খানিকটা বিশ্রাম নেয় আবার কিছু পরে ঝাঁক বেঁধে আকাশে বিচরণ করে। আর এমন মুহূর্তে আকাশ পানে চেয়ে থাকলে সত্যিই যেন জীবনের সমস্ত ব্যথা-বেদনা, দুঃখ-কষ্ট, পাওয়া না পাওয়ার বেদনা ভুলে মানুষ ওই সব পাখীদের একজন হয়ে অসীম আকাশে স্বাধীনভাবে বিচরণ করে।
ব্রীজের দু’পাশে নদীর ধারে হোগলা গাছের মাঝে অসংখ্য শালিক পাখী তাদের অবিরাম কলকাকুলীতে মুখরিত করে তোলে সমস্ত পরিবেশ। যা দর্শনার্থীদের ক্ষণিকের জন্য হলেও স্মরণ করিয়ে দেয় ছোট বেলার সেই বাড়ীর পাশের বাঁশ বাগানের শালিকের কলকাকুলিতে মুখরিত সন্ধ্যা আর তারপর এক গভীর নিস্তব্ধতা। নদীর তীরবর্তী গাছগুলোতে যখন শতশত সাদা বকেরা ঝাঁকে ঝাঁকে বসে, তখন গাছগুলোকে যেন ট্রাফিক সার্জেন্ট এর সাদা ছাতা বলে মনে হয়। আর শেওলার উপর বসা বকগুলো যেন সাদা কার্পেট এর মত দেখায়।
প্রতিদিন বিকালে পয়সারহাটের এ ব্রীজের উপর সব শ্রেণী ও বয়সের বহু দর্শনার্থীরা আসেন পাথীদের অভয়াশ্রমে তাদের বিচরণ উপভোগ করতে। আর এ সব দর্শনার্থীদেরকে কেন্দ্র করে এখানে গড়ে উঠেছে বেশ কিছু অস্থায়ী খাবারের দোকান। এখানে পাওয়া যায় হালিম,ফুসকা,চালভাজা,মুড়িভাজা ইত্যাদি মুখরোচক খাবার। ফলে অত্র এলাকার কিছু লোকের কর্মসংস্থানেরও সৃষ্টি হয়েছে।
আসলে বর্তমান যান্ত্রিক যুগের এই ধরা-বাঁধা জীবনে মানুষ যখন হাঁপিয়ে ওঠে তখন ক্ষণিকের জন্য হলেও প্রকৃতির এ সব মন ভালো করা স্থানে বেড়াতে আসে নিজেকে নিজের মত করে উপভোগ করতে। যেখানে প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে গিয়ে মানুষ তার ভিতরের মানুষটিকে খুঁজে পেতে চেষ্টা করে।

মেহেদী হাছান
সিনিয়র অফিসার
সোনালী ব্যাংক লি:


সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে জানুয়ারি, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:০৩
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাইক্রোপ্লাস্টিক: অদৃশ্য প্লাস্টিক কীভাবে আমাদের খাবার ও শরীরে ঢুকছে?

লিখেছেন কাবিল, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:০৪


মাইক্রোপ্লাস্টিক (Microplastic) হলো খুব ছোট প্লাস্টিকের কণা। সাধারণভাবে ৫ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট প্লাস্টিক কণাকে মাইক্রোপ্লাস্টিক বলা হয়। এর থেকেও অনেক ক্ষুদ্র কণা আছে—সেগুলোকে ন্যানোপ্লাস্টিক বলা হয়। এগুলো এত ছোট হতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এনসিপিকে মারছে কেন? (অথবা) এনসিপি মার খাচ্ছে কেন?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৪০


(ইহা নাকি এনসিপিকে পিষিয়ে মারবে!)

এনসিপিকে মারছে কেন (?) অথবা এনসিপি মার খাচ্ছে কেন? প্রশ্ন দুটো হলেও আদতে প্রশ্ন একটাই উত্তরও একটাই। বিগত ১৫/১৬ বছর অর্থাৎ খুনি হাসিনার আমলে যাহারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংকীর্ণ মন

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩৮


রাস্তার মোড় যেনো সংকীর্ণ মন
ঘর উঠনে রাখবে আর কত কাল
চোখের নেশায় লালসার আগুন
জ্বলছে নিভবে না আর অমরণ

কখন মন জানালায় দেখেছ পায়রা
ভাবনার সফলী মাঠে যাচ্ছে উড়ে
দেখো নাই যে শান্তির পায়রা মন-
সংকীর্ণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই আন্দোলনের সম্ভাবনাময়, রৌদ্রোজ্জ্বল মুখগুলো ডানপন্থার অনুরাগী হচ্ছে! দায় কার?

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৩



জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সেই আইকনিক ফটো--যেখানে দেখা যাচ্ছিল একটা ভার্সিটির ফাস্ট কি সেকেন্ড ইয়ারের মেয়ে পুলিশের গাড়ি আটকাচ্ছে, ওর ভার্সিটির এক বড় ভাইকে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছাত্রদলকে সামলাতে না পারলে ক্যাম্পাসগুলো সহিংসতায় পূর্ণ হবে।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:০৮


রাতে রংপুর, সকালে জগন্নাথ। আজকে জগন্নাথে ছাত্রদলের হামলার শিকার একযোগে সব বিরোধী দল। এসব কি ছাত্রদলের কাজ? নাকি ছাত্রদলের ভেতর ছাত্রলীগ প্রবেশ করেছে? জকসু জিএসের জীবন আশংকাজনক। দেশে যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×