somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি মরীচিকার গল্প

২৮ শে জানুয়ারি, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


জীবন অনুভূতিময়, শাশ্বত ও অস্পৃশ্য অস্তিত্ব, যা ঘটনাবহুল গল্পের সমারোহে ভরা কিছু সময়ের সমষ্টি, কিছু স্থির স্মৃতি বিজড়িত একটি আত্নার ক্ষণিক অবস্থান এই মহা বিশ্বে।যাকে ধরা যায় না, ছোঁয়া যায় না; তবে জীবনের বিশেষ এক মুহূর্তে তার প্রকৃত অস্তিত্ব ধরা পড়ে।তখনই বোঝা যায় কত নির্মম সে। তাকে সর্বোচ্চ কঠোর নিরাপত্তায় রাখতে চায় সকলে, কিন্তু সব কিছুকে উপেক্ষা করে সে আপন গতিতে বিচরণ করে সর্বত্র, সকলের মাঝে। কারণ তার আসল ঠিকানা তো সেই মহাকাল, যা তাকে সর্বদায় আহ্বান করে যায় অসীমে মিশে আত্নগোপন করে থাকতে। তাই সুন্দর এই পৃথিবীকে সে অনায়াসে প্রত্যাখান করে সকল মায়া-মমতাকে বিসর্জন দিয়ে। জীবন যখন অনেকটা সুন্দর, নিরাপদে চলতে থাকে তখন সকলে তাকে চিরকালের জন্য আপন করে পাওয়ার প্রত্যাশা করে মনের অজান্তে। কিন্তু এক সময় সে কাউকে কিছু না বলে পাড়ি জমায় অনন্তের পথে সকলকে নির্বাক করে।মানুষ তাকে প্রকৃতই ভালবাসে কিন্তু সে কাউকে ভালবাসে না বিন্দু মাত্র। সে সব সময় দূরত্ব রেখে চলে।তাইতো সে ধরা ছোঁয়ার বাইরে, অনেক দূরে।সে তার সাথে কাউকে অংশীদার করতে চাই না।কারণ, তার মত নির্মম, পাষাণ হৃদয়ের কেউ বা কোন পদার্থ নেই এই চরাচরে। পাথর, সে তো কঠিন হৃদয়ের, তবুও তার বুক চিরে ঝর্ণা প্রবাহিত হয় আর সকলকে যেন তার অব্যক্ত কথাগুলোকে জানাতে চায় অবিরাম স্রোতধারার শব্দে।
কিন্তু মায়ের আকাশ-বাতাস কাঁপানো আর্তনাদে কোনরূপ সাড়া না দিয়ে জীবন পাড়ি জমায় অনন্ত-অসীমে সকলের আঁড়ালে।সন্তানের বিনাশে মায়ের আহাজারিতে, নিস্বার্থ আর্তনাদে কেবল কি মনে হয় জান? মনে হয় পৃথিবীর বিনিময়ে জীবনের আহ্বান জানায়। প্রেমিকের বিনাসে প্রেমিকার কেবল একটাই চাওয়া – তাকেও যেন সে সাথে নিয়ে যায়, একা ফেলে না যায় এই রংহীন অর্থহীন জীবনে। কিন্তু সে তো নির্দয়, তার কাছে ভারাক্রান্ত এই হৃদয়ের সব কিছুই মূল্যহীন।সে যেন পৃথিবী চায় না, পিতা-মাতার বুক ফাঁটা আর্তনাদ শুনতে চায় না, চায় না এক মুহূর্তের জন্য একটু অপেক্ষা করতে যখন অনন্তে মিশে যাওয়ার ডাক পড়ে। সকল কিছুকে উপেক্ষা করে সে রওনা দেয় মহা শূন্যে, গভীর নিস্তব্ধতার অনেক গভীরে। তার জীবনে ”ফেরা” শব্দটি যেন অর্থহীন একটি শব্দ, যা দ্বারা কেবল ব্যর্থ অনুরোধ জানানো হয়।তার অস্তিত্ব যেন মহাশূন্যে, অনন্তে, দিকহীন ও সীমাহীন কোন এক নিস্তব্ধ অরণ্যে, যেখানে যাওয়ার দরজা আছে কিন্তু সেখান থেকে ফেরার দরজা নেই।আর এখানে পড়ে আছে তার ছলনাময়ী ছায়া, যাকে আশ্রয় করে আমরা একে অপরকে চিনি, বুঝি।জীবন সে তো এক মরিচীকার গল্প, যেখানে সে তার ছলনার জালে জড়িয়ে সকলকে দৌড় প্রতিযোগিতায় পেছনে রেখে ছুটে চলেছে পৃথিবীর সেই প্রথম হতে আজও।কিন্তু আমি চাই না এই মরিচীকার ফাঁদে পড়ে তার পেছনে ক্লান্ত হয়ে ছুটে চলতে।বরং, সর্বদা তার থেকে দূরে দূরে থাকব। তার কথা কল্পনাতেও আনব না, তার আহ্বানও জানাব না।কেবল তাকে অভিশাপ দেব। কেন সে মায়ের বুক খালি করে।আমার প্রিয় অস্তিত্বকে নিজের ইচ্ছামত কোন রকম সাড়া না দিয়ে বিনাশ করে দেয়। সে কেন এতটা পাষাণ, এতটা নির্দয়।সে কেন আমাকে অসমাপ্ত কাজটি করার একটুখানি সময় দেয় না। তার কি কোনই দয়া-মায়া নেই?
কেন তুমি এতটা নির্দয়, পাষাণ, মমতাহীন? যখন মা তার সন্তানের মাথা বুকে রেখে ডুকরিয়ে ডুকরিয়ে কাঁদে তখন তো আকাশ কাঁদে, বাতাস কাঁদে, কাঁদে কঠিন হৃদয়ের পাথরও; যার কান্নায় সৃষ্টি হয় প্রবাহমান স্রোতস্বীনি, যার পানি অবশেষে একাকার হয় সাগরের সীমাহীন জলরাশিতে।আসলে তুমি এসব বুঝবে কি করে, কারণ তোমার তো মা নেই!

মেহেদী হাছান

সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে জানুয়ারি, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:৩৮
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাইক্রোপ্লাস্টিক: অদৃশ্য প্লাস্টিক কীভাবে আমাদের খাবার ও শরীরে ঢুকছে?

লিখেছেন কাবিল, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:০৪


মাইক্রোপ্লাস্টিক (Microplastic) হলো খুব ছোট প্লাস্টিকের কণা। সাধারণভাবে ৫ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট প্লাস্টিক কণাকে মাইক্রোপ্লাস্টিক বলা হয়। এর থেকেও অনেক ক্ষুদ্র কণা আছে—সেগুলোকে ন্যানোপ্লাস্টিক বলা হয়। এগুলো এত ছোট হতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এনসিপিকে মারছে কেন? (অথবা) এনসিপি মার খাচ্ছে কেন?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৪০


(ইহা নাকি এনসিপিকে পিষিয়ে মারবে!)

এনসিপিকে মারছে কেন (?) অথবা এনসিপি মার খাচ্ছে কেন? প্রশ্ন দুটো হলেও আদতে প্রশ্ন একটাই উত্তরও একটাই। বিগত ১৫/১৬ বছর অর্থাৎ খুনি হাসিনার আমলে যাহারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংকীর্ণ মন

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩৮


রাস্তার মোড় যেনো সংকীর্ণ মন
ঘর উঠনে রাখবে আর কত কাল
চোখের নেশায় লালসার আগুন
জ্বলছে নিভবে না আর অমরণ

কখন মন জানালায় দেখেছ পায়রা
ভাবনার সফলী মাঠে যাচ্ছে উড়ে
দেখো নাই যে শান্তির পায়রা মন-
সংকীর্ণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই আন্দোলনের সম্ভাবনাময়, রৌদ্রোজ্জ্বল মুখগুলো ডানপন্থার অনুরাগী হচ্ছে! দায় কার?

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৩



জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সেই আইকনিক ফটো--যেখানে দেখা যাচ্ছিল একটা ভার্সিটির ফাস্ট কি সেকেন্ড ইয়ারের মেয়ে পুলিশের গাড়ি আটকাচ্ছে, ওর ভার্সিটির এক বড় ভাইকে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছাত্রদলকে সামলাতে না পারলে ক্যাম্পাসগুলো সহিংসতায় পূর্ণ হবে।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:০৮


রাতে রংপুর, সকালে জগন্নাথ। আজকে জগন্নাথে ছাত্রদলের হামলার শিকার একযোগে সব বিরোধী দল। এসব কি ছাত্রদলের কাজ? নাকি ছাত্রদলের ভেতর ছাত্রলীগ প্রবেশ করেছে? জকসু জিএসের জীবন আশংকাজনক। দেশে যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×