দিনবদলের সরকারের প্রতিশ্রুতি ছিলো, ক্ষমতায় আসলে তারা প্রতি ঘরে ঘরে একজন করে শিক্ষিত বেকার যুবককে চাকরি দেবে। ক্ষমতায় আসার প্রায় দের বছরের মাথায় আসার পর আমাদের এলাকার কিছু বেকার শিক্ষিত যুবক সত্যি সত্যি চাকরি পেয়ে গেলাম। অবাক হবেন না, সত্যি সত্যি চাকুরি পেয়ে গিয়েছি, তবে চাকুরীর ধরনটা একটু ভিন্ন। সকল সরকারি অফিসে সাধারণত দিনের বেলা ৯টা - ৫টা চাকুরির ডিউটি করতে হয়। আমাদের চাকরির ডিউটি রাতের বেলা, রাত ১১টা হতে ভোর ৪টা। কি অবাক হচ্ছেন?
না অবাক হবার কিছুই নেই। খুলে বলছি। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর সারাদেশের মতো আমাদের এলাকায়ও ক্ষমতাসীনদের দাপট এবং কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এলাকার চিহ্নিত দাগী সন্ত্রসীরা এখন ক্ষমতাসীন দলের নেতা। তাদের কথায় মানুষকে ওঠবস করতে হয়। এই নেতারা দিনের বেলা ভদ্র মানুষ, রাতের বেলা হিংস্র ডাকাত। এই ডাকাত দলের লিডাররা মূলত বিরোধী ভোটার অধ্যূষিত এলাকার মানুষকে জব্দ করার জন্য মাঠে নেমেছে, সহযোগিতায় আছে দলীয় প্রশাসন। এই ডাকাত দল আমাদের ২/৩ গ্রামের কিছু বাড়িতে রাতের আধারে চিঠি ফেলে গিয়েছে। চিঠির বক্তব্য হলো তাদেরকে তাদের চাহিদা মতো স্থানে গিয়ে চাঁদা দিয়ে আসতে হবে। একই সাথে যেসব বাড়িতে চিঠি ফেলে যাওয়া হয়েছে সেসব বাড়িতে কেরোসিন তেল ঢেলে গিয়েছে এই ডাকাত চক্র। চিঠি প্রাপক ব্যাক্তির ব্যবসা বা চাকুরির ধরন অনুযায়ী চাঁদা হিসেবে দাবী করা হয়েছে ২ লাখ থেকে ৫০ লাখ টাকা। যোগাযোগের জন্য কোন প্রকার মোবাইল ফোন নম্বর দেওয়া হয়নি। লক্ষণীয় যে চিঠি ডাক মারফত না পাঠিয়ে রাতের আধারে এলাকার কিছু নির্দিষ্ট বাড়িতে ফেলে যাওয়া হয়েছে।
স্বাভাবিকভাবেই এলাকায় এই চিঠি এবং কেরোসিন তেল ঢালার ঘটনা ব্যাপক আতংকের সৃষ্টি করেছে। ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে এবং স্থানীয় পুলিশ ফাড়িঁতে ঘটনা জানানো হলেও তারা এ ব্যাপারে একেবারেই নিরুদ্ধেগ, নির্বিকার।
তাই আমারা পাশাপাশি ২/৩ গ্রামের মানুষ একত্রিত হয়ে ডাকাত দলের এই প্রচ্ছন্ন হুমকি এবং সম্ভাব্য আক্রমন ঠেকানোর ব্যাপারে আলোচনা করি এবং গ্রামের প্রতিরক্ষার জন্য পাহাড়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এলাকার যুব সম্প্রদায়ের ছেলেদেরকে নিয়ে (যাদের প্রায় প্রত্যেকেই বেকার) প্রত্যেক গ্রামে ছোট ছোট কয়েকটি প্রতিরক্ষা দল গঠন করা হয় এবং প্রতিরাত্রে পালাক্রমে রাত ১১টা হতে ভোর ৪টা পর্যন্ত পাহাড়া দেওয়ার স্দ্ধিান্ত নেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্ত মোতাবেক এখন আমরা প্রতি ঘর থেকে একজন করে যুবক পালাকরে রাতে পাহাড়া দেই তথা পাহাড়া দেবার চাকুরি পেয়েছি। এই চাকুরীতে নেই কোন বেতন, আছে জীবনের নিরাপত্তার ভয়। যাহোক, ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা আমাদেরকে সরকারিভাবে নাহোক, তার দলের ক্যাডার বাহিনীর আক্রমনের মাধ্যমে একটা চাকুরি করার সুযোগ করে দিয়েছেন, এতে আমরা তার প্রতি যারপরনাই কৃতজ্ঞ। নাইবা পেলাম বেতন, না হয় বাদই থাকলো আমাদের জীবনের নিরাপত্তা, তাতে কি, চাকুরি তো পেয়ে গেছি, এতোটুকুই বা দিতে পারে ক’জন?
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ২:৫১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


