ওদের মা মারা গেলো রাত্রিকে জন্ম দিতে গিয়ে। বউ পাগল স্বামী এরপর আসলেই পাগল হলেন। ক্রন্দনরত মিশমিশে কালো পোটলাটা দেখে আরও দিশেহারা হয়ে গেলেন। নাম রাখলেন রাত্রি - অন্ধকার ও বিষাদের বার্তা। অসুস্থ বোনের কাছে প্রায় জোড় করেই রাখলেন তিন ভাই বোনকে। মৃত্তিকার বয়স তখন বারো। অন্যরকম সেই অচেনা সময়টাতেই ঘটনাগুলো ঘটতে হলো, তাও এতো তাড়াতাড়ি ঘটে গেলো, ভাবারও সময় হয় নি। নিজেকে নিয়ে বাঁচে না, এর মধ্যে ছোট ভাইকে আর নতুন বোনকে নিয়ে ফুপুর কাছে যেতে হলো। ফুপু তাদের দেখবে কি, সে তো নিজেই ভালো নেই!
বাবাকে সেই একবারই কাঁদতে দেখেছিলো মৃত্তিকা। এতো কালের শক্ত, হাসিখুশি মানুষটা কিভাবে হঠাৎ করে এলোমেলো হয়ে গেলো। ওদেরকে ফুপুর বাসায় নিয়ে গিয়েছিলো বিকেল বেলা। বাসে, রিকশায় ওদেরকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে কাঁদছিলো।
গ্রামের জমিদার বাড়ি থেকে ঢাকার এক কোনের ছোট্ট বাসা। ছাদে খেলতে পাঠিয়ে দিয়ে বাবা অনেক্ষন কথা বলছিলো ফুপুর সাথে। পরে নিচে এসে দেখে বাবা নেই, বাবুটা ফুপুর কোলে। ফুপুর চোখ লাল।
মৃত্তিকা পুরোটা না বুঝলেও কিছুটা বুঝতে পারছিলো। সেদিন রাতে শুভ্রকে খাইয়ে দিয়ে নিজে খেয়েছে। এক বিছানায় কাছে টেনে শুয়েছে। নিজের চিন্তার পাশাপাশি শুভুকেও যে দেখে রাখতে হবে, এটা মনে হয় ভালো করেই বুঝতে পারছিলো।
ফুপু মারা গেছে দু'বছর পরে। মিলাদের দিন ভাই বোনকে নিয়ে গ্রামে চলে এসেছে মৃত্তিকা। দু'বছরের রাত্রিকে কোলে নিয়ে, আর নয় বছরের শুভ্র হাত ধরে চৌদ্দ বছরের বালিকা ফিরে এসেছে। দৃশ্য দেখতে পুরো গ্রাম উপস্থিত ছিলো।হু, হাত গুটিয়ে উপস্থিত ছিলো।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ রাত ১১:১৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


