somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

"ক্যাম্পাস উত্তপ্ত : ফলে ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ"

০৩ রা জুলাই, ২০১২ রাত ৯:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমাদের দেশের প্রায় সব বিশ্ববিদ্যায় ও কলেজে ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধরয়েছে। এর কারণ হিসাবে দার করানো হয়েছে ছাত্ররা মারামারি করে। কিন্তু ছাত্র সমাজের ইতিহাস তা স্বীকার করে না। তাহলে কেন এই অস্থিরতা ? তবে এটা স্বীকার করে ছাত্ররা আন্দোলনকারী। আর এ কারণেই শোষকগোষ্ঠীর কাল হয়ে দাড়িয়েছে ছাত্র সমাজ। আমাদের দেশের ইতিহাস খোঁজলে দেখা যাবে যখনই শোষক গোষ্ঠী কোন ষড়যন্ত্র করেছে তখন ছাত্ররাই প্রথম আন্দোলনের ঝাঁপিয়েপড়েছে। ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৬২’র শিক্ষা আন্দোলন, ৬৯’র গণঅভ্যুথান, ৯০’র স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ। গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধের ফলে মেধাহীন হয়ে পড়েছে দেশের নেতৃত্ব। এর মধ্যে স্থান করে নিচ্ছে ব্যবসায়ী, আমলা, চিত্রনায়ক-নায়িকা, গায়ক-গায়িকারা, এমনকি কুখ্যাত সন্ত্রাসীরাও বাদ পড়ছেনা। তাদের কাছ থেকে জাতি কি প্রত্যাশা করবে ? আমাদের দেশের নির্বাচনের পরপরই দেখা যায় সরকার দলীয় সংগঠন গুলো ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিরাজ করে। তারা হল দখল, ক্যাম্পাস দখলসহ বিশেষ কিছু বিষয়ে আধিপত্য পায়। এখানেই শেষ নয় এই আধিপত্যকে কেন্দ্র করে গ্রুপিং মারামারিও লেগে থাকে প্রায় সময়ই। এর ফলে প্রাণ হাচ্ছে মেধাবী ছাত্ররা। আজকে এই ছাত্ররা বইয়ের পরিবর্তে হাতে তুলে নিচ্ছে মরণ বিদ্ধংসী মাদক, আগনেয়াস্ত্র। জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে ছাত্ররা। আমরা দেখতে পাই অতীতে আমাদের দেশে যে যুগান্তকারী আন্দোলন গুলো হয়েছে এই আন্দোলনে ছাত্রদের সাথে কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষের একটি যুগসাযশ ছিল। উনসত্তরে গণঅভ্যুথানের নায়ক শহীদ আসাদ ছাত্র সংগঠনের পাশাপাশি কৃষক সংগঠনের সাথেও যুক্ত ছিলেন। বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন দেখা গেছে ছাত্রদের আন্দোলনের সাথে একাত্বতা ঘোষণা করে প্রাণ দিয়েছিল বুড়িগঙ্গার মাঝি। কিন্তু সেই দৃশ্য আজকে আর খুজে পাওয়া যায়না। তারা হারিয়ে গেছে প্রভাবশালী রাজনৈতিক সংগঠন গুলোর ভিড়ে। আজকে যেখানে দেশের সরকার গুলো অত্যন্ত স্বৈরাচারী ভাবে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যসহ তেল, গ্যাস, বিদ্যুতের দামবাড়িয়ে চলছে সেখানে কিছু সংখ্যক বাম সংগঠন ছাড়া অন্যদের দেখা মেলেনা। এমনকি তারা আজ নিজের স্বার্থের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে অথবা অনেকে চুপ রয়েছে। বিশ্ব ব্যাংক, আইএমএফ এর পরামর্শ্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুুঞ্জরি কমিশন ২০০৬-২০২৬ সাল পর্যন্ত বিশ বছর মেয়াদী কৌশলপত্র (পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়কে পাইভেটে পরিনত করা ) গ্রহণ করেছে। এর ধারাবাহিকতায় বিশ্ববিদ্যালয় গুলো প্রতি বছর বেতন ফি, উন্নয়ন ফি সহ নামে বেনামে বিভিন্ন ফি বৃদ্ধি করে চলছে। এরই প্রেক্ষিতে ছাত্ররা আন্দোলন গড়ে তুললে তাদের উপর ক্ষমতাশীল দলের সংগঠন গুলো (ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, ছাত্র শিবির) হামলে পরছে। সম্প্রতি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে তাকালে তা দেখতে পওয়া যায়। এখন প্রশ্ন উঠতে পারে এর নেপত্যে কারা রয়েছে ? আমরা দেখতে পাই সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে যেমন ছাত্র সংগঠন গুলোর আধিপত্য বেড়ে যায় তেমনি ভাবে ভিসি সহ প্রশাসনের সকল পর্যায়ে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই দেখা যায় বরাবরের মতই শিক্ষাঙ্গন গুলো উত্তপ্ত হয়ে উঠে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দর্শন, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, ছাত্র হত্যা হলেও প্রশাসন আজও এর কোন কার্যকরি পদক্ষেপ কিংবা দৃষ্টান্তমূলক বিচার করছে না। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তারা নিরব থাকছে । এই সুযোগে মাথাচড়া দিয়ে উঠছে এই ছাত্র সংগঠন গুলো। প্রসাশনের এই ভুমিকাই কি প্রমাণ করেনা শোষক গোষ্ঠী তাদের প্রয়োজনেই অত্যন্ত সুকৌশলে ছাত্র রাজনীতির নামে সন্ত্রাসকেই প্রশয় দিচ্ছে ? এর ফলে পঙ্গু হয়ে পড়ছে দেশের ভবিষৎ নেতৃত্ব। কিন্তু এর দায়ভার ফেলে দেওয়া হচ্ছে পুরো ছাত্র সমাজের উপর। মেধাবীরা সুস্থ পরিবেশ না পেয়ে নিজেদের নিষ্কৃয় করে রাখছে। ছাত্র সংগঠন গুলো কোন ইস্যুতে এক হতে পারছেনা। এ সুযোগে শাসক গোষ্ঠী তাদের স্বার্থ হাসিল করে নিচ্ছে। যদি ছাত্র সংসদ চালু থাকত তাহলে ছাত্ররা বাধ্য হয়েই এসকল অসৎ কাজ থেকে বিরত থাকত। গণতান্ত্রিক পরিবেশের প্রতি তাদের শ্রদ্ধা জন্মাত, সৃষ্টি হত সঠিক নেতৃত্ব। আর না হয় নির্বাচনে মাধ্যমে তারা সমাজের আস্থা কুড়ে নিক্ষিপ্ত হত। ছাত্র সংসদ কার্যকর না থাকার কারণে গণতান্ত্রিক উপায়ে ছাত্ররা তাদের দাবি প্রশাসনের কাছে তুলে ধরতে পারছেনা। ফলে প্রশাসনে একক সিদ্ধান্ত ছাত্রদের উপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মাঝে মাঝে এসব সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রসাশনের সাথে ছাত্রদের বিরোধ সৃষ্টি হয়। বিশ্ববিদ্যালয় গুলো ছাত্রদের এ অধিকার থেকে বঞ্চিত করলেও সংসদের নামে প্রতি বছর লাখ লাখ টাকা ফি ঠিকই নিচ্ছে। এখানে প্রশ্ন উঠছে তাহলে কেন টাকা নেওয়া হচ্ছে অথবা এই টাকা দিয়ে কি করা হয় ? ফলে দেখা দিচ্ছে সংকট ও সংঘাত। এমতাবস্থায় ছাত্র সমাজের অতীত গৌরবোজ্জল ইতিহাস ফিরে আনতে এবং সঠিক নেতৃত্ব তৈরি করতে ছাত্র সংসদ উল্লেখ্যযোগ্য ভুমিকা রাখতে পারে।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তাওরাত ও যুক্তি দিয়ে কথা বলুন - ইহুদীরা আত্মসমর্পন করবেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৩ রা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:০০

গানঃ 'My Name Is Palestine' - Garth Hewitt
লিংকঃ Click This Link



জ্ঞানী মানুষ যুক্তি পছন্দ করেন। জ্ঞানী মানুষ অজ্ঞানতার বেড়াজাল থেকে নিজেকে বের করে যুক্তির মাপকাঠিতে নিজের জীবনকে সাজায় বলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাময়িক পোস্ট: বিদায়ের আগে

লিখেছেন অর্ক, ০৩ রা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১৭



আমি নিজের লেখা ও অনুবাদ করা কিছু বই বের করতে চাই। এক্ষেত্রে কেউ কোনওভাবে সহযোগিতা করতে পারলে জানাবেন। গতকাল একজন নিয়মিত ব্লগারের মন্তব্যে ব্লগ বন্ধ হবার জোর সম্ভাবনার কথা জেনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে ১০ টি বছর পার করলাম

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:০২



ব্লগে ১০ বছর পার করে দিলাম। কত সময় কেটে গেছে এখানে, কত পরিচিত মুখ রয়ে গেছে এখানে। তবুও ভালোবাসার বন্ধন যেন শেষ না হয়।

যে কবিতাটা দিয়ে ব্লগিং শুরু করেছিলাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিন্নাহকে জানতে হলে পাকিস্তান আন্দোলনের ইতিহাস জানতে হবে। পর্ব-১

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৩



পাকিস্তান সৃষ্টির বছরখানেক আগে ১৯৪৬ সালে বোম্বে শহরের দুই নামকরা পার্সি ডাক্তার বুঝতে পেরেছিলেন যে ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদ এবং আইনজীবী মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর আয়ু আর বেশিদিন নেই। ডা.... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ ডিসেম্বর ১০-১৬: বিশ্ব তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ছিল

লিখেছেন কলাবাগান১, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:১১


লিখা টির ইতিহাস ভিত্তিক ইনফো এআই থেকে সংগৃহীত

আমরা সবাই জানি যে ১৯৭১ সনের ১৬ই ডিসেম্বর বিকেলে পাকিস্হান হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পন করে মিত্রবাহিনীর কাছে। কিন্তু আমরা অনেকেই হয়তো জানি না,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×