আওয়ামী লীগ না করায় বৃহস্পতিবার নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার প্রাণিসম্পদ অফিসে চাকরিতে যোগদান করার এক ঘণ্টার মধ্যে এক যুবককে পদত্যাগ করতে বাধ্য করেছেন এক আওয়ামী লীগ নেতা । ওই নেতা সন্ত্রাসীদের দিয়ে তাকে বেদম মারধরও করিয়েছেন। গুরুদাসপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্র জানায়, গত দুই মাস আগে উপজেলার দরিবামনগাড়া গ্রামের সোহরাব হোসেনের পুত্র আবদুল মতিন প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা অ্যান্ড রেসপন্স প্রজেক্টের অধীনে এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা সহকারী (এআইডাব্লু) পদে নিয়োগ পান। প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের দেয়া নিয়োগপত্র নিয়ে তিনি বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় গুরুদাসপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে কাজে যোগ দেন।
যোগদানের এক ঘণ্টা পর তিনি অফিসের বাইরে এলে গুরুদাসপুর পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল গফুর ও তার ছেলে রুহুল আমিনসহ কয়েকজন সন্ত্রাসী তাকে আটক করে। তারা সদ্য কাজে যোগদান করা ওই যুবককে মারধর করে পদত্যাগপত্র লিখিয়ে নেয় এবং প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কাছে দাখিল করতে বাধ্য করে। খবর পেয়ে পুলিশ ওই অফিসে এসে আবদুল মতিনকে উদ্ধার করে বাড়িতে পৌঁছে দেয়।
আবদুল মতিন বলেন, ‘হামলাকারী রুহুল আমিন এই পদে পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হতে না পেরে আমার ওপর প্রতিশোধ নিয়েছে। আমার অপরাধ, আমি আওয়ামী লীগ করি না। আমি প্রাণের ভয়ে পদত্যাগপত্র লিখে দিতে হলেও বিষয়টি গুরুদাসপুর থানা পুলিশ ও জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে অবহিত করেছি। আমি আবার কাজে যোগ দিতে চাই।’
এ ব্যাপারে রুহুল আমিনের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আমি আবদুল মতিনকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করিনি। সে নিজেই পদত্যাগ করেছে। আমার বাবা এ সময় ছিলেন না। গুরুদাসপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সাহাবুদ্দিন বলেন, আবদুল মতিন কাজে যোগ দেয়ার এক ঘণ্টা পর রুহুল আমিনকে সঙ্গে নিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে গেছেন। এর বেশি কিছু আমি বলতে পারব না।
গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ ঈব্রাহীম হোসেন বলেন, আমি ঘটনাটি শোনার পরপরই প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে পুলিশ পাঠিয়েছিলাম। পুলিশ আবদুল মতিনকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দিয়েছে। তবে সন্ত্রাসীরা তার আগেই সেখান থেকে সরে গেছে। এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। Click This Link

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


