somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মি. বিকেল
আমি মেহেদি হাসান, মি. বিকেল নামে পরিচিত। আমি একজন লেখক, অভিনেতা, সমাজকর্মী, রেডিও জকি, ওয়েব ও অ্যাপ ডেভেলপার, সম্পাদক, উপস্থাপক, রক্তদাতা, এবং নাট্য পরিচালক। মাইক্রোসফটে ডেভেলপার হিসেবে কর্মরত এবং গল্প বলা আমার প্রধান পরিচয়।

Tomorrow I Will Date With Yesterday's You

০৯ ই এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৫:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জাপানীজ কোন মুভিতে যখন আপনি আপনার নিজের মনের কথা খুঁজে পাবেন।সেক্ষেত্রে একটা রিভিউ লেখায় যায় সেই মুভিটি নিয়ে।প্রথমেই বলে রাখি, এটা একটি রোমান্স মুভি এবং সাইন্স ফিকশন।কিছুটা অ্যাডভেঞ্চারও খুঁজে পাওয়া অসম্ভব নয়।এখানে আরো খুঁজে পাবেন প্যারালাল ওয়ার্ল্ড এবং টাইম ট্রাভেলিং।




মুভির নামঃ Tomorrow I Will Date With Yesterday's You (2016)
ধরণঃ ড্রামা ও রোমান্স।
রেটিং - IMDB ৭.৬/১০ এবং MyDramaList ৮.২/১০
ব্যক্তিগত রেটিং ৮/১০

হোয়াট ইজ ফ্যান ইজ ফ্যান! এন্ড দিস ইজ দ্য ওয়ে আওয়ার ওয়ার্ল্ড ওয়ার্কস্।যেখানে আপনার শেষ, সেখানে আপনার প্রেমিকার দায়িত্ব শুরু হয়েছিলো।এবং এটাকে উল্টো করেও বলা যায়, যেখানে আপনার প্রেমিকার শেষ, সেখানে আপনার দায়িত্ব শুরু হয়েছিলো।কখনো আপনি অতীতে আছে, আপনার প্রেমিকা থেকে কয়েক দিন বা মাস বা বছর পিছনে আছেন।ঠিক, সেই সময়টা আপনার প্রেমিকার ভবিষ্যৎ কাল চলছে।এবং যথাক্রমে এর উল্টোটা আপনার এবং তার সাথেও ঘটবে।মনে হয় ব্যাপারটা গুবলেট পাকিয়ে ফেললাম, তাই না?

সহজভাবে বলা যায়, গ্রহ-নক্ষত্র যেমন একে অপরকে কেন্দ্র করে ঘুরছে ঠিক এই গল্পের নায়ক-নায়িকাও সেভাবেই যেন একে অপরকে কেন্দ্র করে ঘুরছে।দুইজন চলছে দুই ডিরেকশনে।প্রতি পাঁচ বছর পর পর তাদের দেখা হয়, মাত্র একমাসের জন্য।যখন ছেলেটার বয়েস পাঁচ বছর তখন মেয়েটার বয়েস পঁয়ত্রিশ বছর।অর্থ্যাৎ এর মধ্যে মাত্র একমাস সময় তাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ।মানে ঠিক বিশ বছর বয়সে দুইজনই পরিণত বা যৌবন প্রাপ্ত হয়ে দেখা করার সুযোগ পাচ্ছে।এরপর... হয়তো ছেলেটার বয়েস বেড়ে পঁচিশ হয়ে যায় এবং মেয়েটার বয়েস কমে হয়ে যায় পনেরো।উল্টোটাও ঘটবে, তবে যথাক্রমে।এখানে আরো মজার বিষয় হলো, যুগলবন্দী হওয়ার আগে মানে বিশ বছরের সেই প্রেমের সম্পর্কের আগে তাদের তেমন কোন স্মৃতি নেই।হয়তো একজন অন্যকে চিনছে কিন্তু অন্যজন তাকে চিনছে না, মানে ভালোভাবে চিনছে না।কিন্তু একটা পরিণত যোগাযোগ নিজেদের মধ্যে খুঁজে পাচ্ছে।এবং সেটাও অব্যক্ত থেকে যাচ্ছে।

সমস্যা হলো, কাকতালীয়ভাবে একই ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত।এখন এই টার্নে যার ভবিষ্যৎ চলছে তাকে প্রচন্ড তিক্ত অভিজ্ঞতার সাথে পরিচিত হতে হচ্ছে।কারণ সব জানা সত্ত্বেও নিজের প্রেমিকার সাথে স্ট্রেঞ্জার(অপরিচিত) রুপে আচরণ করতে হচ্ছে, দিনের পর দিন।চরিত্রগুলো বা বাহ্যিক দৃশ্যও পাল্টাচ্ছেনা।এবং এই সাইন্স ফিকশন নিয়ে আর্গুমেন্ট থাকতে পারে, তবে আমি বলবো যে, “সাইন্স ফিকশন ইজ সাইন্স ফিকশন”।যাইহোক, ব্যাপারটা এমন যে, একজন ভিখারী যে খেতে পায় না তাকে যদি ৩৬৫দিন বিরিয়ানী খাওয়ানো হয় তাহলে সে এক সময় বলবে, “ভাই! আমার পান্তা ভাত হলেও চলবে, তবুও অনুগ্রহ করে এই বিরিয়ানী আমাকে আর দিবেন না”।মানে অনন্তকালের এই সহাবস্থান, এবং একই জায়গায় ঘুরে বেড়ানো, একই জিনিস থেকে আনন্দ পাওয়া, একই কথা একই চরিত্রের সাথে বারবার বলে যাওয়া এবং এর মধ্যে আনন্দ খুঁজে পাওয়া একজন সাধারণ মানুষের পক্ষে অনেক কঠিন এবং যন্ত্রণাদায়ক।ইয়েস, লাইফ ইটসেল্ফ ইজ বোরিং।যেটা আমরা গল্পের শুরুতেই নায়কের অভিব্যক্তি থেকে জানতে পারি।কিন্তু যখন সে তার প্রেমিকার কথা ভাবলো, তার প্রেমিকার ডায়েরির কথা ভাবলো যেখানে যত্ন করে লিখা আছে, “তার প্রেমিক কি শুনতে বা করতে পছন্দ করে”।ঠিক তখন তাকাতুশি জীবনটাকে মেনে নেওয়া শিখলো... নতুন করে নিজের দায়-দায়িত্ব নিজের করে নিতে শিখলো...মানে দায়িত্বের তাৎপর্য ও গুরুত্ব বুঝে উঠলো যেটা সহজ ছিলো না... হয়তো এই ভুল বুঝাবুঝিও চলছে কয়েক শতাব্দী জুড়ে...

তাকাতুশিঃ তোমার ফোন নং কি পেতে পারি?
এমিঃ আমি কোন ফোন ব্যবহার করি না।

আসলে সব জেনেও বারবার নিজের প্রেমিককে আবার নতুন করে প্রেমে পড়ার সুযোগ করে দিচ্ছিলো নায়িকা, এমি।নতুন করে প্রেমে পড়ার আনন্দ পাওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছিলো।তাই তো মনে হয়, এমি ওপাশ ফিরে চোখের জল একবার মুছে নিলো।

তাকাতুশিঃ আবার কখন দেখা হবে আমাদের?
এমিঃ আগামীকাল।

এই মুভিটিতে একটি সত্যিকার সম্পর্ক কি এবং সেটাকে এগিয়ে নেবার দায়িত্ব যে দুজনেরই আছে তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।সো, হোয়াট ইজ ফ্যান ইজ ফ্যান!- মুভিটির সেরা ডায়ালগ হতে বাধ্য।
আর যারা রোমান্টিক মুভি প্রিয় ব্যক্তিবর্গ আছেন তারা এখুনি মুভিটা দেখে নিতে পারেন।
ভালো থাকুন।

(বিঃ দ্রঃ ডাউনলোড লিংক চেয়ে আমার মত অলসকে বিরুক্ত করবেন না, প্লিজ!)
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৫:৫০
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সুবোধকে আমরা কি খুব দ্রুত ‘ব্র্যান্ড’ বানিয়ে ফেলছি?

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:০১




ঢাকার দেয়ালে একসময় হঠাৎ করেই দেখা দিত একজন মানুষ। নাম তার সুবোধ। পাশে লেখা থাকত ‘হবেকি?’

কে এঁকেছে, কেন এঁকেছে, আবার কোথায় আঁকবে—কেউ জানত না। ওই না-জানাটাই ছিল শিল্পের একটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

অপরাধীর বিচার চাই.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:৫৪

অপরাধীর বিচার চাই.....

যাদের থাকার কথা জেলে তারাই যদি স্বাভাবিক মানুষের মতো সমান অধিকার নিয়ে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়ায়, আদালতে দোষী সাব্যস্ত অপরাধী যদি কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়- সেটা কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি শোক সংবাদ

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:০৯



পেটের দায়ে সপরিবার নীলফামারি থেকে কুমিল্লা শহরে এসে,
ব্যাটারি চালিত রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন মোঃ শরিফুল ইসলাম;
তিনি এখন মরহুম! স্ত্রী ও ২ কন্যা নিয়ে ছিলেন কোনোরকমে বেঁচেবর্তে।

গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিসাব বিষয়ক ভাবনা

লিখেছেন করুণাধারা, ০৯ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৩



সংখ্যাওয়ালা কোনো লেখা দেখলে হিসাব ঠিক আছে কিনা তা যাচাই করা আমার অভ্যাস। ইদানিং বিভিন্ন রকম সংখ্যাওয়ালা কিছু বিজ্ঞাপন সামনে আসছে, এগুলো ফ্ল্যাট বিক্রির বিজ্ঞাপন। এসব বিজ্ঞাপনে যেসব সংখ্যা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আরেকটা পদ্মা সেতু না বানিয়ে দেশ উন্নয়নের নিনজা টেকনিক!

লিখেছেন মাথা পাগলা, ১০ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১:৪৫




আগে জানতাম উন্নয়নের জন্য বিনিয়োগ লাগে, চাহিদা অনুযায়ী শিল্প গড়ে ওঠে, কর্মসংস্থান তৈরি হয় - তারপর দেশের উন্নতি হয়।

কিন্তু বাংলাদেশ স্বাধীনতা ২.০-এ এসে উন্নয়নের সংজ্ঞাই পাল্টে গেছে।

এখন উন্নয়নের নতুন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×