somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মি. বিকেল
আমি মেহেদি হাসান, মি. বিকেল নামে পরিচিত। আমি একজন লেখক, অভিনেতা, সমাজকর্মী, রেডিও জকি, ওয়েব ও অ্যাপ ডেভেলপার, সম্পাদক, উপস্থাপক, রক্তদাতা, এবং নাট্য পরিচালক। মাইক্রোসফটে ডেভেলপার হিসেবে কর্মরত এবং গল্প বলা আমার প্রধান পরিচয়।

ট্রমা কাটিয়ে উঠবেন কীভাবে?

১৯ শে অক্টোবর, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ট্রমা বা মানসিক আঘাত আমাদের জীবনে কোন না কোন মূহুর্তে এসে থাকে। আমাদের মধ্যে কেউ কেউ মানসিকভাবে শক্ত থাকেন তাই কাটিয়ে উঠতে পারেন, আর কেউ কেউ মানসিকভাবে শক্ত না থাকায় ট্রমা কাটিয়ে উঠতে পারেন না। চলুন, এই ট্রমা নিয়ে বিস্তারিত জেনে নিন এবং কীভাবে ট্রমা কাটিয়ে উঠবেন সে বিষয়েও একটু আলোকপাত করা যাক।

ট্রমা বা মানসিক আঘাত আসলে কী?
ট্রমা হচ্ছে আমাদের এক ধরণের ইমোশনাল রেসপন্স কোন বিশেষ ইভেন্ট বা ঘটনা কে কেন্দ্র করে। হতে পারে উক্ত ঘটনার সাথে বা উক্ত পরিবেশের সাথে আমাদের খারাপ মূহুর্ত কেটেছে বা মনে ভীতি জন্মেছে। অ্যামেরিকান সাইকোলজিক্যাল এসোসিয়েশন ট্রমা কে সংজ্ঞায়িত করেছে এভাবে, “… কোন বিশেষ ঘটনার উপর আমাদের ইমোশনাল রেসপন্স হচ্ছে ট্রমা”।

ট্রমা বিভিন্ন কারণে হতে পারে
যুদ্ধ, ধর্ষণ, প্রাকৃতিক দূর্যোগ, অ্যাক্সিডেন্ট ইত্যাদি কারণে একজন মানুষ ট্রমার শিকার হতে পারেন। তবে সাধারণ কারণেও কেউ কেউ ট্রমার শিকার হতে পারেন। যেমন ধরুন, গালিগালাজ, হ্যারাজমেন্ট, কর্মক্ষেত্রে ব্যর্থতা, কোন বিশেষ গ্রুপ থেকে বিচ্ছিন্নতা ইত্যাদি।


ট্রমার প্রকারভেদ

১. Acute Trauma
এই ধরণের ট্রমা সাধারণ কারণে হয় না। একটা উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে, প্রাকৃতিক দূর্যোগের ফলে বন্যায় বা নদী ভাঙনে আপনার ঘর ভেসে গেছে। নিজেকে তখন একা মনে হবে, নিরুপায় মনে হবে। পরবর্তীতে কোথায় থাকবেন বা যাবেন সে ব্যাপারে একটা ভয়ানক অনিশ্চয়তা। টাকার বিষয় তো আছেই।

২. Chronic Trauma
যখন কোন বাজে ঘটনা যা আপনার ইমোশনাল রেসপন্স নিতে পারছে না এবং যদি এই ধরণের ঘটনা নিয়মিত আপনার সাথে ঘটতে থাকে তবে এই ট্রমা হতে পারে। এখানেও আমি একটি উদাহরণ টানছি, ধরুণ একটি পরিবারে বাবা-মা সারাক্ষণ ঝগড়া করেন। তাহলে ঐ পরিবারে থাকা একটি বাচ্চা বেড়ে উঠে কীভাবে স্বাভাবিক আচরণ করবে?

আমরা তো এসব ডোমেস্টিক ভায়োলেন্সের জন্য আত্মহত্যাও করতে দেখি। কিন্তু কেন? মূলত এই Chronic Trauma-ই হলো তার প্রধান কারণ। ঠিক তেমন করে, একজন মেয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ সেক্সুয়্যাল হ্যারাজমেন্টের শিকার হচ্ছে তার পরিচিত এমন কারো কাছে থেকে যা বাইরে বলতেও পারছে না। তো, এখান থেকেও এই ধরণের ট্রমা হতে পারে।


৩. Complex Trauma
মানুষের জীবনে নিদেনপক্ষে দুটি দিক থাকে। একটা হলো তার বাইরের দুনিয়া আর আরেকটি হলো তার ভেতরের দুনিয়া। এখন এই বাইরের দুনিয়া বলতে বোঝায়, কর্মজীবন/শিক্ষাজীবন/বন্ধুত্ব ইত্যাদি। আর ভেতরের দুনিয়া হচ্ছে তার পরিবার। এখন আরো একটি দিক যদি যুক্ত করা যায়, মানে প্রেমের সম্পর্ক বা দাম্পত্য জীবন।

এখন ধরুন এই সমস্ত বিষয় ঝামেলার মধ্যে পড়ে আছে। না কর্মজীবনে ঠিকঠাক কাজ করতে পারছে, না পরিবার কোনভাবে তাকে সাপোর্ট করছে। অন্যদিকে বেলা বোসের বিয়ে হতে চললো বা বৌ সারাক্ষণ অশান্তিতে রেখেছে। একবার ভাবুন তো, এই মানুষের জীবনটা কেমন হবে? এবং সমস্ত বিষয়ে খারাপ পরিস্থিতি যদি দীর্ঘ হয় তাহলে? হ্যাঁ, ইনি কমপ্লেক্স ট্রমায় পড়ে যেতে পারেন। এই হলো ট্রমার প্রধান প্রকারভেদ সমূহ। এছাড়াও এক প্রকারের ট্রমা আছে,

৪. Secondary Trauma
হয়তো আপনি একজন কে খুব কেয়ার করেন বা ভালোবাসেন। কিন্তু উক্ত ব্যক্তি কোন বিশেষ ট্রমার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন। তাহলে আপনার মধ্যেও সেই ধরণের ট্রমার লক্ষণ দেখা দিতে পারে। কারণ উক্ত ব্যক্তির ট্রমাটিক এক্সপেরিয়েন্স আপনার উপর প্রতিফলিত হতে পারে। এই ধরণের ট্রমা বিশেষ করে বাবা-মা এবং স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বেশি দেখা যায়।


এখন আসা যাক, PTST(POST TRAUMATIC STRESS DISORDER) সম্পর্কেঃ
এমন লোক সাধারণত সেই ঘটনা বা সেই স্থানে যেতে চাইবেন না। আপনার এতে করে ফ্লাশব্যাক আসতে পারে মানে অতীত চোখের সামনে বারবার আসতে পারে, দুঃস্বপ্ন দেখতে পারেন, কোন বিষয়ে মনোযোগ নাও আসতে পারে, অন্যদের থেকে দূরে থাকতে পারেন, সবসময় বেশি সতর্ক থাকা চারপাশের পরিবেশ নিয়ে। মনে হতে পারে, এই বুঝি আমার সাথে কিছু একটা হয়ে যাবে!

আর আমরা খুব সহজেই এসব মানুষ কে অসামাজিক বা মানসিকভাবে দূর্বল বা ভীতু বলেই কাজ সেরে ফেলি। কিন্তু তার ভেতরে থাকা সমস্যা নিয়ে কখনো আমরা ভাবিনা।


কীভাবে ট্রমা বা মানসিক আঘাত থেকে বের হয়ে আসবেন?
দেখুন, ট্রমায় যাবার পর সবসময় সেখান থেকে বের নাও হতে পারেন। কেউ কেউ বের হয়ে আসেন খুব সহজে। কিছু ট্রমাটিক মূহুর্ত এমন হয় যে, চারপাশে চারটা উঁচু দেয়াল দেখতে পাওয়া যায়। উপরে যাবার কোন রাস্তা থাকে না। এই ধরণের ট্রমাটিক মূহুর্ত থেকে সহজে বের হওয়া যায় না।

উল্লেখ্য, যেসব সাধারণ ট্রমা আছে সেসব নিয়ে আমি আলোকপাত তেমন একটা করতে চাই না। ধরুণ, কেউ সাঁতার জানে না। তাহলে তাকে অল্প একটু জলে নামান। প্রতিদিন এই আর এই করুন। আর একদিন তাকে তার সাথে সাঁতার কাটুন। এসব সহজ। কিন্তু যেসব ট্রমা থেকে বের হতে অনেক সময় ও ইতিবাচক মানসিকতা দরকার সেসব বিষয়ে কিছু কথা বলতে চাই।

১. মানসিক ও সামাজিক সাপোর্ট দরকার
ধরুণ, ধর্ষণের শিকার একটা মেয়ে যাকে না তার পরিবার সাপোর্ট করছে বা তার সমাজ। তার মনে হতে পারে, সে আস্তে আস্তে ঐ পরিবার ও ঐ সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। সুতরাং উক্ত ব্যক্তির জন্য পারিবারিক ও সামাজিক সাপোর্ট দরকার। সবার বাউন্স-ব্যাক ক্যাপাবিলিটি এক নয়।

২. প্রতিকার নয় প্রতিরোধ করুন
ডাক্তার যারা আছেন তারা প্রায় প্রায় এই কথা বলে থাকেন। সুতরাং মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে খেয়াল রাখা জরুরী। তাই কাউকে আঘাত করার আগে, গালিগালাজ করার আগে, তার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার আগে, ছোট বা হেয় করার আগে, ইনফেরিওর বা বিচ্ছিন্ন করে দেবার আগে একবার চিন্তা করা উচিত আমাদের। এই ছোট ছোট বিষয় যখন দীর্ঘস্থায়ী হয়ে যাবে তখন তার জন্য বাড়তি হয়ে যাবে আর ট্রমার শিকার হতে পারে।

৩. ইতিবাচক মানসিকতা রাখুন
দেখুন, আপনার কোন কাজ যেভাবে আপনি পরিকল্পনা করেছেন সেভাবে সেটা ঘটেনি। তারমানে এই নয় যে, আপনার গল্প এখানেই শেষ। আরো একবার চেষ্টা করে দেখতে পারেন, হতে পারে আপনি এইবার সফল হবেন।

৪. সমস্যা কোথায় হচ্ছে বের করুন
সময় সময় তো আমাদের মন খারাপ থাকে। বিষন্নতা বা হতাশা আসতে পারে। কিন্তু এটা হচ্ছে কেন? এর শেকড় কোথায়? যদি আপনি এই সমস্যা ধরতে পারেন তবে তার সমাধানও বের করতে পারবেন। ধরুন, আপনার একটি চাকুরী লাগবে? কেন লাগবে? টাকার জন্য। তাহলে সঠিক উপায়ে সেই টাকা উপার্জন করুন বা সেই রাস্তা বের করুন। দেখবেন সমস্যা থেকে অনেকখানি বের হয়ে গেছেন।

৫. এডজাস্ট ও কম্প্রোমাইজ করার অভ্যাস বাদ দিন
দেখুন, যা আপনার দরকার তা দরকার। আমরা না জানি প্রতিনিয়ত কতগুলো বিষয়ের সাথে এডজাস্ট করে যাচ্ছি। কিন্তু আমরা ভুলে যাচ্ছি, এই এডজাস্টমেন্ট ও কপ্রোমাইজেশনের ফলে আমরা আরো একটি ভয়ানক সমস্যা ট্রমার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। কারণ কিছু স্তর পর্যন্ত এই এডজাস্টমেন্ট ঠিক হলেও একটা সময় নিজের জন্য স্ট্যান্ড করুন।

৬. বাস্তবতা মেনে নিন, এডপ্ট করুন
অনেক সময় এমন হয় যে, আমাদের চারপাশের পরিবেশের মধ্যে “নো কম্প্রোমাইজ” সেকশন-ই নেই বা থাকে না। না আপনি এই পরিস্থিতি থেকে মুভ অন করতে পারছেন, না আপনি সেখানে থাকতে পারছেন। তাই এডপ্ট করুন কিন্তু মনে রাখবেন সেটা যেন পুরো জীবনের জন্য না হয়ে যায়। তাহলে ফাঁদে পড়ে যাবেন।

৭. চেষ্টা করা বন্ধ করুন এবং নিজেকে সময় দিন
ট্রমা থেকে বের হবার জন্য অনেক চেষ্টা তো করলেন। কিছু ভিডিও দেখলেন ইউটিউবে, কিছু বই পড়লেন এমনকি আমার এই পোস্টও। কিন্তু কিছুই কাজে আসছে না। তাহলে এটা সিরিয়াস ট্র্যাপ। তাই নিজেকে সময় দিন।

পরিশেষ
পৃথিবীতে এমন সমস্যা খুব কম আছে যার কোন সমাধান নেই। আপনি নিজেকে হয়তো অভাগা বা দূর্ভাগা যাই ভাবুন না কেন তার সমাধানও আছে। দিন দিন আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে। কিন্তু সেটা তো সমস্যার সমাধান নয়। সুতরাং ইতিবাচক মনোভাব বজায় রাখুন। আপনি পারবেন বা আপনার কাজটি একদিন সফল হবেই। পরিশ্রমের ফল কখনো বৃথা যায় না। ধন্যবাদ।


- মেহেদি হাসান(Mehedi Hasan)
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে অক্টোবর, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:১৬
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইহকালে আল্লাহর ইবাদত না করলে পরকালে আল্লাহর ইবাদত করতেই হবে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০২ রা জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৭:২৭



সূরাঃ ৫১ যারিয়াত, ৫৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
৫৬। আমি জিন ও মানুষকে এ জন্য সৃষ্টি করেছি যে, তারা আমারই ইবাদত করবে।

* আল্লাহ মানুষকে ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন, সুতরাং তাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রমজান ও সিয়াম সাধনা: আধুনিক স্বাস্থ্য-বিজ্ঞানের আলোকে একটি সমন্বিত গবেষণা-বিশ্লেষণ, পর্ব-১

লিখেছেন নতুন নকিব, ০২ রা জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:২৭

রমজান ও সিয়াম সাধনা: আধুনিক স্বাস্থ্য-বিজ্ঞানের আলোকে একটি সমন্বিত গবেষণা-বিশ্লেষণ, পর্ব-১

ছবি, অন্তর্জাল থেকে সংগৃহিত।

ভূমিকা

রমজান মাসের ফরজ সিয়াম ইসলামের একটি মৌলিক ইবাদত। তবে সাম্প্রতিক দশকে এটি কেবল ধর্মীয় অনুশীলন হিসেবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মচর্চা ও সংস্কৃতিচর্চাকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়ার বিপদ

লিখেছেন সাজিদ উল হক আবির, ০২ রা জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৫৫



গত একবছর দেশের প্রবাদপ্রতীম এক থিয়েটার গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। নাট্যাচার্য নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু ও সেলিম আল দীনের হাতে গড়া এই নাট্যদলটির সিনিয়র সব সদস্যদের মুখে একই কথা বারবার... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রিয় কন্যা আমার- ৮৮

লিখেছেন রাজীব নুর, ০২ রা জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:১৬



প্রিয় কন্যা আমার-
আজ তোমার জন্মদিন। হ্যা আজ ৩১ ডিসেম্বর তোমার জন্মদিন। আজ বিশেষ একটি দিন! এবার জন্মদিনে তুমি আছো তোমার নানা বাড়ি। আমি আজ ভীষন ব্যস্ত।... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশ হায়েনাদের দখলে

লিখেছেন রাজীব নুর, ০২ রা জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৪৪



আমাদের দেশটা অনেক ছোট। কিন্তু জনসংখ্যা অনেক বেশি।
এই বিশাল জনশক্তি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। ১৯৪৭ সালে দেশভাগ হলো। ১৯৫২ তে হলো ভাষা আন্দোলন। আর ১৯৭১ এ মুক্তিযুদ্ধ।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×