
আমার নানা পৃথিবীতে আর নাই। তিনি চলে যাবার খুব বেশিদিন হয়ও নাই। আবার আমি নাতি-নাতনীদের মধ্যে তার কাছে খুব স্পেশ্যাল কেউ ছিলাম বলে তো আমার মনে হয় না। সত্যি বলতে, আমি আমার নানা কে খুব একটা মিসও করি না।
কিন্তু আমার নানা তার মৃত্যুর পর মোট আটজন নাতির মধ্যে আমাকে তারা জানাযা পড়াবার জন্য ওসিয়ত করেছিলেন (মাদ্রাসায় পড়া জারি রাখা শর্তে)। একটু ভালো করে পর্যবেক্ষণ করলে দেখতে পাওয়া যায়, তিনি আমাকে অন্যদের চেয়ে তূলনামূলক কম মেধাবী এবং ভবিষ্যতেও কম সফল বিবেচনায় ঐ ওসিয়ত করেছিলেন; যা আমার মোটেও পছন্দ হয় নাই।
কারণ যারা মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে তারা সর্বোচ্চ কি হতে পারে? কোন প্রতিষ্ঠানের আরবী ভাষার শিক্ষক অথবা, কোন মসজিদের ঈমাম। এর বেশিকিছু তো মাথায় আসছে না। তাই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করাটা আমার জন্যও অযোক্তিক হয়ে দাঁড়ায়। আমি কলেজে পড়াশোনা শুরু করি এবং উক্ত ওসিয়ত থেকে মুক্তিও পাই।
নানার কিছু গভীর পর্যবেক্ষণ আমাকে সময় সময় ভাবায়,
১. একদিন আমাকে হিন্দি গান টেলিভিশনে (9XM চ্যানেল) দেখতে দেখে বললেন, “তোকে ঠিক বুঝি না। তুই মাদ্রাসায় পড়িস, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়িস আবার হিন্দি গানও শোনিস!”
২. একদিন আমার বিয়ে নিয়ে কথা হচ্ছিলো। নানা এতে মোটেই আগ্রহ দেখালেন না। আমার বিয়ে নিয়ে নানা মাত্র একটি উক্তি শোনান, “...marriage is a legalized prostitution.”।
আমার নানার এই সর্বশেষ উক্তি বুঝতে আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যে মাস্টার্স সম্পন্ন করতে হয়েছে। কারণ এর আগে আমি শেক্সপিয়র, জর্জ বানার্ড শ বা দুই একজন লেখক/লেখিকার নাম জানলেও ম্যারি ওলস্টোনক্র্যাফ্ট কে তো আর চিনতাম না, জানতাম না।
এরচেয়েও বড় বিষয় হচ্ছে, বিয়ে প্রতিষ্ঠানকে ইংরেজি সাহিত্যের বড় বড় কবি, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, ঔপন্যাসিক বহু সমালোচনা করেছেন। জানা যায় ‘শ’ একজীবনে তাঁর বউয়ের সাথে কখনো বিছানায় যাননি। তারা আলাদা আলাদা বিছানায় ঘুমাতেন।
কেন জানিনা, আজও নানা আমার কাছে প্রাসঙ্গিক। একজন স্কুল মাস্টার এতবড় স্টেটমেন্ট দিলেন কীভাবে? নাকি স্রেফ মুখস্ত কোন উক্তি! না, তাহলে আমার বিয়ে ব্যাপারে কথা বলার সময় এটা কেন বললেন?
আজ এই প্রশ্ন তাকে খুব জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে করছিলো। কিন্তু উত্তর তো আর পাওয়া যাবে না। তাছাড়াও, নানার কাছে আমি কি সবার চেয়ে উৎকৃষ্ট ছিলাম? নাকি সবার চেয়ে নিকৃষ্ট ছিলাম? নাকি অদৌ কেউ ছিলাম-ই না! সত্যিটা আমি ঠিক জানি না।
আসলে জীবনে যতই আমরা জ্ঞান অর্জন করি, অভিজ্ঞতার কাছে বারবার হেরে যেতে হয়। আর আমি দুঃখিত নানা! আমি নিজ ইচ্ছায় আপনার দেওয়া ওসিয়ত পালন করি নাই, করতে চাই নাই।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে মে, ২০২৪ রাত ২:১৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



