somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার চট্টগ্রাম দর্শন- ০১ ( বার বার দর্শাইতে মন চায় B-):):D) (ঈষৎ পুর্বে প্রকাশিত)

০৪ ঠা অক্টোবর, ২০১১ বিকাল ৩:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সে অনেক দিন আগের কথা (১৯৯৮)।
এক দেশে ছিলো এক ছেলে। সবে মাত্র মেট্রিক পাস। সামনে লম্বা ছুটি। বড় ভাই চট্টগ্রাম বি আই টি তে পড়ে।
তো চলো চট্টগ্রাম। যে ছেলে ঈশ্বরদী র বাইরে পাবনাতে ও কোনোদিন একা যায়নি তার কাছে তো সেটা সাত সমুদ্র পাড়ি দেবার মতো ই ঘটনা। কি বলেন?
সন্ধ্যা সাতটার অগ্রদুত বাসে আব্বা তুলে দিলেন।
শুরু হলো এক অদ্ভুত হ্রৎকম্পন।

তখন ঢাকা যাবার একমাত্র উপায় ছিলো আরিচা-নগরবাড়ি রুট।পাবনা পার হয়ে কিছুদুর যেতেই প্রথম পরিচয় জ্যাম নামের দানবের সাথে।রাত সাড়ে আট টার সময় আমি পাবনা ক্যডেট কলেজের সামনে, সেই আমি সাড়ে বারোটার সময় ফেরিতে উঠলাম।

অন্ধকার রাত আমার সব কৌতুহল ভালো ভাবে মিটতে দিলনা।
ফেরি তে উঠে দেখি , ও মা, এতো দেখি ৫তলা বাড়ি।এতোদিন আমি দেখেছি পাকশি ঘাটের একতলা হলুদ ফেরি গুলো, আমার কাছে এ এক সীমাহীন বিস্ময়। কোনায় কোনায় সিড়ি, ঘুপচি ঘুপচি ঘর। লাফাতে লাফাতে উঠলাম ৩য় তলায়। সেখানে রীতিমতো একটা রেস্টুরেন্ট।চিপ্স, বিস্কুট, চানাচুর থেকে শুরু করে ভাত মাছ ডাল, সবই আছে। রাতে বাসা থেকে খেয়ে এসেছি, তাই চানাচুর মাখানো, আর কোক এর বোতোল কিনে রওনা হলাম আরো উপরে।
কোনার একটা চিকন সিড়ি বেয়ে উঠতে থাকলাম, ৪র্থ তলা পার হয়ে একেবারে ছাদে...। আহ!
ছিট ছিট ব্রিষ্টি,,,,।

ঘন্টা খানেক পর আরিচা ঘাটে ভিড়ল ফেরি। তারপর কোনো রকম ঝন্ঝাট ছাড়া ভোর ৫টায় পৌছলাম গাবতলি।বাসের লোকদের আব্বা বলে দিয়েছিলেন, তাই ওরা আমাকে তখন নামতে দিলনা। অগত্যা ঘন্টা খানেক ঘুমিয়ে, সাড়ে ৬টায় আমার পদধুলি পড়ল ঢাকার মাটিতে।

এরপর সকালে নাস্তা করে আমি ইউনিক বাসে উঠলাম।ঢাকার প্রতিটি গলি, রাস্তা সবই কেমন জানি অদ্ভুত লাগছিলো।কিছুদুর যেতেই দেখি আরেব্বাবা গাড়ির দোকান!!! আমি মুদি দোকান থেকে শুরু করে কাপড় এর দোকান, এমন কি বড় বড় আড়ত দেখেছি, কিন্তু কোনো গাড়ির দোকান আমার জীবনে প্রথম দেখলাম। অবাক হচ্ছি মনে মনে, কিন্তু ভাব এ প্রকাশ করছিনা,
জানি তো সহযাত্রীরা আঁতেল ভাববে।

মতিঝিলের কাছে থামল, কিছু যাত্রী তোলার জন্য। আমি এক বোতোল পানি আর ২টা চিপস কিনে আবার বাসে উঠলাম। আমার সহযাত্রী, কয়েকজন রাজনীতি নিয়ে আলোচনা শুরু করল। আমি নাক গলানোর তাড়না অনুভব করলাম। বেশ জোর গলায় আমাদের এরশাদ চাচার পক্ষে সাফাই গাইতে শুরু করলাম। বুঝুন একবার, অবশ্য মুরুব্বীরা আমাকে ধমক দেয়নি, আমার সৌভাগ্য ,, কি বলেন?

এরপর কোনো ঝন্ঝাট ছাড়াই শুরু হলো লম্বা বাস যাত্রা। কাঁচপুর পেরিয়ে, অচেনা জায়গা পেরিয়ে আমাদের বাস থামল নুরজাহান হোটেলের সামনে। ততক্ষনে আমার ক্ষিধে লেগে গেছে। সুতরাং এখন উদর পুর্তি ছাড়া কি আর কিছু ভাবা যায়?

খেয়ে দেয়ে আবার বাসে। সীতাকুন্ডু এসে আমারতো আর আনন্দ ধরে না। আমি যে পাহাড় দেখলাম!!!
তখন প্রায় সন্ধ্যা। কালচে সবুজ রংয়ের পাহাড় গুলো যে কেমন লাগছিলো, বলে বোঝাতে পারবনা।
আরি সর্বনাশ!! পাহাড় এর নিচ দিয়ে এক খান ট্রেন যাচ্ছে....।

সন্ধ্যার কিছু পর নামলাম পুরাতন রেলস্টেশনের সামনে। তারপর বড় ভাইয়ের বলে দেয়া বাসে করে বহদ্দার হাট, তারপর আরেক বাসে পাহাড়তলীর পথ। নিকশ কালো রাত, আমি কিছু চিনিনা, কারো কথা বুঝিনা, শুধু চিনি বি আই টি গেট।

এখন মনে হয়, তখন মোবাইল খুব দরকার ছিলো

এই বার শুরু হলো আমার অভিযান।

হলের নাম মনে নেই। খুব সম্ভব সাউথ হলের নিচতলায় আমার বড় ভাই থাকতেন। আমাকে রুমে ঢুকতে দেখেই তো অবাক। আগেই বলেছি তখন মোবাইল ছিলনা। সুতরাং আমি শুধু একটা চিঠির উপর ভরসা করে কোনো রকম সাহায্য ছাড়াই পৌছে যাব, আমার বড় ভাই তা স্বপ্নেও ভাবে নি।

যা হোক, সে রাতে আমার পেটে প্রথম পড়ল হলের খাবার। যে রকম শুনি আমার কাছে কিন্তু খাবার অতো টা খারাপ মনে হয়নি। খেয়ে দেয়ে সিন্গেল খাটে কষ্টের ঘুম। বরাবর ই মাশাল্লাহ, আমার ঘুম ভালো হয়।
খুব মজায় কাটতে লাগলো দিন গুলি। ফাঁকা মাঠে ফুটবল, সকাল, বিকাল পাহাড়ে ঘোরা, ওফ কি আনন্দ।

বিকালে রাস্তার ওপারে ছোটো ছোটো আনরস, কি যে মিস্টি ! মাত্র ২ টাকা পিস।

জীবনে প্রথম খেলাম বার্গার। পাউরুটির ভেতরে মাংসের চপ-- কি আজব কথা !

কয়েক দিন পর দাদা আমাকে নিয়ে গেলেন পতেন্গা। জীবনে আমার প্রথম সমূদ্র দর্শন! বড় বড় সিমেন্টের টুকরা আর ঘোলা পানি। আমি তাতেই অবাক। হাজার হোক, সমুদ্র তো! আমি দাদা আর দাদার এক বন্ধু সিমেন্টের টুকরার উপর বসে আছি, কিছু লোক আমাদের পাশে ঘোরাঘুরি করছিলো, এক লোক এগিয়ে এসে বললো, ভাই, লাগবে? ফরেন জিনিস আছে। আমি কিছু বুঝলাম না, দাদার বন্ধু দিলো এক রাম ধমক। কেনো? তাও বুঝলাম না।

সেখান থেকে কিনলাম একটুকরো প্রবাল, সে এক ......অনুভূতি।


পরদিন গেলাম ফয়ে'স লেক। কি অদ্ভুত সুন্দর, বলে বোঝাতে পারবনা(বর্তমানের ক্রত্রিম নয়, প্রাক্রিতিক)। পাহাড়ের পর পাহাড় উঠছি, নামছি। নিচে তাকিয়ে লেকে পানিতে সাম্পানের যাতায়াত দেখছি। একটু পর একটা সাম্পান ভাড়া করে আমরাও নেমে পড়লাম।
পাশের পাহাড়ে নাকি বি ডি আর এর ক্যাম্প, ওপারে আরো সুন্দর। কিন্তু গার্ডরা যেতে দিলনা। ওখানে নাকি কিছুদিন আগে বিরাট এক অজগর পাওয়া গেছে।

পাশের ছোটো চিড়িয়াখানা দেখে ফিরতে রাত হয়ে গেলো। পরদিন আমার জন্য আরো মজা অপেক্ষা করছে, আমি কিন্তু তা জানিনা।

চলবে..........................
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০১১ বিকাল ৩:০৩
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×