বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য মতে আমাদের দেশে দারিদ্র্যের হার এখন ২৫.৬ শতাংশ। গত বছরের চেয়ে দারিদ্র্যের হার ০.৮ শতাংশ কম। দারিদ্র্যের হার কমছে, বেশ খুশি হবার মত কথা। কিন্তু, দারিদ্র্যের হার নির্ধারনের পদ্ধতিটাকে আমার কেমন যেন একটু বড় সেকেলে মনে হয়। বিবিএস এই পরিসংখ্যান করে মূলত খাদ্য গ্রহন বা প্রত্যক্ষ ক্যালরি গ্রহন পদ্ধতি অনুসরণ করে। নিয়ম অনুযায়ী কোন ব্যক্তি দৈনিক ২১২২ কিলোক্যালরির কম খাদ্য গ্রহন করলে তাকে দরিদ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। খাদ্য গ্রহনের পাশাপাশি মৌলিক চাহিদা ব্যয় অর্থাৎ বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা সহ অন্যান্য সুবিধা তারা তাদের কতটা ধর্তব্যের মধ্যে রাখছেন কে জানে? আর বিবিএস এর এই পরিসংখ্যান যে একদম দারিদ্র্যের প্রকৃত চিত্র চিত্রায়িত করে সেটা নাও হতে পারে...
আজকাল দারিদ্র্য মুক্ত দেশের তালিকায় ঢুকতে হলে শুধু খাদ্য গ্রহনের উপর নির্ভর করে থাকলে সেটা গ্রহণ যোগ্য নয়। 'এইচডিআই' অর্থাৎ হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্স বলে নতুন তত্ত্বই এখন পরিচিত আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে। জনগণ শুধু দুবেলা দুমুঠো ভাত পেলেই দারিদ্র্যমুক্ত হয় না। মৌলিক নাগরিক চাহিদা পূরণও এখন আবশ্যিক। তাই, সত্যিকার অর্থেই আমাদের দেশে দরিদ্র মানুষের হার যে কত তা নির্নয় করা বেশ মুশকিল। পরিসেবা খাতের বেহাল দশার কথা একবার চিন্তা করুন। ঢাকা পৃথিবীর দ্বিতীয় বসবাসের অযোগ্য শহর। অর্থাৎ, পৃথিবীর অনেক যুদ্ধ বিধ্বস্ত শহরের অধিবাসীরা যে নাগরিক সুযোগ সুবিধা পায়, আমরা ঢাকাবাসীরা তাও পাচ্ছি না। বড়ই অদ্ভুত ব্যাপার...
ধরুন আমি বিবিএস এর পরিসংখ্যানকেই যথাযথ ভাবে ধরে নিলাম। তাতে কি প্রমাণ হয়? স্বাধীনতার তেতাল্লিশ বছর পেরিয়ে গেলেও দেশের প্রায় ছয় কোটি মানুষ দু বেলা ভাত খেতে পায় না। অন্যান্য মৌলিক সুবিধা তো কোন ছার...! শোষণের দেয়ালের পুরুত্ব সবখানেই যেন একটু বেশি। খোঁজ নিয়ে দেখুন, আমাদের দেশের যেসব এলাকাতে দারিদ্র্যের হার বেশি সেখানে মজুরির হারও অনেক কম তুলনামূলক ভাবে। অনেক অঞ্চলে কৃষকেরা মজুরি পায় দিনে গড়ে একশ টাকা। একশ টাকা দিয়ে সংসারের সদস্যদের মুখে খাবার তুলে দেয়ার কথা চিন্তা করা আজকাল রূপকথায় বাস করার মতই শোনায়। দুঃখজনক হলেও সত্যি, আমাদের দেশে এরকম না খেতে পাওয়া মানুষের সংখ্যা ছয় কোটিরও বেশি...!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

