somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রাজা ও তিন কণ্যা (আপডেট ভার্সন)

২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ সকাল ৯:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এক ছিল রাজা। রাজার ছিল এক রানি আর তিন কন্যা। তিন কন্যাকে নিয়ে রাজা বেশ সুখেই ছিলেন। রাজ্যেও ছিল সুখ আর শান্তি। তারপর একদিন রাজা তাঁর কন্যাদের জিজ্ঞেস করলেন এক সহজ প্রশ্ন। কে তাঁকে কী রকম ভালোবাসে?

বড় কন্যা জবাবে বলল, ‘বাবা, আমি তোমাকে চিনির মতো ভালোবাসি।’
রাজা মুচকি হাসলেন।
মেজ কন্যা বলল, ‘বাবা, আমি তোমাকে গুড়ের মতো ভালোবাসি।’
রাজার মুখে দেখা গেল হাসির রেখা।
ছোট কন্যা বলল, ‘বাবা, আমি তোমাকে নুনের মতো ভালোবাসি।’
সঙ্গে সঙ্গে রাজার মুখ হয়ে গেল কালো। রানিও শুনে অবাক। এ কেমন কথা! রাজা বেশ অস্থির। ডাকলেন উজির, নাজির আর সেনাপতিকে। হুকুম দিলেন ছোট কন্যাকে গভীর জঙ্গলে রেখে আসতে।
রাজার হুকুম বলে কথা, পরদিন ছোট রাজকন্যাকে পাঠানো হলো বনবাসে। গভীর অরণ্য, জনপ্রাণী নেই। ছোট রাজকন্যা একা বসে আছে। এমন সময় সেখানে হাজির হলো এক পথিক। রাজকন্যাকে দেখে জানতে চাইল, ‘গভীর অরণ্যে তুমি একা কেন?’
রাজকন্যা সব ঘটনা খুলে বলল। পথিকের খুব কষ্ট হলো সেসব কথা শুনে। কিছু একটা করতে ইচ্ছে করল তার। কিন্তু পথিকের তখন ‘নুন আনতে পান্তা ফুরায়’ অবস্থা। তারপরও পথিক রাজকন্যাকে তার সঙ্গে নিতে চাইল। রাজকন্যাও রাজি। দুজনে চলল পথিকের ঘরের দিকে।
এদিকে রাজা তঁার বড় কন্যাকে ভিনরাজ্যের এক রাজপুত্রের সঙ্গে বিয়ে দিলেন। সেই রাজপুত্রের আবার চিনির ব্যবসাও আছে। মেজ কন্যারও বিয়ে দিলেন ঘটা করে। এই পাত্রের আছে বেশ বড় গুড়ের আড়ত। এভাবেই কেটে গেল দিন। একদিকে আনন্দ...আর অন্য দিকে।

বছরখানেক পরের কথা। একদিন এক লবণচাষি রাজাকে নিমন্ত্রণ করল তার বাড়িতে। রাজা বড় বিনয়ী। তাই লবণচাষির নিমন্ত্রণও তিনি রক্ষা করলেন। কিন্তু চাষির বউ রাজাকে খাবার খেতে দিলেন নুন ছাড়া তরকারি দিয়ে! খাবার মুখে দিয়েই রাজার মুখ বিস্বাদে কুঁচকে গেল। নুন ছাড়া আবার তরকারি হয় নাকি? চাষির বউ বলল, ‘রাজা তো নুন অপছন্দ করেন। তা ছাড়া নুনের কেজি এখন ৪৫ টাকা।’
নুনের এত দাম শুনে রাজার হার্ট অ্যাটাক হওয়ার মতো দশা হলো। নুন এতই মূল্যবান? এমনিতেই চিনি-গুড় খেতে খেতে রাজার শরীরে ডায়াবেটিস বাসা বেঁধেছে। তার ওপর এই নুনের কারণেই রাজ্য থেকে বের করে দিয়েছিলেন তাঁর ছোট কন্যাকে! সব মনে পড়ে গেল রাজার।
এদিকে রাজা হঠাৎ দেখতে পেলেন, আসলে চাষির বউ হলো তাঁরই ছোট কন্যা! আর লবণচাষিটি হলো সেই পথিক, যে রাজকন্যাকে ঘরে তুলেছিল। লবণ চাষ করে তাদের এখন রমরমা অবস্থা। সব দেখে রাজা তঁার ছোট কন্যাকে আবার প্রাসাদে ফিরিয়ে নিয়ে গেলেন। সবার মুখে ফুটে উঠল হাসি। তারপর থেকে সেই রাজ্যে সবাই সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে লাগল।

রিপোস্ট: গতবছর নুনের দাম বৃদ্ধি নিয়ে প্রথম আলোর রস+আলোতে প্রকাশিত রম্য। এই বছর চালের দাম নিয়ে একটা লিখতে হবে।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ সকাল ৯:৫৪
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নস্টালজিক

লিখেছেন সামিয়া, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৩:৩৩



আমার ঘরটা এখন আর আগের মতো লাগে না। দরজার লক নষ্ট, বন্ধ করলেও পুরোপুরি বন্ধ হয় না, আধখোলা হয়ে থাকে। বুকশেলফে ধুলো জমে আছে, ড্রেসিং টেবিলের পর্দাটা এলোমেলোভাবে ঝুলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বপ্ন যখন মাঝপথে থেমে যায়: ঢাকার জলপথ ও এক থমকে যাওয়া সম্ভাবনার গল্প

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:২৫

ঢাকার যানজট নিয়ে আমরা অভিযোগ করি না এমন দিন বোধহয় ক্যালেন্ডারে খুঁজে পাওয়া যাবে না। অথচ এই যানজট নিরসনের চাবিকাঠি আমাদের হাতের নাগালেই ছিল—আমাদের নদীগুলো। সম্প্রতি বিআইডব্লিউটিএ ঘোষণা করেছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেন আমি ইরানের বিরুদ্ধে-২

লিখেছেন অর্ক, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:১৪



ইরান বিশ্বসভ্যতার জন্য এক অভিশাপ, এক কলঙ্ক। কাঠমোল্লারা ক্ষমতা পেলে একটি রাষ্ট্রের যে কি পরিণতি হয়, তার জ্বাজ্জল্যমান উদাহরণ ইরান। সম্পূর্ণরূপে অসভ্য বর্বর অসুস্থ রাষ্ট্র গড়ে উঠেছে সেখানে। যেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাগাভাগি

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৭

ভাগাভাগি
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

এলাকায় এক ইফতার মাহফিল-এ
দাওয়াত পাই আর যথাসময় চলে যাই।
অনেক মানুষ পড়ছে দোয়া দুরুদ
ঘনিয়ে আসছে রোজা ভাঙার সময়।

তখন সবার সামনে বিলিয়ে দিচ্ছে বিরিয়ানি
আমার ভাবনা- হয়ত কেউ ভাবছে
যদি একসাথে খাওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৩ এ ওয়াকআউট করেছিলেন, ২০২৬ এ তিনিই ঢাবির ভিসি ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২২


২০২৩ সাল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সভা চলছে। একজন শিক্ষক দাঁড়িয়ে বললেন, হলগুলোতে ছাত্রলীগের গেস্টরুম নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। কথাটা শেষ হতে না হতেই তৎকালীন ভিসি জবাব দিলেন, "গেস্টরুম কালচার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×