somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

[রং=#980000][গাঢ়]মিথিলার সাথে দেখা হল আজ! কথা হল পাশাপাশি বসে!![/গাঢ়][/রং]

১৫ ই মার্চ, ২০০৭ রাত ৮:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



[গাঢ়]মিথিলার সাথে দেখা হল আজ! কথা হল পাশাপাশি বসে!!
বল্লাম কোথায় ছিলে মেয়ে? কীভাবে বেঁচে উঠলে!![/গাঢ়]

হ্যা মিথিলা! সেই মিথিলা, যাকে নিয়ে ধুন্দুমার হয়ে গেল এই সেদিন।

মিথিলাকে নিয়ে দারুন জমেছিল ব্লগ। কত কত পোস্ট আর কত গলাবাজী, গালিবাজী!!! আমি তখন নিতান্তই নতুন মানুষ। তবু কেমন করে যেন জড়িয়ে গেলাম! আর কেনইবা জড়াবোনা! আঠারো বছরের একটা মেয়ে বলবে সে মরে যাবে যে কোন সময়! তারপর হুট করে চলেও যাবে!! আর আমি যদি আপ্লুত নাহই তাহলে আর কবিতা ভালবাসলাম কেন?

তারওপর যদি লেখা হয়, [গাঢ়]নজমুল আলবাব ভাই রুবেলের সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন?[/গাঢ়] তাহলে কী না জড়িয়ে পারা যায়? আমিও তাই জড়িয়ে পড়ি এক আবেগী যন্ত্রনায়। একজন রিপোর্টারকে রিতিমত এ্যাসাইনমেন্ট দিয়ে বের করি রুবেলকে। কথা বলি, শান্তনা দিই। তারপর অন্তর্জালে জানিয়ে দিই, ভাল আছে রুবেল!

আবেগটা বুকে পুষে রাখার সীমিত এক ক্ষমতা আছে আমার। বুক পকেটে বেদনা রেখে অনায়াসে পার করতে পারি অনেকটা সময়। তাই আঠারোতে মরে যাওয়া বালিকার জন্য দুঃখবোধটা আর জানান দেয়া হয়না। কথা বলি রুবেলের সাথে। আহারে, এই বয়সেই ছেলেটা এমন আঘাত পেল। বাকিটা পথ পাড়ি দেবে কেমন করে?

[গাঢ়]তিনদিন পরেই আসে সেই দুরাচারি ঘোষনা!!! মিথিলা ভার্চুয়াল কারেক্টার!!![/গাঢ়]

আরও অনেকের মত আমিও কেমন বোকা বনে যাই!!! শুরু হয় খিস্তি খেউড়। গালাগালি আর কাদাছুড়াছুড়ি!!! এইবারও আমি নিরব থাকি!!! এসবেও ইদানিং আর 'জুইত' করতে পারিনা। যত দাবড়ানি ছিল সবি প্রায় শেষ করে ফেলেছি অপুকালে!!! কিন্তু ভেতরে ভেতরে চলে কেমন এক উচাটন! ক্ষোভ জমা হয় মনে। তাই নিয়ে ফোন করি রুবেলকে! বলি, ভাইরে সত্যি করে বলতো আসল ঘটনাটা! তোমাকে অবিশ্বাস করতে চাইনা!! কে শুনে কার কথা, সে তার বগল বাজায়া যায়!!!

রাগ ইমন এর পোস্টে দেখা এক পলকের মিথিলার(?) কথা মনে হয়! কৌতুহলী হই। কে মেয়েটা? এমন করে ব্যবহৃত হচ্ছে। ক্ষোভ বাড়ে আরও! হঠাৎ করেই সেই ছবিটা ফেরত পেয়ে যাই। কোন এক গোয়েন্দা নিক এর পোস্ট থেকে!!! সেইভ করি। মনে করার চেস্টা করি কখনও দেখেছি কীনা? মনে হয় এই মেয়েকে আমি দেখেছি!!! তুলিকে ছবিটা দেখাতেই চিনে ফেলে!!! আমাকেও চিনিয়ে দেয়!!! আমি অবাক হই আর আপ্লুত! যাক মায়াবতী মেয়েটা এখনও আছে বেঁচে!!!

তবুও তুলির সাথে তর্কে মাতি। বলি, তুমি হয়ত জাননা, এই মেয়েটা... আমাকে আর কথা বলতে দেয়না। কোথায় কোথায় ফোন করে খবর নিয়ে জানায়, ... এখন ঢাকায়। ভাল আছে। সেখানে খাচ্ছে, দাচ্ছে, ঘুরছে!!!

এদিকে রুবেল আবার আমাকে সিলেট শহরের একটা পাড়ার কথা বলে দিয়ে জানায় ওখানে মিথিলার বাড়ি! আমি ওই পাড়া চষে ফেলি, [গাঢ়]মিথিলা কী, সেখানে তালুকদার বংশীয় কোন জনমানুষেরই দেখা মিলেনা!!![/গাঢ়] আমার কেমন কেমন লাগে!!! রাগ ইমনের সাথে কথা হয় ফোনে, জিমেইলে। তার কাছে মিথিলার ছবির কথা জিজ্ঞেস করলে মেইল করে দেন। চারটা ছবি পাই। ছবির শিরোনাম দেখে বুঝতে বাকি থাকেনা, ঘটনাটা কী ঘটেছে। তবুও রুবেলের সাথে যোগাযোগের চেস্টা করি। আবারও ব্যার্থ!!! অস্বিকার করে। সে ছবি পাঠায়নি।( পরে মাশীদ তার কাছে থাকা ছবিটাও পাঠান। সেই একি ছবি, একি নাম!) রুবেল স্বিকার করেনা। আমিও তাকে বলতে পারিনা, ভাই তোমার ব্লগের নাম dewdropsblog । ছবির নামও তাই (dewdrops-1, 2, 3 এরকম!)। কেমন করে মিলেরে ভাই! বলা হয়না। আরিফ ভাইয়ের কথা মনে পড়ে। তিনি বলেছেন, [গাঢ়]ছেলেটা মানসিক রুগি হবে হয়ত।[/গাঢ়] আমারও তাই মনে হয়। মনে মনে বলি, দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠ অবুঝ বালক!

তারপর ডুবে যাই নিজের কাজে। আজ (15 মোর্চ) হঠাৎ করেই ছবির মিথির সাথে দেখা হয়ে যায়! কথার ফাঁকে জিজ্ঞেস করি, চিন নাকী মিথিলা নামের কাউকে, রুবেলের কথাও জিজ্ঞেস করি। অবাক হয়ে উল্টা আমায় বলে এরা কারা? রুবেল কে? মিথিলাটাইবা কে?

আমি বলি, তুমিইতো মিথিলা! মরে গিয়ে আবার কিভাবে বেঁচে উঠলে!!! সবকিছু খুলে বল্লে ঘোরগ্রস্থের মত কম্পিউটারের সামনে বসে, জীবনের প্রথম ব্লগসাইট নামের এক আজব দুনিয়া দেখবে বলে!!!

মিথিলাকে নিয়ে কান্না আর ভালবাসা দেখে আরও বোকা বনে যায়! রুবেল নামের কোন এক অপরিচিত অসংস্কৃত বালকের কারণে তার অকাল মৃত্যুর কথায় পাংশু হয়ে উঠে বালিকার মুখ। অষ্টাদশী বালিকা। আমার অতি-দুঃসম্পর্কে বোনটি বার বার বলে, ভাইয়া এইগুলা কেমনে হলো? আমার ছবি কতজনের কাছে এভাবে ছড়িয়েছে? আমার কোন তি হবেনাতো?

আমি ঢং করে পরিবেশ হালকা করতে বলি, আরে ধুর, রাখ এইসব কথা। তুমিত মরেই গেলে!!! বেঁচে উঠার গল্পটা আমায় বল। ঠাট্টাটা সে গায়ে মাখেনা। কোন এক বন্ধুকে ফোন করে বলে, 'জানিস ইন্টারনেটে আমার ছবি ছেড়ে এক ছেলে বলেছে আমি মরে গেছি!!!'

আমার কাছ থেকে বিদায় নেয়ার সময় আমি ওর চেহারায় কেমন এক ঘৃণা ফুটে থাকতে দেখি!!!
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে মার্চ, ২০০৭ দুপুর ২:২০
৪৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-১৬)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০১



সূরাঃ ১৬ নাহল, ৯৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৯৩। আল্লাহ ইচ্ছা করলে তোমাদেরকে এক উম্মাত (একজাতি) করতে পারতেন, কিন্তু তিনি যাকে ইচ্ছা বিভ্রান্ত করেন এবং যাকে ইচ্ছা হেদায়াত দান করেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সীমিত মগজ, লিলিপুটিয়ান, ডোডো পাখি (সৌজন্যে - চাঁদগাজী)...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ১১:২৯



১. যেনা করব আমরা, ৫০১-এ যাব আমরা, পার্কে যাব আমরা। তুমি তো আলেম। তুমি কেন যাবে? তুমি তো ইসলামের সবক দাও সবাইকে। তুমি মাহফিলে কোরআন, হাদীস বয়ান কর। তুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×