somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নতুন নকিব
নিজেকে লেখক বলে পরিচয় দিতে সংকোচ হয়; লেখালেখি ইবাদতসদৃশ সাধনা বলেই লিখি। নিজেকে জানা, বিশ্বকে অনুধাবন করা এবং সর্বোপরি মহান স্রষ্টার পরিচয় অন্বেষণই আমার নীরব যাত্রার পাথেয়। দূরে সরিয়ে দেওয়া নয়-সৃষ্টিকূলকে ভালোবাসায় আগলে রাখার শিক্ষাই ইসলামের মূল বাণী।

ফ্যাসিবাদ উৎখাতে জীবনের ঝুঁকি নিয়েছেন যেসব প্রবাসী বাংলাদেশী

২১ শে আগস্ট, ২০২৪ সকাল ১০:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
ফ্যাসিবাদ উৎখাতে জীবনের ঝুঁকি নিয়েছেন যেসব প্রবাসী বাংলাদেশী

ছবি: অন্তর্জাল হতে সংগৃহিত।

ফ্যাসিবাদের জগদ্দল পাথরে চাপা পড়ে ছিল প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ। ৬ জানুয়ারি ২০০৯ হতে ৫ আগস্ট ২০২৪। ১৫ বছর ৭ মাস ১ দিন। ১,৩৭,৬৮৮ ঘন্টা বা, ৮২,৬১,২৮০ মিনিট অথবা, ৪৯,৫৬,৭৬,৮০০ সেকেন্ড। একটানা। নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছিল। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নাম বিক্রি করে চলতো সকল অন্যায় অপরাধ। ছাত্রলীগ নামের নৃশংস হায়েনারা ধর্ষন করতো মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে। ধর্ষন করলেও তাদের বিচার হতো না। খুন খারাবি রাহাজানি অন্যায় অনিয়ম করতো ছাত্রলীগ আর মামলা হতো ছাত্রদল আর শিবিরসহ অন্যান্য ছাত্রসংগঠনের নামে। উদোর পিন্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপানোর অপসংস্কৃতিতে আচ্ছন্ন ছিল গোটা দেশ। খুন খারাবিও হতো একই চেতনার নামে। ভয়াবহ গুমের সংস্কৃতি চালু হয়েছিল রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায়। দেশবাসীর মুখ বন্ধ করার জন্য বিবিধ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দোহাই দিয়ে। ভিন্নমত দমনে ডিজিটাল নিরাপত্তার মত নিকৃষ্ট আইন চালু করা হয়েছিল। মামলার পরে মামলা ছিল নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার। কথায় কথায় খুন, কথায় কথায় মামলা। কথায় কথায় হামলা। তুলে নেওয়ার ঘটনা ছিল ডাল ভাতের মত সস্তা।

এমন দুরবস্থায় দেশে অবস্থান করে কথা বলার উপায় ছিল না। কথা বললেই হাসিনার ডিজিটাল আইনের খড়গ নেমে আসতো তার উপরে। হামলা মামলার যাতাকলে পিষ্ট করা হতো। এ অবস্থায় অনেক প্রবাসী বাংলাদেশী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্বৈরাচার হটানোর যুদ্ধে নিজেদের উৎসর্গ করেছিলেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজনের নাম করা যেতে পারে- লক্ষ লক্ষ জনতার প্রিয় মুখ ফ্রান্স প্রবাসী ড. পিনাকি ভট্টাচার্য্য- যার ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা ২২ লক্ষ, আমেরিকা প্রবাসী খ্যাতনামা সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেন- যার ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা ৩১.৫ লক্ষ, নিপীড়িত আমেরিকা প্রবাসী আবু সালেহ মোহাম্মদ নায়েব আলী- ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা ৯ লক্ষের বেশি, আমেরিকা প্রবাসী নির্যাতিত সাংবাদিক কনক সরওয়ার- ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা ৮ লক্ষ, মালয়েশিয়া প্রবাসী বিএনপি নেতা ড. ফয়জুল হক- ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা প্রায় ৩ লক্ষের কাছাকাছি, কলিজার ভাই-বোন খ্যাত ফ্রান্স প্রবাসী সুস্ময় শরীফ- ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা প্রায় ২.৫ লক্ষের বেশি, কানাডা ভিত্তিক নাগরিক টিভির জনপ্রিয় উপস্থাপক নাজমুস সাকিব- ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা প্রায় ৯.৬৯ লক্ষ।

এ ছাড়া, জনপ্রিয় উপস্থাপক সাইফুর সাগরের ফেইস দ্য পিপল, সৈয়দ মাসুকের ইউকে কসবা টিভি, হাসিনা আকতারের টেবিল টক ইউকেসহ বেশ কিছু প্রবাসী মিডিয়া চমকপ্রদ এবং ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। দেশে যখন মিডিয়ার উপরে স্বৈরাচারের নিয়ন্ত্রণের খড়গ তখন প্রবাসীদের এসব অনলাইন মিডিয়া এদেশবাসীর বাক স্বাধীনতাকে তুলে ধরতে ব্যাপকভাবে সহায়তা করেছে। সর্বশেষ, ছাত্র জনতার আন্দোলনকে ত্বরান্বিত করতে অনলাইন এক্টিভিস্টদের ভূমিকা যে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল তা অনুধাবন করেই হাসিনার সরকার বারবার ইন্টারনেট বন্ধ করার মত দেশের জন্য মারাত্মক আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিতেও পিছপা হয়নি।

উপরের অনলাইন একটিভিস্টদের একেকজনের বিরুদ্ধে মামলার পরে মামলা রুজু করা হয়েছে। একের পর এক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। সাইবার সন্ত্রাসীসহ এদের ভয়ঙ্কর সব নাম দিয়ে মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচারনা চালানো হয়েছে। এদের ধরিয়ে আনার জন্য রাষ্ট্রীয় নানাবিধ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এমনকি, এদেরকে ধরতে না পেরে দেশে থাকা এদের অনেকের পরিবার পরিজনকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকের দ্বারা তুলে নিয়ে গিয়ে বিভিন্নভাবে হয়রানি এবং নির্যাতন করা হয়েছে। তাদেরকে অন্যায় চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে। এমনকি, গুম, খুনসহ বিভিন্নভাবে হুমকি পর্যন্তু দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু তাবেদার স্বৈরাচারের কোনো চাপের কাছেই নতি স্বীকার করেননি এসব বীরেরা। তারা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জনমত গঠন, জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাাতিক অন্যান্য ফোরামসহ বিশ্ববাসীর সামনে বাংলাদেশের ভয়ঙ্কর ফ্যাসিবাদের বাস্তব চিত্র তুলে ধরার প্রচেষ্টা অব্যাহতভাবে চালিয়ে গেছেন। এবং অবশেষে বিজয় হয়েছে বীর বাঙালী জনতার। পালিয়ে গেছে স্বৈরাচার। আজ সময় এসেছে প্রবাসী বাংলাদেশীসহ স্বৈরাচার হটাও আন্দোলনে দেশে বিদেশে যারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন প্রত্যেকের অবদানকে স্বীকৃতি প্রদানের। প্রত্যেককে প্রাণঢালা অভিনন্দন। সাহসী বীরদের সদ্য স্বৈরাচার মুক্ত প্রিয় স্বদেশে স্বাগত।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে আগস্ট, ২০২৪ বিকাল ৩:১৭
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমরা যেন পারষ্পরিক সম্মান আর ভালোবাসায় বাঁচি....

লিখেছেন জানা, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৪২



প্রিয় ব্লগার,

শুভেচ্ছা। প্রায় বছর দুয়েক হতে চললো, আমি সর্বশেষ আপনাদের সাথে এখানে কথা বলেছি। এর মধ্যে কতবার ভেবেছি, চলমান কঠিন সব চিকিৎসার ফলে একটা আনন্দের খবর পেলে এখানে সবার সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বালাদেশের নির্বাচনী দৌড়ে বিএনপি–জামায়াত-এনসিপি সম্ভাব্য আসন হিসাবের চিত্র: আমার অনুমান

লিখেছেন তরুন ইউসুফ, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:২৩



বিভিন্ন জনমত জরিপ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রবণতা এবং মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক তৎপরতা বিশ্লেষণ করে ৩০০ আসনের সংসদে শেষ পর্যন্ত কে কতটি আসন পেতে পারে তার একটি আনুমানিক চিত্র তৈরি করেছি। এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম পরে, আগে আল্লাহ্‌কে মনে রাখো

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৫:৩৭

প্রিয় শাইয়্যান,
পরম করুণাময় সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ্‌কে তুমি যখন সবার আগে স্থান দিবে, তখন কি হবে জানো? আল্লাহ্‌ও তোমাকে সবার আগে স্থান দিবেন। আল্লাহ্‌ যদি তোমার সহায় হোন, তোমার আর চিন্তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনঃ কেন আমি বিএনপিকে ভোট দিবো?

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:২৯



আসছে ১২ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এ ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সরকারপক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই নির্বাচন হবে বিতর্কমুক্ত এবং উৎসবমুখর পরিবেশে। আমার অবশ্য এই দুই ব্যপারেই দ্বিমত... ...বাকিটুকু পড়ুন

‘বাঙালি মুসলমানের মন’ - আবারও পড়লাম!

লিখেছেন জাহিদ অনিক, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আহমদ ছফা'র ‘বাঙালি মুসলমানের মন’ বইটা আরাম করে পড়ার মতো না। এটা এমন এক আয়না, যেটা সামনে ধরলে মুখ সুন্দর দেখাবে- এমন আশা নিয়ে গেলে হতাশ হবেন। ছফা এখানে প্রশংসা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×