পৃথিবীতে সবার কাছে প্রিয় যে ডাকটি আছে সেটা অবশ্যই মা ডাকটি। সত্যিই মা কথাটি অনেক মধুর ও সর্বজন পরিচিত একটা ডাক। আমাদের সভ্য সমাজের সভ্য ছেলেরা মাকে আম্মা, আম্মি ইত্যাদি বলে ডাকে। কারন তারা জন্মের পর থেকে মায়ের কাছ থেকে এই ডাকটি শিখেছে। কিন্তু আমি আমার মাকে মা বলেই ডাকি, এতেই আমার সুখ। কারন এই ডাকটাই আমি আমার মায়ের কাছ থেকে শিখেছি। আমার অতি আদরের মা শিক্ষিত না। তাতে কি আসা যায় তার সন্তান তো একদিন প্রকৌশলী হবে এতেই তো তার গর্ব। আমার পড়াশুনার ব্যাপারে আমার মা একেবারেই অজ্ঞ আর এটাই তো স্বাভাবিক। আমার পরীক্ষার রেজাল্ট দেওয়ার সময় মা রেজাল্ট কথাটাও ভালভাবে বলতে পারে না, বলে, “তোর রেজাউল দিয়েছে”? এ এ+ মা বোঝেন না, তিনি জানতেন আমার ছেলে ভাল রেজাল্ট করেছে।
পৃথিবীর সমস্ত মা তার সন্তানের কথা চিন্তা করে, সন্তানের মঙ্গল কামনা করে। কারন সন্তান যে তার নাড়ি ছেড়া ধন। আমার মাও তার ব্যতিক্রম নয়। তবে আমি দেখেছি কেউ বাড়ি থেকে বিদেশ বা বাইরে পড়াশুনা করতে গেলে মা সন্তানকে জড়িয়ে ধরে কাঁন্না কাটি করে। কিন্তু আমি যখন বাড়ি থেকে অনেক দিনের জন্য বাইরে আসি তখন আমার মা তেমনটা করে না। হয়ত বা আমার অজান্তে মা নিরবে নিভৃতে কাঁদে। আমাকে দেখাতে চায় না। বাড়ি থেকে আসার সময় মা আমাকে শুধু একটা কথা বলে রাস্তা ঘাটে গাড়ি ঘোড়া দেখেশুনে চলবি। এই কথাটির মধ্যেই আমি আমার মায়ের চোখের কাঁন্না দেখতে পাই। আমার নিয়ে মায়ের যে চিন্তা সেটাকে আমি উপলব্ধি করতে পারি।
অজানা অচেনা হয়ত বা সৃষ্টিকর্তার পরীক্ষার একটা নমুনা হিসেবে এক ভয়ানক ব্যাধি আমার মায়ের শরীর বহন করে। এটি একটি এমন রোগ যে আজ ভালো তো কাল খারাপ, আবার টানা এক সপ্তাহ, এক মাস, এক বছর ভালো আবার এক বছরও খারাপ। এই রোগ মায়ের উপর ভর করলে মা আমার মা থাকে কিন্তু আমি তার ছেলে থাকি না। তখন মা আমাকে বাবাকে কাউকে সহ্য করতে পারে না। বাড়িতে ভাঙচুর মারধর করতে থাকে। ভয়ে মায়ের কাছে যাওয়াটাই বিপদজনক হয়ে ওঠে। আবার দেখা য়ায় মা বিছানায় শুয়ে নিরবে কান্নাকাটি করছে। তখন মায়ের পাশে বসে চোখের পানি মুছে দিই। মায়ের চোখের পানি মুছা যে কত কষ্টের তা আমি জানি। এ সময় মায়ের জন্য সর্বক্ষন দোয়া করতে থাকি যেন মা ভাল হয়ে য়ায়। এসব ঘটনার পরের দিন দেখা যাচ্ছে মা আবার স্বভাবিক। আগের দিনের কোন ঘটনাই মায়ের মনে নায়। এসব ঘটনায় বাবাকে সাময়িক রাগ করতে দেখলেও মায়ের প্রতি তিনি কখনো অবহেলা করেন নি। এখন আমার মা অনেক দিন যাবত ভালো আছে কিন্তু মায়ের সেই চঞ্চলতা নাই। হয়ত বা ওষুধ নামক বিষে মায়ের চঞ্চলতা হারিয়ে গেছে। যে মা সংসারটাকে গুছিয়ে রাখতো সেই মা এখন সব কিছু অগোছালো ভাবে করে। এখন দিনের প্রায়ই সময় শুধু শুয়ে থেকে কাটাই। এক বেলা অতি কষ্টে রান্না করে দুই বেলা খায়। আমি যখন বাড়িতে যাই নিজের জামা কাপর নিজেই পরিস্কার করি। কারন মাকে পরিস্কারের কথা বললে মা হয়ত অন্য কাউকে দিয়ে কাজটি করানোর জন্য আকুতি মিনুতি করবে। আর এটা আমার ভালো লাগে না। আর কোন সন্তানের ভালো লাগার কথা না। অনেক দিন পর বাড়ি যাওয়াই স্বভাবত আমার নানা রকম খাবার খেতে ইচ্ছা করে। তারপরও মায়ের কষ্টের কথা ভেবে বলতে পারি না।
আমার মা শিক্ষিত হতে পারিনি। তাতে কি আমার মা বলতে পারবে আমার সন্তান প্রকৌশলী, দেশের ভবিষ্যত। হ্যাঁ মা, আমিই তো তোমার গর্ব। আর দেশের মানুষও গর্বিত তোমাদের মত মায়ের জন্য যারা সমাজে শিক্ষিত সন্তান দিতেছে যাদের পদচারনায় দেশের মান বিশ্বের দরবারে উন্নত হচ্ছে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


