আমরা বিশেষ কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ কোনো বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র ছাত্রী। আমরা নিজেদেরকে আমাদের আদি পিতা আদমের গলায় আটকে যাওয়া নিষিদ্ধ ফলের সাথে তুলনা করতে পারি। আমরা সমস্ত প্ররীক্ষা শেষ করার পরও নিষিদ্ধ ফলের ন্যায় আটকে আছি কঠিন কিছু মনুষ্য দ্বারা সৃষ্ট জটিলতার কারনে। আল্লাহ আদম (আঃ) এর সাজা দিয়েছিল নিষিদ্ধ ফল খাওয়ার জন্য। এর জন্য আদম (আঃ) হাজার বছর কান্নাকাটি করার পর আল্লাহ তাকে ক্ষ্মা করে দিয়েছিল। আমাদেরও কি বিশেষ কোনো অন্যায়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি পেতে হাজার বছর অপেক্ষা করতে হবে?
আমাদের মত দুর্ভাগা ব্যাচ পুর্বে ছিল না তবে সামনে যে আসবে এটা নিশ্চিত। প্রজেক্ট নামক একটা সুন্দর বিষয় আমাদের কাছে আজ ডাইনোসারেরে মত ভয়াভহ রুপ নিয়েছে। এরূপ হওয়ার পিছনে রয়েছে সুন্দর মানসিকতার কিছু জনাব। আমরা তাদের অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে শ্রদ্ধা করি। হতেও পারে বাধ্য হয়ে। আজ আমরা এক একটা মানসিক রোগী। আজ আমাদের মুখে হাসি নাই, মনে আনন্দ নাই। সাথে আমাদের বাবা মাও আজ চিন্তিত। আমাদের ব্যাচের অন্যরা যেখানে ব্যস্ত চাকরি নিয়ে সেখানে আমরা চিন্তিত রিপিট, রিপোর্ট কারেকশন ইত্যাদি ইত্যাদি অজুহাত নিয়ে। আমি আমরা আজ জনাবদের রুমে প্রবেশ করি দোয়া দুরুদ পড়ে। এইতো কিছুদিন আগে আমার এক ক্লাসমেট পকেট থেকে একটা কাগজ বের করে আমাকে বলছে “দোস্ত স্যারদের রুমে প্রবেশ করার আগে এই দোয়াটা পড়ে নিস” দোয়াটা আমি মুখস্থও করলাম। আমাদের কাঁদতে দেখে মায়েরা ডিগ্রী না নেওয়ার সান্ত্বনা দেয়। আমদের বাবারা সন্দেহ করে আমরা আসলে প্ররীক্ষায় পাস করেছি কিনা। আমাদের জনাবরা ডিগ্রী আটকে দেওয়ার ভয় দেখায়। এই দুরাবস্থায় আমাদের মানসিক অবস্থাকে এমন এক জায়গায় নিয়ে গিয়েছে যে আজ আমরা আমাদের যোগ্যতা, কনফিডেন্স নিয়ে নিজের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ। তবে জনাবদের চিন্তায় আমরা এক একটা মহা গবেষক হয়ে বের হবো। আল্লাহ সবার মঙ্গল করুক।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


