। থার্টি ফাস্টনাইটে চলে যেতাম পতেঙ্গায়, রাতভর গিটার আর গান চলতো ।
প্রথম প্রথম চুল কাটাতেও চট্টগ্রাম যেতাম। ঢাকায় নতুন আসার পর ঠিক মতো শ্বাস নিতে পারতাম না; খুব আলো বাতাসহীন একটা শহর মনে হতো। কেবলই ওই সাগর পাড়ের শহরটা ডাকতো। রাতের বাসে চলে যেতাম। রাতভর বন্ধুদের সাথে চলতো কথপোকথন। এই সীতাকুন্ড পার হলাম। শীতলপুরের ডক ইয়ার্ডে সাগরের কিনারে দেখা যাচ্ছে মস্ত বড় জাহাজ গুলো। ভোরে বাসায় কাঁধ থেকে ব্যাগটা রেখেই পাভেলের বাসায়। ওখানেই নাস্তা। ওখানেই পরের কয়েকটা দিন ঘুম, খাওয়া।
কমার্স কলেজের বন্ধু সোহেলের বাসায় সেদিন আড্ডা বসে গেলো। তারপর আমরা সোহেলের মার্কসটু-এ ঠাসাঠাসি করে চেপে বসলাম ছয়জন।
সারাটা বিকেল হইহুল্লুড়। সন্ধায় পতেঙ্গায় চা আর আড্ডা। রাত আটটা বাজতেই খুজতে থাকলাম কোন রেস্টুরেন্টে রাতের খাওয়াটা সারা যায়। সোহেল তো আছেই, অবশ্য ওরই খাওয়ানোর কথা চট্টগ্রামে আমার যাওয়া উপলক্ষে। এরই মধ্যে রিকন্ডিশনড গাড়ীর ব্যবসা করে খুব ফুলে উঠেছে।
হঠাৎ সোহেল বলে উঠলো। হায় হায় আজ না আমার বন্ধু মিন্টুর বোনের বিয়ে ! রাতও বেজে গেছে আটটা। বিয়েটাতে না গেলেই নয়। মিন্টু বড্ড রাগ করবে। না না দোস্ত না গেলে বিষয়টা খুব বাজে হয়ে যাবে। সবাই মিলে যাই। তাইলে মিন্টু খুবই খুশি হবে।
কী আর করা। ভেবেছিলাম কোথায় মজা করে খাবো আর আড্ডা দিবো।
যাইহোক আবার মিন্টুর গাড়ীতে ঠাসাঠাসি হয়ে রওনা দিলাম। লেডিস ক্লাবে। একে একে সবাই ঢুকলাম। ঢুকেই সোহেল বলল দোস্ত আগে আগে খাওয়াটা সেরে ফেলি। সবাই চেটেপুটে খেলাম। যদিও আমার বিয়ের খাওয়াটা ভালো লাগে না।
খেয়েদেয়ে বাহিরে গিয়ে আমরা সিগারেট ধরালাম। সেই ফাকে ড্রাইভারকেও পাঠানো হলো খেয়ে নিতে। সিগারেট টানতে টানতে বললাম, দোস্ত তোর বন্ধু মিন্টু কই, কনেও তো দেখলাম না। চল ভেতরে যাই বউ দেখে আসি। সোহেলের উত্তর, কিসের মিন্টু, কোন মিন্টু? চল গাড়ীতে উঠ। আমরা তো অবাক। সোহেল নির্লিপ্ত মুখে বলে গেলো, শোন, মিন্টু ফিন্টু কিছু না। তোদের যদি এখন খাওয়াতে বাসায় নিয়ে যেতাম তো ভাবীর দৌড়ানো খেতে হতো, বাহিরে কোন রেস্টুরেন্টে খাওয়াতে গেলে আমার পকেট থেকে অন্তত হাজার দেড়েক টাকা বের হয়ে যেতো। শেষমেষ ভাবলাম মিন্টুর উপর দিয়েই আজ চালিয়ে দিই।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৪:৫১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


