শহরের সমস্ত বাতি নিবে গেছে। কোথাও অন্ধকারে শো শো বাতাসের শব্দ মনে ভয় জাগিয়ে দেয়। এই বুঝি আবার শুরু হলো তান্ডব। আগের রাতে আমাদের বাসার ছাদে উড়ে উড়ে গেছে দেয়াল করার জন্যে নিচে রাখা ইট। গাছের পাতাগুলো পুড়ে গেছে। বিদ্যুত বিভাগ এরই মধ্যে জানিয়ে দিয়েছে কত দিন অন্ধকারে থাকতে হবে তা তাদেরও ধারনায় নেই। বাবা গেছেন কোথায় মোমবাতি পাওয়া যায় কিনা। চারদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার। তার সাথে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি। বাতাস আর বৃষ্টি মিলে শীতও যেন পেয়ে বসেছে। এসময় কোন দোকান খোলা পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
আমরা ছোট ভাইবোন কাথামুড়ি দিয়ে শুয়ে আছি। আগের রাতের বিভীষিকার কথা ভাবতে ভাবতেই চোখে পড়ল জানালায়। দুটি হাত। একবার উঠছে একবার নামছে। মাঝে মাঝে এদিক ওদিক হাত নাড়ছে। ভয়ে আত্মারাম খাঁচা হয়ে উঠল। এই বুঝি জানালা ভেঙ্গে ঢুকে গেলো। বোন বলল, ভয়ের কিছু নাই, এইতো বাবা এর মাঝে চলে আসবে। এই বলে বোন নিজেও যেন নিজেকে ভরসা দিচ্ছিলো। রাত যেন লম্বা হয়ে পড়ছে। বাবাও আসেনা। শেষমেষ দরজায় শব্দ। বাবা এলো। নাকি অন্যকিছু ! ভয়ে ভয়ে দরজা খুললাম। নাহ্ বাবাই এসেছে। ভয়টা অনেকটা কেটে গেলো। তারপর বাবাকে নিয়ে গেলাম জানালার কাছে। দুর থেকে দেখালাম হাত দুটি। বাবা জানালা খুলতে গেল। আমরা খারাপ কিছুর ভয়ে বারণ করতে করতেই বাবা চলে গেলেন জানালার কাছে। হাট করে খুলে দিলেন জানালা। আরে এতো জাম গাছের পাতা। আগের রাতে ঝড়ে জামের ডাল ভেঙ্গে পড়ে আছে জানালার পাশে। তার দুটি পাতাই বাতাসে দুলছিলো।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


