somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নৈশ শিকারী
জীবন সংগ্রামে হেরে যাওয়ার মাঝে কোনো বীরত্ব থাকেনা; তাই জীবনের এই যুদ্ধ ক্ষেত্রে সাহসীকতার সাথে লড়াই করার মাঝেই জীবনের প্রকৃত বীরত্ব লুকিয়ে থাকে, আর ভাগ্য সবসময় সাহসীদের পক্ষেই কাজ করে।

এখন প্রতি জিবি ৩জি ইন্টারনেট ডাটা পাচ্ছেন মাত্র ২০ টাকায় !! সাথে মেয়াদ ১ বছর !!!

১৫ ই জুন, ২০১৫ রাত ১:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এমন অবিশ্বাস্য শিরোনামে অনেকের চোখটি কপালে ওঠে যাওয়ারই কথা। আবার কেউ কেউ শিরোনাম দেখে ভাবছেন এটা একটা গাঁজা খুরি গল্প। হ্যাঁ যাহাই বলুন, গ্রাহকরা সচেতন হলেই বাংলাদেশে ইন্টারনেট প্যাকেজ বিক্রির জন্য আমার শিরোনামটিই হবে ভবিষ্যতে প্রোভাইডারদের ইন্টারনেট বিক্রির একমাত্র বিজ্ঞাপন জিঞ্জেল ।

এই মুহুর্তে দেশে মোবাইল ইন্টারনেটের সবচেয়ে কম রেটের ১ জিবির প্যাকেজের সবনিম্ন দাম ২৭৫+ ১৫%ভ্যাট। আর ছোট প্যাকেজ গুলোর মধ্যে গ্রামীণের প্রতি ১০ কিলোবাইট ১ পয়সা হারে ১জিবির দাম ১০ হাজার ২শ ৪০ টাকা। না হিসাব করে নিয়মিত এই দামেই আমরা সবাই নেট ব্যবহার করছি। আমাদের দেশের ইন্টারনেটের দাম বিশ্বের শীর্ষে থাকলে ও গতিতে আমরা সবার নিচে। কারণ ২০১৫ সালেও বাংলাদেশের জনগণ এখনও ১০ কেবিপিএস গতির ইন্টারনেট ব্যবহারে বাধ্য হচ্ছে । অথচ এখন আমাদের দেশে প্রতি জিবি নেটের উপযুক্ত দাম মাত্র ২০ টাকাই হওয়ার কথা ছিল। কারণ ইন্টারনেট প্রোভাইডার কোম্পানী গুলো সরকারের কাছে থেকে মেগাবিট স্পীডের প্রতি জিবি ডাটা ক্রয় করছে গড়ে মাত্র ১৩.৫৮ টাকায়। আর তা কিলোবাইট স্পীডে গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করছে গড়ে ৩৪৫ টাকার ও বেশি মূল্যে ! সত্যিই অবিশ্বাস্য এক ডিজিটাল ব্যবসা!

এই উচ্চহারে দাম দিয়েও আমার অত্যন্ত ধীর গতির (জিপিআরএস এবং ইডিজিই) ইন্টারনেট ব্যবহার করে প্রতিদিন আমাদের কোটি কোটি ঘন্টা মূল্যবান সময় নষ্ট করছি। অন্য হিসাবে ইন্টারনেট প্রোভাইডার কোম্পানী গুলো সরকার থেকে বর্তমানে প্রতি মেগাবাইট/সেকেন্ড ব্যান্ডউইডথ কিনছে ৪ হাজার ৮০০ টাকায় (২০১৩)।কিন্তু ১৯৯৬ সালে এ ব্যান্ডউইডথের দাম ছিল ১ লাখ ২০ হাজার টাকা আর ২০০৪ সালে ছিল ৭২ হাজার টাকায়। ওই সময়ে ইন্টারনেটের গ্রাহক মূল্্য যা ছিল এখন ৪ হাজার ৮০০ টাকায় ও তাই আছে। সরকার নেটের খরচকে গ্রাহকের হাতের নাগালে রাখতে ১৯৯৬,২০০৪,২০০৮, ২০০৯,২০১১.২০১১. ২০১৩ সালে দফায় দফায় ৭বার ব্যান্ডউইডথের দাম কমানো হলেও গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেটের দাম ১ বার ও কমেনি। বরং উল্টো নানা ধরনের প্যাকেজ সাজিয়ে গ্রাহকের পকেট কাটছে দেশের ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান গুলো।খরচ না কমিয়ে তারা কৌশলে নানা ধরনের প্যাকেজ কিংবা গতি বাড়ানোর মধ্যেই কার্যত সীমাবদ্ধ থেকেছে। আবার মাঝে মধ্যে গ্রাহকদের দাবিতে কৌশলে যেসব প্যাকেজ সাধারণত ব্যবহার করা হয় না সেগুলোর দাম কমিয়েছে অপারেটরগুলো।

প্রযুক্তি বিষয়ক ম্যাগাজিন কম্পিউটার জগতের এক পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, প্রোভাইডার কোম্পানী গুলো মাত্র ৪ হাজার ৮শ টাকায় ব্যান্ডউইডথ ক্রয় করলেও তা যে দামে বিক্রি করছে সে সংখ্যাটি আমরা পড়তে গিয়ে কেউ সঠিক উচ্চারণও করতে পারিনা। ইন্টারনেট যেমন গ্রামীণফোন তাদের টুজি নেট ৪ হাজার ৮শ টাকায় কিনে তা বিক্রি করছে, ৪৩,৩৫০X৬০,০০০ টাকায়। অন্যদিকে টেলিটক ৪ হাজার ৮শ টাকায় থ্রিজি কিনে তা বিক্রি করছে ২৪,০০০X২৮,০০০ টাকায়। এভাবে সবগুলো কোম্পানীই ৪ হাজার ৮শ টাকায় কিনে তা একই হারে সিন্ডিকেট আকারে বিক্রি করছে। মোবাইল অপারেটররা বিভিন্ন সময়ে স্বীকারও করেছে যে, তাদের নির্ধারিত ইন্টারনেট বিলের ব্যান্ডউইডথের খরচ ৪ শতাংশ। বাকিটা নাকি তাদের মেইনটেন্যান্স এবং অবকাঠামোতে ব্যয় হয়।

এদিকে দেশে, ইন্টারনেটের স্পিড ভয়াবহ অবস্থায় রয়েছে। তার মধ্যেও সারা দেশের ৯০% গ্রাহক টুজি ইন্টারনেট ব্যবহার করলেও গ্রামীণফোন গত ৩০ মাচ থেকে সকল টুজি প্যাকেজ বন্ধ করে দিয়ে গ্রাহকদের কে বেশি দামের ৩জি ডাটা কিনতে বাধ্য করছে। তারা দেশের কোন আইনের তোয়াক্কা না করে এবং ৩জি কভারেজ না দিয়েই গ্রাহকদের থেকে ৩জির টাকা নিচ্ছে। সত্যিই আমার স্বাধীন দেশে আছি! গ্রাহকদের অভিযোগ, গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেটের দাম কমানো বা স্পীড বাড়ানোর জন্য সরকারি উদ্যোগ লক্ষ করা যায় না। পরিসংখ্যান এবং অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায় আমাদের দেশের টাকা অনেকটা লুটপাট করেই নিয়ে যাচ্ছে বিদেশী এ কোম্পানী গুলো। তাদের কে সহযোগিতা করছে দেশে যারা প্রযুক্তির এ বিভাগটি দেখছে। আমার মতো গ্রাহকদের অভিযোগ আমাদের দেশের কিছু লোকই মূলত আমাদের কে শোষণ করতে বিদেশী এ কোম্পানী গুলোকে সাহায্য করছে।

আমাদের দেশে ইন্টারনেটের ইতিহাস: বাংলাদেশে প্রথম অফ-লাইন ইন্টারনেটের ব্যবহার শুরু হয় ১৯৯৩ সালে। ১৯৯৬ সালের ৬ জুন বাংলাদেশে সবার জন্য ইন্টারনেট ব্যবহার উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। সে বছরই বাংলাদেশ প্রথম ভিস্যাটের মাধ্যমে ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত হয়। তখন প্রতি এমবিপিএস ইন্টারনেটের জন্য খরচ হতো ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। কিন্তু তখন সরকারিভাবে বিটিসিএল কোনো ব্যান্ডউইডথ বিক্রি করত না। জিপিআরএস টেকনোলজি দিয়ে ২০০৪ সালে মোবাইল ইন্টারনেট চালু হয়। ২০০৫-এর শেষের দিকে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত হয়। ২০০৬ সালে জিপিআরএসের তুলনায় কিছুটা গতি সম্পন্ন EDGE সার্ভিস চালু করে গ্রামীনফোন।২০০৮ সালে ওয়াইম্যাক্স সেবা পরিচালনার জন্য লাইসেন্স পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অজের প্রথম ওয়াইম্যাক্স সেবা কিউবি প্যাকেজ চালু করে ২২ নভেম্বর ২০০৯ সালে।

মোট ইন্টারনেট ব্যবহারকারীঃ
গত ১ এপ্রিল ২০১৫ তারিখে দৈনিক কালেরকন্ঠ মোবাইল কম্পানি এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)র তথ্যের ভিত্তিতে জানায়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস শেষে দেশে ইন্টারনেট গ্রাহকের সংখ্যা ৪ কোটি ৩৪ লাখ ১৯ হাজার। এর মধ্যে প্রায় সবাই মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারী। ওয়াইম্যাক্স ব্যবহারকারী গ্রাহকের সংখ্যা ২ লাখ ১৫ হাজার। আর আইএসপি ও পিএসটিএনের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১২ লাখ ৪৫ হাজার। একই সময়ে ফেব্রুয়ারিতে মোবাইল ফোনের গ্রাহকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ২৬ লাখ ৫৭ হাজার।

আমাদের কথাঃ
দেশে এখন ইন্টারনেটভিত্তিক কনটেন্টের (অডিও, ভিডিও, লাইভ খবর- মিডিয়া) ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। ফলে ইন্টারনেট চাহিদাও বেড়েছে বহুগুণ। দুঃখের বিষয়, মোবাইল অপারেটর গুলো নিজেদের ইচ্ছে মতো প্যাকেজ তৈরি করে গ্রাহকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। অথচ এসব ব্যাপারে বিটিআরসি নীরব ভূমিকা পালন করছে। সরকার ব্যান্ডউইডথের দাম কমিয়েই দায়িত্ব শেষ করেছে। দেশের আইসিটি শিল্পের দ্রম্নত বিকাশ এবং দক্ষ কর্মী গড়ে তুলতে ব্রডব্যান্ড ও মোবাইল ইন্টারনেট সেবার খরচ সাশ্রয়ী, সেবাবান্ধব এবং সহজলভ্য করতে হবে। বিপরীতে ইন্টারনেটের গতি বাড়াতে হবে।

আমাদের দাবীঃ
দফায় দফায় ইন্টারনেট ব্যান্ডইউথের দাম কমলেও গ্রাহক পর্যায়ে কোন প্রভাব নেই। তাই দাবী আদায়ের জন্য সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে এবং ব্যবহারকারী কে জাগতে হবে। এখন প্রতি জিবি নেটের দাম মাত্র ২০ টাকা করাসহ নিম্নোক্ত দাবী পূরণ করতে হবে। দাবীসমূহ,
১. অতি শীঘ্রই ১ জিবি ডাটার দাম ২০ টাকা নির্ধারণ করতে হবে।
২.৩জি কভারেজ না দিয়ে ২জি এলাকায় ৩জির বিল নেওয়া যাবে না।
৩. ডাটার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও অব্যবহিত ডাটা পরের ডাটা প্যাকেজ চালু করার
সাথে সাথে যোগ করে দিতে হবে ।
৪. ১ জিবির মেয়াদ ১ বছর করতে হবে।
৫. ফেয়ার ইউস পলিসি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে।
৬.নুন্যতম গতি নির্ধারণ করে করে পূর্ণ গতির ডাটা দিতে হবে ।
৭. আনলিমিটেড নামে কোন বিজ্ঞাপন দেওয়া যাবে না।
৮. ফ্রি নামের কোন ডাটা অপার করা যাবে না। ( কারণ প্রতিটি ফ্রি অপার মানে নতুন প্রতারণা )
(সংগৃহীত)
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই মার্চ, ২০১৮ বিকাল ৪:১৬
১২টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সামু একটি ছোট নৌকা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:২৫



একটা ছোট নৌকা, পাল তুলে, পাড়ি দিচ্ছে -
অন্তহীন তারার রাস্তা পেরিয়ে।
পেরোচ্ছে গ্রহ, ধূমকেতু, ছুটন্ত আগুনের টুকরো,
দূরে কোথাও ধাক্কা লাগে, তারপর শব্দটা মিলিয়ে যায়।
ধীরে, খুব ধীরে এগোয় নৌকা;
তবু এগোয়।

নৌকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে ১০ টি বছর পার করলাম

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:০২



ব্লগে ১০ বছর পার করে দিলাম। কত সময় কেটে গেছে এখানে, কত পরিচিত মুখ রয়ে গেছে এখানে। তবুও ভালোবাসার বন্ধন যেন শেষ না হয়।

যে কবিতাটা দিয়ে ব্লগিং শুরু করেছিলাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিন্নাহকে জানতে হলে পাকিস্তান আন্দোলনের ইতিহাস জানতে হবে। পর্ব-১

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৩



পাকিস্তান সৃষ্টির বছরখানেক আগে ১৯৪৬ সালে বোম্বে শহরের দুই নামকরা পার্সি ডাক্তার বুঝতে পেরেছিলেন যে ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদ এবং আইনজীবী মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর আয়ু আর বেশিদিন নেই। ডা.... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবির কথা আমার মুভি উতল অপেক্ষা

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৪৫




আজ একটা নতুন খবর ভাগ করে নেই সবার সাথে। অনেক দিন থেকেই ভাবছিলাম, নিজের গল্প দিয়ে যদি নাটক বা সিনেমা করা যেত। ভাবনা এক সময় সত্যি হয়ে গেলো।
দু... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ ডিসেম্বর ১০-১৬: বিশ্ব বাংলাদেশকে নিয়ে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ছিল

লিখেছেন কলাবাগান১, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:১১


লিখা টির ইতিহাস ভিত্তিক ইনফো এআই থেকে সংগৃহীত

আমরা সবাই জানি যে ১৯৭১ সনের ১৬ই ডিসেম্বর বিকেলে পাকিস্হান হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পন করে মিত্রবাহিনীর কাছে। কিন্তু আমরা অনেকেই হয়তো জানি না,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×