somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

দূর দ্বীপবাসী
কথাই মানুষের প্রাণ। যতদিন মানুষ হৃদয় উজাড় করে কথা বলতে পারবে ততদিন মানুষ বেঁচে থাকবে।

Stop Rape

১৭ ই মে, ২০১৭ সকাল ৭:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দেশে যখনই দু চারটা ধর্ষণের ঘটনা ঘটে তখনই হয়তো ব্যবসায়িক স্বার্থে দু চারটা মিডিয়া সংবাদ পরিবেশন করে, পাব্লিক তা একটু আড়চোখে দেখে এবং সবশেষে সংবাদ হারিয়ে যায়।
মাঝখান থেকে উৎসাহ পায় ধর্ষকেরা।
প্রশাসনকে টাকা খাইয়ে সব সত্যকে মিথ্যা করে ধর্ষক পরিবার, কখনোবা ক্ষমতার জোরে, কখনো বা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ম্যানেজ করে সব ঘৃণ্যতাকে বৈধতা এনে দেয়।
কিন্তু থামে না ধর্ষিতা ও ধর্ষণের শিকার পরিবারের আহাজারি।
উল্টো ধর্ষিতার দায় তার পোশাক আর চালচলন।
ধর্ষিতাকে ডাকা হয় বেশ্যা আর বাজে মেয়ে বলে, হয়তো অপমান সহ্য করতে না পেরে নীরবে আত্মহত্যা করে কিংবা এলাকা ছেড়ে চলে যায়।
এভাবেই চলছে আমাদের ধর্ষণমনস্তাত্ত্বিক সমাজের ধর্ষণ ম্যানেজের আয়োজন।
কখনো বিয়ের শাড়িই পড়তে পারে না ধর্ষিতা, কারণ ধর্ষিতাকে কে ই বা বিয়ে করতে চায়।
আগে দেখতাম মানবজমিন পত্রিকায় প্রচুর ধর্ষণের খবর, তরুণ সমাজ সেসব সংবাদকে চটি গল্প ভেবে খুব হাস্যরস করতো এবং এটাকে একটা সিনেমার গল্পের রূপ দিতো।
মানবজমিনের সংবাদ কারো চোখেই পড়তো না।
আমি নিজ চোখে দেখেছি, কোন এক ধর্ষকের বাবা তার সন্তানের পক্ষে সাফাই গাইতে।
ধর্ষকের বাবার বক্তব্য ছিল ঠিক এরকম, 'আরে চ্যাংড়া পোলা, বয়সকাল, একটু আকটু ভুল করতেই পারে। আর আপনার মেয়েও তো কম যায়না, মধু যদি খোলা রাখে তবে মৌমাছি তো মধু খেতে আসবেই'।
সেদিন মনে হয়েছিল যে, ঐ পোলার ও উপযুক্ত বোনটাকে ওর সামনে কেউ ধর্ষণ করতে তবেই সে ব্যথা উপলব্ধি করতো।
এলাকায় থাকতে মেয়েটার বিয়ে হয়নি, বাইরে গিয়ে হয়তো পারে।
আবার দেখেছি কলোনিতে হতদরিদ্র রিকশাচালকের মেয়েকে ধর্ষণ করতে এক প্রভাবশালী কুকুরকে, যে ব্যাপারটা মাটি চাপা দিয়েছিল আরেক কুকুর জনপ্রতিনিধি যার প্রায়শই গমন ছিল বেশ্যালয়ে।
নীরবে পরিবারটি এলাকা ছেড়ে চলে যায় অনেক দূরে।
আরেকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে,
মেধাবী ছাত্রী, শিক্ষিত পরিবারের সংখ্যালঘু মেয়ে, স্বপ্ন ছিল অনেক বড় কিছু হওয়ার।
এক মুসলিম বখাটের দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়।
সংখ্যালঘু পরিবার মানসম্মান আর মেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবে নীরবে চেপে যায় ব্যাপারটি।
শুনেছি পুলিশি তদন্তের সময় মেয়েটি চোখের জল আটকে বলেছিল, আমি ধর্ষিত হইনি, আবেগের বশে শারীরিক সম্পর্ক করেছি।
মাধ্যমিকের গন্ডি পেরোনোর আগেই তার কপালে জুটে সিঁথির সিদুর।
এভাবে বহু বোনকে দেখেছি নীরবে যাতনা ভোগ করতে, জীবন ছেড়ে পালাতে, নির্বাসিত হতে।
কত সংখ্যালঘু মেয়ে এদেশে ধর্ষিত হয়ে ভারত পালিয়েছে, কারণ এদেশে অপবাদের মুখে সে টিকবে না, তার বিয়ের ফুলও ফুটবে না।
আজকে শুধু ধর্ষণের জন্য পোশাক, চালচলন,আর সংস্কৃতিতে দোষারোপ করে চেপে যায় ধর্মান্ধ আর ক্ষমতাধর নারী ভোগকারী গোষ্ঠী।
পুরুষের পশুত্ব আর যৌনাঙ্গের কোন ত্রুটি নেই।
যারা ধর্ষণের বিরোধিতা করে তারা যদিও সূফী হয় তাদের কপালে জুটে নারীবাদী, কমিউনিস্ট, রাষ্ট্রবিরোধী, এমনকি এথিয়িস্টের তকমা।
ধর্ষকরা যখন মঞ্চে উঠে সততার সনদ স্লোগানে কিনে নেয়, তখন ভাবি এ দেশটা কি আসলেই ভালো মানুষের দেশ।
আমরা চিন্তায় বামপন্থী ডানপন্থী কিংবা মধ্যপন্থী, বাঙালি যাই হই না কেন আমরা আজো মানুষ হয়ে উঠতে পারি নি।
আমরা বিপ্লবের ফসল ঘরে তুলতে বেপরোয়া কিন্তু আমাদের মা বোনদের চোখে মুখে ভাসমান কষ্ট আর হিংস্রতার ফসলের ছবি।
যখন পূর্ণিমাকে ধর্ষণ করেছিল আমরা পাত্তা দেইনি, বলেছি এটা নিয়ে হৈ চৈ বামপন্থী আর সুবিধাভোগীদের কাজ, একে একে ঘটনা ঘটতে লাগলো আর আমরা পোশাক আর চলনের দোহাই দিয়ে একই যুক্তি দেখিয়েছি।
সর্বশেষ তনু আর আফসানা এবং অতঃপর কতজন নাম অজানা লালসার শিকার হলো, আমরা নীরব রইলেম।
যারা এ ব্যাপারে কথা বললো তাদের কমিউনিস্ট, ফেমিনিস্ট বলে গালি দিলাম, বাতুল বললাম।
আজ হযরত আলী ও আয়শার পক্ষে যখন আমরা বলছি, দু দিন আগের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীর কথা বলছি তখনও একই যুক্তি এবং একই তকমা জুটতেছে।
আজ যারা হাসি ঠাট্টা করতেছেন তাদের কাছে দুটো প্রশ্ন,
পাঁচ বছরের মেয়েকে ধর্ষণের জন্য দায়ী পোশাক আর সংস্কৃতি?
কাল যখন আপনার বোন বা মেয়ে কারো লালসার শিকার হবে তখনও কি আপনি হাসবেন?

সবকথার মূল কথা, ধর্ষকদের ক্ষমতা দেখে ভয় পাওয়ার কিছু নেই, আমরা যদি জাগি সমন্বিত ভাবে সব অসম্ভব সম্ভব হবে।
'আমরা যদি না জাগি মা কেমনে সকাল হবে,
তোমার ছেলে উঠলে গো মা রাত পোহাবে তবে'।
Raise your voice against rape & racism.
United we stand, devided we fall.
Culture & dress are not liable for rape.
Rape is a crime of patriarchal social system.
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গানটি বন্ধুত্বের, গানটি শান্তির প্রতি ভালোবাসায় সিক্ত

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৪ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৪:০০

আমেরিকা ও ইরানের শান্তি চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে এই গানটি বুনেছি, নিজের বেসুরো গলা 'ব্যবহার' করেই।
এবারে কি ভারত - বাংলাদেশ সীমান্তে শান্তির আলো দেখা দেবার কথা?



বন্ধু হে অনেক... ...বাকিটুকু পড়ুন

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল || একটা রোমান্টিক গান

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২৪ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল
ওওও
বহুবার সে তাকিয়েছিল
আমি ভাবতে চেয়েছি
আমাকে তার ভালো লেগেছিল



সে দেখতে এতটা সুন্দরী
তার উপমা যেন সে নিজেই
মাঝে মাঝে অধরে তার ফুটছিল হাসি
মুগ্ধতায় আমি হারিয়েছিলাম খেই
তখন মিহিসুতোর মতো বৃষ্টিরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৪



“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

এই বক্তব্যের মূল তাৎপর্য নিহিত রয়েছে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক দর্শনে। গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো জনগণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মের অবমাননা রুখতে গিয়ে নিজের ধর্মকেই ছোট করছেন না তো?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৩:৩৫


সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ধর্ম অবমাননার আবার একটা ঘটনা ঘটলো। ২৩ জুন ২০২৬। প্রিন্স রায় দীপ্ত নামের পঁচিশ বছরের একটা ছেলে নবীজিকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×