somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

দূর দ্বীপবাসী
কথাই মানুষের প্রাণ। যতদিন মানুষ হৃদয় উজাড় করে কথা বলতে পারবে ততদিন মানুষ বেঁচে থাকবে।

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে হত্যা : মানবতার প্রহসন

০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৭ সকাল ৮:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে বর্তমানে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্রের উচিত মিয়ানমারকে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সার্বিক দিক থেকে বর্জন করা এবং চাপ সৃষ্টি করা।
হাতিসংঘের কাছে সমাধান চেয়ে কোন সুফল মিলবে না, কেননা হাতিসংঘ শুধু মার্কিন মুলুকের পা চেটে যেতেই পারবে।
এক্ষেত্রে মালদ্বীপের ভূমিকা প্রশংসনীয়।
মালদ্বীপ ইতোমধ্যে মিয়ানমারের সাথে সব সম্পর্ক ছিন্ন করেছে।
তুরস্ক সুদূর ইউরোপ থেকে এসে আজ রোহিঙ্গা সমস্যার ব্যাপারে কথা বলছে, সেটা সত্যিই অভূতপূর্ব ব্যাপার। ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের তৎপরতাও গ্রহনযোগ্য।
তবে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান স্থায়ীভাবে প্রয়োজন।
বাংলাদেশ অতীতকাল থেকে এ পর্যন্ত যত রোহিঙ্গাদের মানবিক কারণে আশ্রয় দিয়েছে তারা কিন্তু কখনো ফিরে যায় নি।
এতে রোহিঙ্গারা কিছুটা স্বস্তি পেলেও বিশাল সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে বাংলাদেশ। একদিকে বাংলাদেশের আয়তনের তুলনায় অধিক জনসংখ্যা, বেকারত্ব, দারিদ্রতা ও অন্যান্য সমস্যা, তার উপরে শরণার্থী চাপ খুবই মুশকিলে পড়েছি আমরা।
তাছাড়া ভারতীয়সহ আফ্রিকার অনেক জনগোষ্ঠী অবৈধভাবে বাংলাদেশে বসবাস করতেছে, এটাও বিশাল সমস্যা।
রোহিঙ্গাদের অনেকেই বেকার সমস্যায় জর্জরিত বাংলাদেশে কর্মসংস্থান না করতে পেরে স্মাগলিং, সিরিয়াল কিলিংসহ বিভিন্ন অপরাধে সম্পৃক্ত হচ্ছে এবং বাংলাদেশী জাতীয়তা পরিচয়ে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে বিভিন্নভাবে বাংলাদেশের সুনাম ক্ষুণ্ণ করতেছে।
এবছরও লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে, কিন্তু এদের ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।
উইকিপিডিয়া ও অন্যান্য তথ্য উপাত্ত অনুযায়ী বর্তমান এক লক্ষ ছাড়াও বাংলাদেশে দশ লক্ষ রোহিঙ্গা মুসলিম বিভিন্ন সময়ে এসে আশ্রয়ের নামে স্থায়ীভাবে বসবাস করতেছে, ঠিক দুই লক্ষ রোহিঙ্গা লোক পাকিস্তানে আছে, পাঁচ লক্ষ সৌদি আরবে, লক্ষাধিক থাইল্যান্ডে,অর্ধ লক্ষ ভারকে, আট লক্ষ আরাকান রাজ্যে বসবাস করে। তাছাড়া মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, নেপাল, ইন্দোনেশিয়াসহ পৃথিবীর অনেক দেশে রোহিঙ্গারা বসবাস করতেছে।
রোহিঙ্গাদের দমন পীড়ন প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে চললেও ১৯৩৮ সালে জেনারেল অং সান সামরিক কায়দায় ব্রিটিশদের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে ক্ষমতা গ্রহনের পর এ দমন পীড়নের মাত্রা বহুগুণে বেড়ে যায়। প্রথম দিকে এটা মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সমস্যা হলেও পরবর্তীতে এটা আন্তর্জাতিক সমস্যায় রূপ নেয়।
মিয়ানমারের পূর্ব দিকে মঙ্গোলিয়া ও চীন এবং উত্তরে ভারত এবং দক্ষিণে ভারত মহাসাগর থাকায় রোহিঙ্গা মুসলমানদের সম্পূর্ণ চাপ বাংলাদেশের ঘাড়ের উপর পড়তেছে।
মিয়ানমারের মোট জনসংখ্যার ১০% মুসলিম, যার মধ্যে রোহিঙ্গা হচ্ছে ২%।
মুসলমানদের সাথে বার্মিজ বৌদ্ধদের জাতিগত সংঘাত থাকলেও, স্বাধীন রাজ্য আরাকানের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী স্বাধিকার চাওয়ায় তাদের উপরে দমন পীড়নের মাত্রা অত্যধিক। দীর্ঘদিন সামরিক শাসনের কবলে থাকা মিয়ানমার অং সান সূচির হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর বা নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রে ফিরতে পারেনি। এ দিক থেকে গণতান্ত্রিক জনগোষ্ঠীও এ ব্যাপারে কিছু বলতে পারতেছে না। এখনো মিয়ানমারের ক্ষমতা অঘোষিত ভাবে সামরিক শাসনের কব্জায়।
রোহিঙ্গা সংকটে বিশ্বজনমত ও বিশ্ব সংস্থাগুলোর প্রতি বাংলাদেশের চাপ প্রয়োগ অনিবার্য। চাইলেই বাংলাদেশ ব্যক্তিগত বিরোধ না থাকায় অভ্যন্তরীণ ইস্যু নিয়ে যুদ্ধে জড়াতে পারে না। তাছাড়া মিয়ানমারের সমর্থনে রয়েছে ভারত, চীন ও ইসরাইলের মত ক্ষমতাধরেরা।
তবে আমাদের আমজনতার করণীয় রোহিঙ্গাদের সাধ্যমত সাহায্য করা এবং মিয়ানমারের পর্যটন, পণ্যকে বর্জন করা।
ইয়াবার মত মাদককে যথাসম্ভব বর্জন করা এবং এর ব্যবহার প্রতিহত করা। তবে আমাদের অভ্যন্তরীণ বসবাসরত বৌদ্ধদের প্রতি ঘৃণা বা সহিংস মনোভাব পোষণ একদমই করা অনুচিত।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গানটি বন্ধুত্বের, গানটি শান্তির প্রতি ভালোবাসায় সিক্ত

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৪ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৪:০০

আমেরিকা ও ইরানের শান্তি চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে এই গানটি বুনেছি, নিজের বেসুরো গলা 'ব্যবহার' করেই।
এবারে কি ভারত - বাংলাদেশ সীমান্তে শান্তির আলো দেখা দেবার কথা?



বন্ধু হে অনেক... ...বাকিটুকু পড়ুন

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল || একটা রোমান্টিক গান

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২৪ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল
ওওও
বহুবার সে তাকিয়েছিল
আমি ভাবতে চেয়েছি
আমাকে তার ভালো লেগেছিল



সে দেখতে এতটা সুন্দরী
তার উপমা যেন সে নিজেই
মাঝে মাঝে অধরে তার ফুটছিল হাসি
মুগ্ধতায় আমি হারিয়েছিলাম খেই
তখন মিহিসুতোর মতো বৃষ্টিরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৪



“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

এই বক্তব্যের মূল তাৎপর্য নিহিত রয়েছে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক দর্শনে। গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো জনগণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মের অবমাননা রুখতে গিয়ে নিজের ধর্মকেই ছোট করছেন না তো?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৩:৩৫


সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ধর্ম অবমাননার আবার একটা ঘটনা ঘটলো। ২৩ জুন ২০২৬। প্রিন্স রায় দীপ্ত নামের পঁচিশ বছরের একটা ছেলে নবীজিকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×