পাড়ার অনেকের মতই ওরাও ব্যবসা করে। তিন ভাইয়ের মোট পুজিঁ ১৫০০ টাকা, মায়ের দেয়া। বড় ভাইয়ের বয়স তের-চোদ্দ আর ছোটটার নয়-দশ হবে। বাজার থেকে মাল কিনে অন্য খানে বিক্রি করে তারা নিজেদের ও পরিবারের খাবার সংগ্রহ করে।
'সারে অনেক লাভ ৫০০ টাকা বস্তা কিনে আত্রাই নিয়ে গেলে ১৫০০ টাকাতে বিক্রি করা যায়, খরচ দু ' তিন 'শ টাকা হলেও লাভ বেশী হয়'- বলছিল সুজন। হিলি স্টেশনে আন্তনগর তিতুমির (রাজশাহী গামী) থামতেই আরও অনেকের সাথে সুজন উঠেছিল তার মালামাল সহ। আমার সিটের নিচে মাল রাখতেই তার সাথে আলাপ। অন্য দু'ভাই ও তাদের মালামাল প্লেস করতে ব্যস্ত।
এভাবে মাল টানিস ভয় করে না ? -- 'ভয় কিসের, গার্ড, পুলিশ সবাই পয়সা নেয়যে!'
-কত ?
-৫০ টাকা করে প্রতি বস্তা।
-যেদিন চেক হয় ?
- জানালা দিয়ে মাল নিয়ে পালাই।
-কোথায় মাল কিনিস?
-ভারতের বাজারে। পাড়ার অন্য লোকের সাথে যাই, মাল কিনে চলে আসি। বর্ডারে টাকা দিয়ে পার হতে হয়।
-ট্রেন তো এখানে থামেনা। উঠিস কিভাবে?
-দুপুরে পাড়ার লোকেরা সৈয়দপুর মাল নিয়ে যায়, ফেরার পথে হিলিতে ভ্যাকাম টানে, আমরা উঠে পড়ি --- সহজ সরল স্মীকারোক্তি সুজনের।
আলাপের এ পর্যায়ে অংশ নেয় মমিন। রাসেদ দাড়িয়ে থাকে দুরে। স্কুলে যাসনা?
- না । -মমিন জবাব দেয়।
-ছোটভাইকেও নিয়েছিস, কিছু হবে না ?
- না। কি করবো, আব্বা কাজ করতে পারে না। আমরা তিনভাই একসাথে ভারত থেকে মাল কিনে আনি। আত্রাই মামার বাড়ী ওখানে গিয়ে মাল বিক্রি করি। তবে জয়পুরহাটেই বেশী বেচী।
- আজ কি মাল এনেছিস?
- পলিথিন ব্যাগ।
-কত দিয়ে আনলি?
-১১০ টাকা। জয়পুরহাটে ১২০ টাকা কেজি বিক্রি হবে।
জয়পুরহাট চলে আসে দু'ভাই সিদ্ধান্ত নিতে পারেনা কোথায় মাল বেচবে-- জয়পুরহাট নাকি আত্রাই। ট্রেন ছাড়বো ছাড়বো অবস্থাতে নেমে যাবার সিদ্ধান্ত হয়। হতেই যেটুকু দেরি।
কিছু বুঝো ওঠার আগেই দেখি জানালা পথে সমাল সুজন হাওয়া, বড়টাও তার পিছু নেয়। সাথে সাথে ছোটভাই রাসেদ। জানালা পথে তাকিয়ে দেখি, হলুদ কাপড়ের পোটলা মাথায় দ্রুত দৌড়ে পালানো তিন ভাই। বুঝতে পারলাম কিভাবে জানালা দিয়ে তারা মাল নিয়ে পালায় কিন্তু বুঝতে পারিনা এভাবে তারা পালাচ্ছে কোথায়....তাদের গন্তব্য কোনখানে .... জীবন বাজী রেখে এভাবে আর কতদিন?
ঘটনা ০৬ই মার্চ ২০০৯, বিকাল ৫.৩০ থেকে তিতুমির এক্সপ্রেস ট্রেনে।
** ছবিতে সুজন।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই মার্চ, ২০০৯ রাত ১২:১৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


