আজ মনে পড়ে সেই বিজয় দেখার অপেক্ষা । ডিসেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহেই বুজে ফেলেছিলাম যে, আমরা বিজয় অচিরেই দেখবো তাই মনে খুব আশা যে কখন আসবে সেই দিনটি । ধীরে ধীরে এসে যাচ্ছে সেই দিনটি তাই পাওয়ার আশায় খুব টেনশনে আছি আমরা , মনে মনে বলছি বিজয় এলে কত না আনন্দ হবে বা করবো । এসে গেল ১৫ তারিখ এবং ওইদিন রাতেই আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম আগামীকাল আমরা সবাই মিলে বিজয় মিছিল নিয়ে যাবো শহরে । আমাদের গ্রাম থেকে শহরের দূরত্ব প্রায় ১০/১২ কিলোমিটার । সকাল হতে হতেই আমরা সবাই প্রস্তুত মিছিল নিয়ে শহরের দিকে যাওয়ার জন্য , তখন আমাদের সকালের খাওয়ার কথাউ মনে নেই। মিছিল শুরু হোল সকাল ৯ টায় , শহরে যাচ্ছি আমরা বিজয়ের উম্মাদনা নিয়ে একদল মুক্তিযোদ্ধা ও বিজয়কামী মানুস , সে কি আনদ , কতদিন পরে যাচ্ছি শহরে মুক্ত মনে স্বাধীন ভাবে , সে আনন্দ ও উল্লাস এর কথা বলে এখন বুজানো যাবেনা । চলছে পদযাত্রা সহ মিছিল আর শ্লোগান , কাচা রাস্তা , মানুষের হাটার জন্য ধুলায় ভরে যাচ্ছে গায়ে/ মুখে , যেন মনে হচ্ছে আমদের গায়ে ধুলায় আবরন পড়ে যাচ্ছে । সকাল ১০/ ১১ টায় আমরা মিছিল নিয়ে শহরের সার্কিট হাউস কাছে পৌঁছে গেলাম , সেখানেই আমাদের শেষ গন্তব্যস্থল , সেখানেই আছে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন আমাদের কমান্ডার বাবু ভাই , মেছের ভাই , দুলাল ভাই সহ আরও অনেকেই , তাদের সেখানেই বাড়ী এবং পাঁশেই সার্কিট হাউস সেখানেই থাকতো পাক সেনারা । সেখানেই ছিল অভিযান নামে ক্লাব সেই ক্লাব তৈরি করেছিলেন বাবু ভাই হেজা ভাই । সেই অভিযান ক্লাবে আমরা উঠলাম সবাই , তারপর দেখা গেলো সার্কিট হাউসের ভিতরে একজন আহত পাক সেনা পড়ে আছে , তাকে ফেলেই হয়তো তার দলের অন্য সেনারা পালিয়েছে । পরে আমাদের কেউ কেউ গিয়ে তাকে ধরে আনা হোল এবং উর্দু কথায় প্রান ভিক্ষা চাচ্ছে তখন কি তাকে কেউ প্রান ভিক্ষা দেয় যেহেতু তাদের ভিবীশিকাময় অত্যাচার এর কারনে আমরা ৯ টি মাস ঘর ছাড়া , আমদের মা / বোনদের ইজ্জত লুটেছে , ঘর / বাড়ী পুড়িয়েছে ঠাণ্ডা মাথায় সুতারাং তাদের কাউকেই ছাড় দেউয়া বা প্রান ভিক্ষা দেবার কোনও মন মানসিকতাই ছিলনা , পরে তাকে ব্যানট চার্জ করে হত্যা করলো ।দুপুরে আমরা অভিযান ক্লাবে খিচুড়ি খেলাম । কেউ কেউ ঐ ক্লাবে রাতে ছিল , আবার কেউ বাড়ী ফিরেছিল । ক্লাবে ভিতরে মেজেতে বিছানো ছিল খড় , সেই খড়ের উপর শুয়েই রাত্রি যাপন । সে কি মজার ও আনন্দের তা ভাষায় প্রকাশ করা যায়না কারন আমরা ১৬ ডিসেম্বরের বিজয়ের আনন্দে উল্লাসিত ।
আলোচিত ব্লগ
বিশ্ব নিয়ন্ত্রণের এই সুযোগ কি আরেকবার আসবে? বা তারাই-কি এটা হাত ছাড়া করবে???
ইরানী নেতা খামেনি শহীদ হওয়ার পরে ইরান কি বলেছিল মনে আছে???
ইরান কইছিলো, ইরানের এই অবস্থার জন্য যারা দায়ী সেই বেবাক দেশকে রাস্তায় এনে দাঁড় করানো হবে।
প্যান্ট খুলে ছেড়ে দিবে-(এটা আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন
কোন কিছুর অস্তীত্ব বিহীন মহাশূন্যে অস্তিত্বের প্রক্রিয়া কি ছিল?

কোন কিছুর অস্তীত্ব বিহীন মহাশূন্যে অস্তিত্বের প্রক্রিয়া হলো উদ্ভব। কারণ সৃষ্টি বা তৈরী কারক না থাকা। তাতে কী উদ্ভব হবে এটা অনিদৃষ্ট। কারণ এটা নিদৃষ্ট করার কেউ... ...বাকিটুকু পড়ুন
মক্কা থেকে বদর: মুসলিম ভ্রাতৃত্বের ভূরাজনীতি

মুসলিম বিশ্বে ঐক্যের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। অন্তত চুক্তিগুলোর নাম শুনলে তেমনটাই মনে হয়। মক্কা ও বদর। মুসলিম ইতিহাসের দুটি পরিচিত নাম। নাম শুনে মনে হতে পারে, বহুদিনের বিভেদ... ...বাকিটুকু পড়ুন
ধর্মোন্মাদদের কল্পিত বাস্তবতা: "দি ম্যাট্রিক্স" এবং নীল বড়ি

বাংলাদেশ ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গিদের কবলে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধম্যের কল্যানে এই ধর্মোন্মাদনা দাবানলের মতো সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে।
ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে, কদিন আগে সাতক্ষীরায় একদল ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গি ওয়াহিদুজ্জামান শামীম... ...বাকিটুকু পড়ুন
যারা ব্রয়লার মুরগী খাবেন সবাই সমকামী হয়ে যাবেন

ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।