1. নারী যখন মা - মা যখন নারী
আমি ব্যাক্তিগতভাবে নারী এবং মা'কে দুইটা আলাদা সত্ত্বা হিসেবে কল্পনা করতে ভালোবাসি । আসলে মা'য়ের সাথে কোন কিছুরই তুলনা হয়না । মা'য়ের সাথে সন্তানের সম্পর্ক যদি কেউ একটু চিন্তা করে তাহলে সে খুব সহজেই দেখতে পাবে সেই সম্পর্কের উৎস কত গভীরে । বাবাতো বীজ বপন করেই মুক্ত । কিন্তু ভেবে দেখুন মা'য়ের কথা । 10 মাস শরিরের অংশ হিসেবে ধারন করেন মা । আমি জানিনা, যে সন্তান ধারন করেনি, সে কখনও এই সময়টা নিয়ে ভাবে কি না । এই সময়টয় মা'কে নিজের অন্য যে কোন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের চাইতে সেই বিশেষ অংশটার প্রতি অনেক অনেক বেশি "কেয়ার" নিতে হয় । প্রতিটা সেকেন্ড, প্রতিটা মিনিট, প্রতিটা ঘন্টা মা'কে তার গর্ভজাত সন্তানের সুস্থতা সম্পর্কে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হয় যতক্ষন না সেই সন্তান ভুমিষ্ট হয় । আর প্রসব বেদনা, সেতো একমাত্র মা'য়ের পইে সহ্য করা সম্ভব । আমি ভেবে অবাক হই, এত কষ্ট জেনেও মা সন্তান ধারন করেন ! আর সন্তান ভুমিষ্ট হওয়ার সাথে সাথেই মা হয়ে যান নারী থেকে আলাদা এক সত্ত্বা যার নাম জননি ।
তারপর সন্তান প্রতিপালনের এক সুদীর্ঘকাহিনি যেখানে শুধু একটাই নাম, "মা, মা আর মা" । সন্তানের শীয়রে রাত জাগেনি এমন কি কোন মা আছেন ? সন্তানের ব্যাথায় চোখের জল ফেলেনি এমন মা'য়ের কথা কি কেউ কখন শুনেছে ? সন্তানের অপেক্ষায় ভাতের থালা নিয়ে বসে থাকেনি এমন মা এই পৃথিবীতে বিরল ।
মা মাতৃত্বের এক অপুর্ব নিদর্শন । তাই নারী হয়েও মা সম্পুর্ন এক আলাদা সত্ত্বা ।
2। নারী যখন বোন - বোন যখন নারী
ভাই'য়ের সঙ্গে বোনের সম্পর্ক এক পবিত্রতার বন্ধনে বাঁধা । আদর, স্নেহ, মমতা আর ভালবাসাই হচ্ছে এই সম্পর্কের ভিত্তি । ভাই-বোনের মধ্যে এক আত্মিক সম্পর্ক থাকে যা আর কোনও সম্পর্কের সাথেই তুলনা করা চলে না । বড় বোন কে তো বলা হয় মা'য়ের সমান । যার মা নেই শুধু বড় বোন আছে সে জানে হৃদয় উজার করা ভালোবাসা দিয়ে বোন মা'য়ের অভাব দূর করার কি প্রানান্ত চেষ্টাটাই না করেন । আর এই বোনই হচ্ছে নারী'র আর এক মমতাময়ী রূপ ।
3। নারী যখন স্ত্রী - স্ত্রী যখন নারী
স্ত্রী'কে বলা হয় স্বামি'র অর্ধাঙ্গিনী । আর একথা থেকেই স্বামি-স্ত্রী'র সম্পর্ক অাঁচ করা যায় । এই সম্পর্কটাকে খুব সরল সম্পর্ক যেমন বলা চলে, ঠিক তেমনি খুব জটিল একটা সম্পর্কও বলা যায় । সরল এই অর্থে যে, একই ছাদের নিচে পাশাপাশি-জড়াজড়ি করে ভালোবাসা আর স্বপ্ন নিয়ে যে দুজন মানুষ বাস করে, তারা স্বামী এবং স্ত্রী । তাদের সম্পর্কের শুরু হয় এই মন্ত্র দিয়ে, "[ইংলিশ]বি ষরাব ঃড়মবঃযবৎ ্ ফরব ঃড়মবঃযবৎ[/ইংলিশ"] । আর স্বামি-স্ত্রী'র সম্পর্ককে জটিল একটা সম্পর্ক বলা চলে এই অর্থে যে, এ এক দারুন স্বার্থের সম্পর্ক । শরির এখানে প্লে করে মেজোর রোল । সেখানে অফুরন্ত ভালোবাসা থাকতে পারে, থাকতে পারে আত্মার টান, কিন্তু তারপরেও সেখানে থাকে স্বার্থের টানাপোরেন, বেক্তিত্বের সংঘাত, লু ক্কাইত হতাশা আর না পাওয়ার কষ্ট ।
স্বামি-স্ত্রী'র সম্পর্কে এটা একটা নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার । কিন্তু তারপরেও আজ যে স্বামি কাল সে বাবা আর আজ যে -স্ত্রী কাল সেই মমতাময়ী মা । আর সেই মমতাময়ী ম'য়ের নারী রূপই হচ্ছে স্ত্রী ।
4। নারী যখন কন্যা - কন্যা যখন নারী
পিতা-মাতা'র সাথে কন্যা'র সম্পর্ক অনেকটা সুন্দর স্বপ্নের মত কিংবা তার চাইতেও মধুর । সুন্দর একটা স্বপ্নের মধ্যে যেমন মহিত হয়ে, বিভোর হয়ে থাকতে ইচ্ছে করে, পিতা-মাতাও তেমনি আদর, যত্নআর ভালোবাসায় কন্যাকে মহিত করে রাখেন । দরীদ্্র পিতা-মাতার কাছে সে স্বপ্ন হয়ত রঙিন না ও হতে পারে, কিন্তু ভালোবাসার তাতে কোন অভাব হয় না ।
আসলে সন্তান মাত্রই পিতা-মাতার নয়নের মনি । পিতাতো কন্যার ভিতর দিয়ে তার জন্মদাত্রী মা'কেই দেখতে পান । আমদের ধানসিঁড়ির, "মা, আমার জুনিয়ার মা" তার উৎকৃষ্ট উদাহরন । আর নারী কন্যার ভিতর দিয়ে এক অনন্য রূপ নিয়ে ধরিত্রীতে পদার্পন করেন ।
***নারী এভাবেই হাজারো রূপে রূপবতী ।
(লেখাটা আর একটু সময় নিয়ে লিখলে হয়ত আর একটু আবেদন সৃষ্টি করতে পারতো । কিন্তু সময় সল্পতায় খুব একটা গুছিয়ে লিখতে পারিনি । নারী'র প্রকৃত রূপ ধারন করতে পারিনি লেখনীর ভিতরে । বিভিন্ন ধরনের ভুলও হয়েছে বিভিন্ন জায়গায় । তাছাড়া আমার লেখার দৌড়তো আপনারা জানেনই ঃ-))
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই মার্চ, ২০০৬ রাত ১১:২৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



