ইদানিং কিছু বেশ কিছু মানুষের সাথে আমার সম্পর্কের চরম অবনতি হয়েছে। দ্বায়িত্ববোধের (এটাকে একধরণের কাণ্ডজ্ঞানও বলা যায়) প্রশ্নে তাদের কার্যকালাপ আমার কাছে প্রশ্নবোধক।
ধরা যাক, "ক" আমাকে ওয়াদা দিলেন, আগামী দুই ঘণ্টার মধ্যে অমুক কাজটির (কাজটি "ক" এর স্বার্থসংশ্লিষ্টও বটে) ব্যাপারে খোঁজ খবর নিয়ে আমাকে জানাবে। দেখা গেল দুই ঘণ্টা বাদ দিয়ে দুই দিনেও তার খবর নাই। ফোন করলে হয় মোবাইল বন্ধ, নয়ত রিসিভ করছেনা।
"খ" সকাল ১০টায় আমাকে ফোন করে জানালেন দুপুর একটা/দুইটার দিকে তিনি আমার জন্য পল্টন অপেক্ষা করবেন তারই ব্যবসায়িক কাজে সহযোগিতা নেয়ার জন্য। পৌনে দুইটার দিকে পল্টন পৌঁছে চারবার ফোন দেওয়ার পর তিনি রিসিভ করে জানালেন যে, তিনি এখন নারায়ণগঞ্জ।
"গ" খুব স্নেহের এবং একান্ত প্রিয়ভাজন। দীর্ঘসময় পরে ঢাকা এসেছে। সন্ধ্যা ছয়টায় আমার বাসায় (মান্ডা, মুগদা) আসার কথা। ছয়টা... সাতটা... আটটা... নয়টা... (ঢাকা শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথা চিন্তা করতেই টেনশনে আমার মাথা খারাপ। আমি শুধু দোয়া করছিলাম সবকিছুর বিনিময়ে হলেও ও যেন বেঁচে থাকে), ততক্ষণে ঢাকায় তার পরিচিত সবার কাছে আমার ফোন চলে গেছে। সাড়ে নয়টায় তার এক বন্ধু ফোন করে জানালো সে এখন ফার্মগেটে এবং তার মোবাইলে চার্জ নেই।
এই তিনজন এমন ব্যক্তি যাদের ক্ষমতার উপর আর দশজন মানুষ চোখ বন্ধ করে আস্থা রাখতে পারে। সামান্য কান্ডজ্ঞান আর দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে মানুষের এত কষ্ট হয় কেন আমি বুঝিনা। সময় থাকতে একটু কষ্ট করে বললেই হয়, "ভাই স্যরি আমি পারছিনা অথবা পারবনা অথবা আমার ইচ্ছা নাই পারলেও করবনা।" দুর্ভাগ্যজনক ব্যাপার হচ্ছে, এরকম ঘটনা অহরহ ঘটছে যা আমি ইদানিং কেন যেন সহ্যই করতে পারছিনা। তিনটা ঘটনার কোনটার পরেই আমার মেজাজের ভারসাম্য ধরে রাখা অসম্ভব ছিল এবং আমি পারিওনি। যার ফলে তারা আমার রূঢ় প্রতিক্রিয়ায় তারা আমার কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।
আমি বোধহয় আগামী দুয়েক বছরের মধ্যে পুরোপুরি সমাজচ্যুত হয়ে যাব।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


