somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কিছু বোকা শব্দ ও একটি চিঠি

০৫ ই মার্চ, ২০১৫ রাত ১২:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রতি বাউন্ডুলে বালক,

ক্ষণে ক্ষণে মনে হচ্ছে আজকের দিনটা জীবনে না আসলে খুব ভাল হত, কিন্তু পরক্ষণেই মনে হচ্ছে , নাহ ভালই হয়েছে। আজকের দিনটা না আসলে সত্যিটা আমি জানতে পারতাম না। হয়তো জানতাম কিন্তু আরও পরে। তারচেয়ে বরং এই ভাল।
ঘর অন্ধকার। রুদ্র'র কবিতার ভাষায় বলতে গেলে এক গ্লাস অন্ধকার হাতে নিয়ে বসে আছি। বেশ আয়োজন করে তোমায় চিঠি লিখতে বসেছি টেবিল ল্যাম্পের আলোয়। অন্ধকার ঘরের চার দেওয়ালে আলো ছায়ার খেলা খেলতে খেলতে নিজের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে সে। পাশে রাখা টি পটে রয়েছে লেবু দেওয়া লাল চা, জানই তো আমি দুধ চা খাওয়া ছেড়ে দিয়েছি। জানালা খুলে দিয়েছি, আকাশে চাঁদের ঘ্রাণ। এই যে এত কথা বলা হল অথচ চিঠির প্রথম লাইনটাই ঠিক করে লেখা হল না।
জানো কিছু কিছু মানুষ প্রবলভাবে ভালোবাসার ক্ষমতা নিয়ে জন্মায় । সেই ভালোবাসার জন্য তাদের কোনও কারনের প্রয়োজন হয়না। হঠাৎ কোনও কুয়াশা হয়ে অদৃশ্য ভালোবাসার চাদরে প্রিয় মানুষ টাকে জড়িয়ে রাখা কিংবা নিশাচর পাখি হয়ে সারারাত তার নিষ্পাপ মুখের দিকে তাকিয়ে থাকাতেই তারা আনন্দ পায়। নিজে রেইনকোট গায়ে দিয়ে প্রিয় মানুষ টাকে অবিরাম ভালবাসার বৃষ্টিতে ভিজতে দেখে তারা শিশুর মতো খুশি হয়। কিন্তু শত চেষ্টা করেও তাদের গায়ে সেই বৃষ্টির ফোঁটা তুমি ছোঁওয়াতে পারবে না। তারা ছায়ার মত, আছে আবার নেই। পৃথিবীর কোলাহলে তারা একলা হাটে। সম্ভবত আমি তাদের দলের একজন। তোমাকে আমি ভালবাসি কিনা জানি না। তোমার জন্য আমার অনুভুতি তার থেকেও বেশি কিছু। সব অনুভুতি কে তো ছকে ফেলা যায় না তাইনা?

চিঠি লিখতে বসে রাজ্যের আবর্জনা লিখে যাচ্ছি। অনেক আবর্জনা লেখা হয়েছে। ঘুমানো দরকার। আজকাল নিয়নের ফুটপাথে যখন স্বপ্নের ভোর হয় তখন আমি দরজার চৌকাঠে জমে থাকা আবেগের ধুলো ঝেড়ে ঘুমাতে যাই। বালক, তোমার চোখে আমার একটা শহর ছিল । সেই শহরে কাকভেজা রোদে আমি চুপি চুপি হাঁটতাম। কালো পিচ ঢাকা পথে আমার বন্দি স্বপ্ন গুলো আনমনে রোদে পোহাত। কখনও কখনও আততায়ী বিকেলে শহরের রাজপথে পরিপাটি ধুলোর সাথে রূপকথারা গড়াগড়ি খেতো। কিছু বোকা শব্দকে নেড়ে চেড়ে তোমাকে কিসব লেখার চেষ্টা করছি জানিনা, তোমার শত ব্যস্ততায় এ লেখা হয়তো কখনো তোমার চোখেও পড়বেনা। জানো তো কিছু কঠিন সত্য কখনোই মেনে নেওয়া যায় না। কিন্তু তাই বলে রাগ করতে নেই। বরং একবুক অভিমান নিয়ে চুপচাপ ফিরে আসতে হয়............ বারবার বলতে চেয়েও বলা হয়নি-
খুব শক্ত করে হাতটা ধর, আমি হারাতে চাইনা।

ইতি,
এই আমি নিশা

সময়কাল -
২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫
রাত ১১টা ২০ মিনিট
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই মার্চ, ২০১৫ রাত ১২:৩৭
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৭

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

মঙ্গলবার রাত ১০টা ২৭ মিনিট। গুলশানের একটি হাসপাতালে থেমে গেল ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের হৃদয়- দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর।

আর ঠিক তখন, শহরের অন্য প্রান্তে, মুন্সিগঞ্জ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×