somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রক্ত-পিপাসা বনাম ক্ষমতালিপ্সা - ঘুমহীন নিকষকালো রাত্রি-

০২ রা ডিসেম্বর, ২০১৩ রাত ৩:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



চারদিকে এখন দম বন্ধ করা পরিবেশ। বুকের ওপর জগদ্দল পাথরের চাপ। মানুষ শঙ্কিত। কি হবে কেউ জানে না। যে একজন জানেন বলে অনেকেই মনে করেন তিনিও কি তা নিশ্চিত জানেন? শেষ পর্যন্ত সবকিছুর ওপর কি তার নিয়ন্ত্রণ থাকবে? সর্বত্র অনিশ্চয়তা। উৎকণ্ঠা। কোথায় যাচ্ছি আমরা?
সবাই সন্ত্রস্ত। দেশ অগ্নিগর্ভ। মানুষ নির্ঘুম। কি করে ঘুমাবেন তারা? বারুদের গন্ধ। খুন-গুম-নির্যাতিত হওয়ার নিত্য আতঙ্ক। ঘুম আসবে কি করে তাদের চোখের পাতায়? অথচ যারা এই নৃশংসতা চালাচ্ছেন, দেশটাকে ছারখার করে দিচ্ছেন তারা কি দিব্যি নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছেন? তাদের কথায়-বার্তায়, বক্তৃতা-বিবৃতিতে, চেহারার চাকচিক্যে কোথাও অনুশোচনারও লেশমাত্র নেই। নির্ঘুম হওয়া তো দূরের কথা। এ ধরনের হন্তারক অপরাধী শেক্সপিয়রের নাটকে ঘুমাতে পারে না। রাজা ডানকানকে হত্যা করার পর ম্যাকবেথের ঘুম হারাম হয়ে যায়। যদিও সরাসরি তিনি হত্যা করেননি। স্ত্রীকে প্ররোচণা দিয়ে হত্যা করিয়েছিলেন। আধুনিক ইংরেজিতে এ নাটকের যে ভাষ্য দেয়া হয়েছে তাতে অনুশোচনাদগ্ধ ম্যাকবেথ বলছেন,

I thought I heard a voice cry, Sleep no morel
Macbeth is murdering sleep. Innocent sleep.
Sleep that soothes away all our worries.
Sleep that puts each day to rest.
Sleep that relieves the Weary laborer and heals hurt minds.
sleep, the main course in lifes feast, and the most nourishing.
..............
The voice kept crying, Sleep no more! to everyone in the house.
Macbeth has murdered sleep, and therefore Macbeth will sleep no more.
নাটকের এই অংশটি অনেক বড়। সংক্ষেপে এর বাংলা হবে এরকম- ‘আমি শুনতে পেলাম একটি কণ্ঠ আমাকে বলছে, ম্যাকবেথ আর ঘুমিও না। ম্যাকবেথ ঘুমকে হত্যা করেছে।’.... কে যেন সমস্ত বাড়ি ঘুরে ঘুরে বলছে, ‘আর ঘুমিও না, ম্যাকবেথ ঘুমকে হত্যা করেছে। ঘুমাবে না। ম্যাকবেথ আর ঘুমাবে না।’ কারণ হত্যাকারী ঘুমাতে পারে না। সাগরের সমস্ত পানি দিয়ে ধুলেও হাত থেকে হত্যার রক্তের দাগ মোছে না। মোছা যায় না।
আমি অতীত টানতে চাই না। তবু বর্তমানের অপরাধীরা অতীত টেনে এনে নিজেদের পাপের বোঝা লাঘব করার অপেচষ্টা চালাবেন। অতীত টানতে হলে তো ’৭৪/৭৫ কিংবা তারও আগে থেকে শুরু করতে হয়। রক্ষীবাহিনীর মাধ্যমে কত হাজার জাসদ কর্মীকে হত্যা করা হয়েছিল তা হাসানুল হক ইনুরা ভুলে যেতে চাইতে পারেন। কেননা, তাদের রক্তের উপর দিয়ে পা মাড়িয়ে তারা ক্ষমতার স্বাদ পেয়েছেন। দেশবাসী তাদের মতো এতটা বেইমান এবং নির্লজ্জ নন। চারদলীয় জোট আমলের অন্যায়-অবিচার-নির্যাতনের কথাও মানুষ বিস্মৃত হননি। কিন্তু তাদের দুর্নীতি-অপকর্ম অনেক ক্ষেত্রেই এখনকার অধিকতর দুর্নীতি-অপকর্মের কৈফিয়ত বা সাফাই হতে পারে না। র‌্যাবের ক্রসফায়ার কমেছে বটে। কিন্তু যোগ হয়েছে রাষ্ট্রীয় অপহরণ, গুম ও খুন। এই যে রাষ্ট্রীয়ভাবে এত মানুষকে খুন-গুম করা হচ্ছে তার জন্য যারা দায়ী তারা কি নিশ্চিন্তে রাতের বেলা ঘুমাতে পারেন? ভয়াবহ দুঃস্বপ্নে মধ্যরাতে তাদের ঘুম ভেঙে যায় না কি? আমাদের দেশে রিমান্ড মানেই তো ভয়াবহ আতঙ্ক, অকল্পনীয় নির্যাতন। বিবেকের কণ্ঠস্বর বলে পরিচিত ব্যক্তিদের রিমান্ডে নির্যাতন চালানোর জন্য যারা নেপথ্যে নির্দেশ দেন এবং যে প্রসিকিউটর ও বিচারকবৃন্দ চোখ বন্ধ করে এসব বেআইনি নির্দেশ তামিল করেন তারা রাতের বেলা দু’চোখের পাতা এক করেন কি করে? রাজনৈতিক কারণে রিমান্ডে নির্যাতিত মানুষদের আর্তচিৎকার তাদের ঘুমের মধ্যে হানা দেয় নাকি? অথবা যে বিচারপতি দেশের প্রায় সকল বরেণ্য সংবিধান বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ও মতামতকে উপেক্ষা করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল করে দিয়ে দেশকে অগ্নিগর্ভ করে তুলেছেন, গৃহযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছেন তিনি বা তারা কি রাতের বেলা দুঃস্বপ্ন দেখা ছাড়া ঘুমাতে পারছেন?
কি বিচিত্র এই দেশ! রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের মালিক জনগণ। সেখান থেকে একটি গোষ্ঠী চার হাজার কোটি টাকা লুট করে নিয়ে গেল। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী বললেন, চার হাজার কোটি টাকা এমন কিছু বড় অংক না। হলমার্কের পর ডেসটিনির কয়েক হাজার কোটি টাকার কেলেংকারি বের হলো। অর্থমন্ত্রীর বিবেচনায় নিশ্চয়ই তা-ও এমন কিছু বড় ব্যাপার নয়। কাজ শুরু হওার আগেই পদ্মা সেতু প্রকল্প থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অপচেষ্টায় বিশ্বব্যাংকসহ দাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর কয়েক হাজার কোটি টাকা অনুদান-বিনিয়োগ থেকে দেশ বঞ্চিত হলো। দক্ষিণাঞ্চলের ৩ কোটি লোকের উন্নয়ন এবং স্বপ্ন ভেঙে গেল। তবুও রাবিশ তথা আবর্জনাখ্যাত মন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্টদের ঘুমের কোন ব্যাঘাত হয়েছে বলে মনে হলো না। হায়রে অভাগা দেশ, মসনদ বহাল রাখার জন্য এরা আধিপত্যবাদী একটি দেশের কাছে নিজ দেশের ন্যায্য স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে কি দিব্যি নাকে তেল দিয়ে ঘুমান। এরা বিভীষণের মতো কাজ করেন, হনুমান হয়ে লংকা পোড়ানোর মতো বাংলাদেশ পোড়ান এবং ক্রূর হাসিতে দেশবাসীকে বিদ্রুপ করেন এবং বাকি বিশ্বকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখান। ঐতিহাসিকভাবে সমর্থিত না হলেও জনশ্রুতি আছে, রোম যখন পুড়ছিল সম্রাট নীরো নাকি তখন বাঁশি বাজাচ্ছিলেন। এতে কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। এঁদেরও বোঝা উচিত জনগণই হচ্ছে আসল শক্তি। সময় লাগলেও এর কাছে আর সবকিছুই তুচ্ছ। এরা ক্ষেপলে কেউ তাদের রক্ষা করতে পারবে না। আর গণরায় এবং দেয়ালের লিখন কি তারা পড়তে পারছেন না?
দেশ ও দেশবাসীর এই ভয়াবহ অবস্থার জন্য দায়ী ব্যক্তিরা কেবল তখনই আরামে ঘুমাতে পারেন যখন তারা হন মানসিক ভারসাম্যহীন।

(মানবজমিন থেকে কপি-পেস্ট)
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনব প্রতারনা - ডিজিটাল প্রতারক

লিখেছেন শোভন শামস, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:১৮



একটি সাম্প্রতিক সত্য ঘটনা।
মোবাইল ফোনে কল আসল, একটা গোয়েন্দা সংস্থার ছবি এবং পদবী সহ। এই নাম্বার সেভ করা না, আননোন নাম্বার। ফোন ধরলাম। বলল আপনার এই নাম্বার ব্যবহার করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগে নিজেকে বদলে দিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪১



"আমার স্বামী সংসারের কুটোটাও নাড়ান না। যেখানকার জিনিস সেখানে রাখেন না। মুজা খুলে ছুঁড়ে যেখানে সেখানে ফেলে দেন। নিজেকে পরিষ্কার রাখতে বারবার ভুল করেন! এতো বছর বিবাহিত জীবন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×