somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সে কোন বনের হরিণ ছিলো আমার মনে-১১

০৮ ই অক্টোবর, ২০২২ সকাল ১০:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বক্কুমিয়ার জ্বালায় খোকাভায়ের সাথে মনের ভাব আদান প্রদান, দেখা সাক্ষাৎ, ঝগড়া বিবাদ ভালোবাসা মন্দবাসা সকল যোগাযোগই প্রায় বিকল হতে বসলো। এই জ্বালাতন কাহাতক সহ্য করা যায়! তাই এক ফন্দি ফেঁদে বসলাম। বক্কুমিয়াকে তাড়াতেই হবে খোকাভায়ের ঘর থেকে সে যে কোনো মূল্যেই হোক না কেনো। আমি আবার আমার কোনো প্লান প্রোগ্রাম কারো সাথেই শেয়ারিং এ রাজী ছিলাম না। তো সেই প্ল্যান একা একা নীরবে নিভৃতে সংগোপনে দাঁড়া করাতে আবার আমার সময় লেগে গেলো কয়েকটা দিন।

ছোটচাচীর ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ার থেকে ফলস লম্বা চুল লুকিয়ে আনা। দাদীমার সাদা ধপধপে শাড়ি চুরি করা। ভাড়ার ঘর থেকে পুরনো একখানা লন্ঠন। আর পাউডার লিপস্টিক তো আমারই ছিলো। সকল যোগাড় যন্তরের পরে শুধুমাত্র সুযোগের অপেক্ষা। বক্কুমিয়া ঘুমাতো একেবারে জানালার ধারে। তাও আবার অঘোরে, ঐ যে যাকে বলে কুম্ভকর্ণের ঘুম। কলেজ আর টিউশন করে ফিরত যখন তখন মনে হয় তার আর শরীর চলতো না। এক গাঁদা তেল মাথায় দিয়ে কলতলায় ঝপঝপ গোসল সেরে এক থালা ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়তো সে। আমার ধারনা তার কানের কাছে কেউ যদি তখন বোমও মারতো তবুও সে উঠতো না। কিন্তু আমার সন্দেহপ্রবন মন তার ঐ ঘুম-ঘোরের সুযোগেও খোকাভায়ের সাথে যোগাযোগের বাঁধা ছিলো। আমি ভাবতাম বেটা ঠিকই জেগে উঠে মাকে বলে দেবে।

সে যাইহোক তক্কে তক্কে থাকলাম আমি। অবশেষে এলো অমাবশ্যার রাত। দিনক্ষন বুঝে সেই গভীর রাতে দাদীমার শাড়ি আলুথালু গায়ে জড়িয়ে, মাথায় পরচুল সামনে দিয়ে ছড়িয়ে, মুখে একগাদা পাউডার লাগিয়ে হাতে হ্যারিকেনখানা নিয়ে চুপি চুপি উঠে আসলাম ছাদের ঘরে। বক্কুমিয়া তো অঘোরে ঘুমুচ্ছিলো। আমি জানালার পাশে দাঁড়িয়ে দিয়াশলাই দিয়ে ঐ হ্যারিকেন জ্বালিয়ে এক হাতে হারিকেনখানা তুলে ধরে আরেক হাতে বক্কারের গায়ে আস্তে করে ধাক্কা দিলাম। কিন্তু সেই আস্তে করে ধাক্কায় গন্ডার বক্কু তো উঠলোই না বরং খাই মাই করে কি যেন বলে পাশ ফিরে আবার ঘুমের রাজ্যে তলিয়ে গেলো। ঘরের আরেকপাশে আরেকখানা বিছানায় ঘুমাচ্ছিলো খোকাভাই। আমি সন্তর্পনে একখানা ছোট কাগজ কুড়িয়ে পেঁচিয়ে নিয়ে সুড়সুড়ি দিলাম ঘুমন্ত গন্ডার কুম্ভকর্ণ বক্কুমিয়ার কানে। সে গা ঝাড়া দিয়ে উঠে বসলো। আর উঠেই জানালায় হারিকেন হাতে আমার সাদা শাড়ি জড়ানো সারা মুখে চুল ছড়ানো কিম্ভুৎ দর্শন দেখে আ আ আ তিনটা শব্দ করে ঠাস করে পড়ে গেলো আবার চৌকির উপরেই।

বক্কার গাধাটার ঐ আর্ত চিৎকারে লাফ দিয়ে উঠলো খোকাভাই আর আমি সাথে সাথে জানালার নীচে বসে পড়লাম যেন না দেখতে পায় আমাকে। কিন্তু খোকাভাই সোজা বেরিয়ে আসলো। ও হ্যাঁ ওদের ঘরের দরজা ওরা জীবনেও বন্ধ করে ঘুমাতো না। সেটা দিন রাত ২৪ ঘন্টাই হা করে খোলা থাকতো। কাজেই খোকাভায়ের দরজা খোলারও যেমন টাইম লাগলো না আমার পালানোরও টাইম পাওয়া গেলো না। খোকাভাই সোজা জানালার নীচে এসে ভূতরুপী আমাকে দেখে প্রথমে অবাক হলো। আর তারপর হাসতে হাসতে আমার হাত ধরে টেনে উঠালো।

ঐ আমাবশ্যার রাতে ছাঁদে কোনো চাঁদের আলো ছিলো না বটে তবে আকাশে অনেক তারার ঝিলিমিলি ছিলো। সেই তারা ঝিকিমিকি রাতের আঁধারে আমার অমন কিম্ভূত দর্শন ভূতুড়ে চুল ছড়িয়ে থাকা সাজ দেখেও ভয় পেলো না খোকাভাই। বরং এই প্রথম সে আমার রুপের প্রশংসা করলো। বললো, তোকে খুব সুন্দর লাগছে!!! আমি তো সেই কথা শুনে ভূত দেখে মানুষ চমকে ওঠে আর আমি আমার ভূতের সাজ দেখে আমাকে সুন্দর লাগছে শুনে চমকে উঠলাম। খোকাভাই জড়িয়ে ধরলো আমাকে। সেই ওমাবশ্যা রাত্রীর ঐ ঘুরঘুট্টি অন্ধকারের তারা ঝিকিমিকি আধো আলো-ছায়ায় দুটি মানব মানবী, একটি আবার ভূতরূপী। সেদিন যদি দেখতো কেউ আমাদেরকে তো নিশ্চয় সে হার্ট এটাক খেত! খবরে আসতো ভূত বা পেত্নীকন্যার সাথে এক যুবকের ভালোবাসার কাহিনী।

হঠাৎ খোকাভায়ের মনে পড়ে গেলো চৌকির উপর অচেতন পড়ে রয়েছেন আমাদের বক্কার সাহেব ওরফে বক্কু। খোকাভাই তাড়াতাড়ি গিয়ে বক্কুকে ধাক্কা দিলো। চোখে মুখে পানির ছিটাও দিলো। আমি জানালায় দাঁড়িয়ে দেখছিলাম। বক্কুমিয়া চক্ষু মেলে আবার চিল্লালো ভূত ভূত! আমি হেসে ফেললাম তারপর খোনা গলায় বললাম, তুঁই এঁখান থেঁকে চঁলে যাঁ তুঁই এঁখান থেঁকে চঁলে যাঁ কাঁলকেই চঁলে যাঁবি ..... বঁ ও ও ও ও ল। খোকাভাই হেসে ফেললো, বললো যা ভূত বাড়ি গিয়ে ঘুমা। আমি বললাম, আঁমি তোঁকে ভাঁলোবাসি.... তোঁর ঘঁরে কাঁউকে থাঁকতে দেঁবো না। খোকাভাই আরও হাসছিলো .... আমি যাচ্ছি না দেখে টেবিলের উপর থেকে একটা হাতপাখা নিয়ে আমাকে মারতে এলো। আমি তার আগেই দৌড় দিয়ে নীচে।

বাথরুমে ঢুকে পাউডার কাজল সব ধুয়ে হাতে শাড়ি আর চুলটা নিয়ে বের হতে যাবো দেখি বদমাশ রুনি দরজার সামনে দাঁড়িয়ে। এই রাত দুপুরে উনার টয়লেট পেয়েছে। আমি কোনোমতে সেসব লুকিয়ে কাঁটিয়ে চলে এলাম। রুনিটা যা কুটনী টাইপ যদি দেখতে পায় তবেই হয়েছে। শাড়িটা নিয়ে আবার লুকিয়ে দাদীমার ঘরে আর দিয়ে আসা হলো না। তার আগেই রুনি চলে আসায় পেছনের বাগানের খোলা জানালার আরেকপাশে ফেলে দিলাম। আর চুলটা তাড়াতাড়ি চালান করে দিলাম আলমারীর তলায় পা দিয়ে। রুনি ঢুলতে ঢুলতে চলে গেলো তার বিছানায়। আমি ঠিক করলাম সকালে উঠে আবার সব কিছু জায়গা মত রেখে দেবো।

কিন্তু হায় সকালে উঠতে না উঠতেই শুনলাম চারিদিকে চাউর হয়ে গেছে রাতে নাকি বক্কুমিয়াকে জ্বীন তুলে নিতে এসেছিলো। সে বার বার মূর্ছা যাচ্ছে। জ্বীন নাকি তার মৃত নানীর গলায় তাকে ডেকেছে। জ্বীন নাকি বলেছে তার সাথে তাকে কোয়াকফ নগরে যেতে হবে নইলে মুন্ডু ছিড়ে খাবে। বক্কুমিয়া আর এ বাড়িতে থাকবে না সে গ্রামে চলে যাবে। আমি মনে মনে শান্তি পেলাম যাক বেটা তাহলে ভাগছে। কিন্তু হায় শয়তান আমেনা আমাদের নতুন ঘরমোছার মহিলাটা বলে বাবা তুমি আইছো পড়ালেহা কত্তি তুমি চইলে যাবা কেন? তার থিকে শুনো আমার একজন ওঝা আছে এক্কেরে ঝাঁড়ুপিটা করি ভূত কেন ভূতের বাপ মা চৌদ্দ গুষ্ঠিরে তাড়ায় ছাড়বেনে।

এরপর দাদীমাও শুরু করলেন একই কাহিনী। ওঝা এনে নাকি এই বাড়ির ভূত ছাড়াবেন। কি সর্বনাশ! আমি তো ভয়েই শেষ। ওঝা এসে যদি সত্যিকারের জ্বীন ভূত ধরে তো সত্যিকারের জ্বীন- ভূত আমি তো গেছি, এক্কেবারে ধরা। ঐদিকে আমেনা বুয়া তো গল্প ফেঁদে বসেছেন। ওদের গ্রামে নাকি ডিমপড়া খাইয়েছিলো কি যেন চুরি করতে আসা এক চোরকে তো সেই চোরের সারা মুখে নাকি ডিমের মত বড়বড় ফোসকা উঠলো। আবার কাকে যেন চাল পড়া খাইয়েছিলো তো সারা মুখে তার আঁচিল উঠলো। কাকে যেন তেল পড়া দিয়েছিলো তার মাথার চুল পড়ে পাগল হলো। যত শুনি তত ভয়ে আমার অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। কি বিপদেই না পড়লাম।

পরদিনই তোড়জোড় শুরু করা হলো । স্বয়ং বক্কুমিয়ার বাবা উনাদের গেরামের এক ওঝা আনলেন। সেই ওঝা উঠানে বসে বিড় বিড় করে কি সব মন্ত্র পড়ছিলো। চারিদিকে পানি ছিটাচ্ছিলো ধোঁয়া জ্বালাচ্ছিলো। আর আমি তো ভয়ে ঘরের মধ্যে সিটিয়ে রইলাম। সেই ওঝার আয়োজনের বিরাট যোগাড় যন্ত্রর দেখে তো আমার নাগিন সিনেমার ওঝাটাকেই মনে পড়ছিলো। যদিও সেই ওঝা ছিলো সাপ তাঁড়ানো আর এই ওঝা ভূত তাড়ানো। তবে আমার ললিতা মাসী বলে সাপ নাকি জ্বীনেদের রূপ নেয়। তারমানে এই যে সাপ হলো জ্বীন আর তাই তাড়াতে ওঝা আসে নইলে এই জ্বীন তাড়াতেই বা ওঝা আসবে কেনো! আমার তখন নিজেকে একবার সাপ আরেকবার সত্যিকারের নাগিন মনে হচ্ছিলো। তায় তখন আবার আমি কত্থক নাচেরও ছাত্রী ছিলাম। শুধু নাচতে নাচতে সাপ হয়ে ওঝার আগেও ঐ বেক্কল শয়তানের লাঠি বক্কু মিয়ার বাবাকে ছোবল দিতে পারলেই বুঝি আমার শান্তি হত। উদোর পিন্ডি পড়ে বুধোর ঘাড়ে আর আমার রাগ গিয়ে পড়লো ছেলেকে ছেড়ে তার বাপের পরে।

যাইহোক সেই কিম্ভূত দর্শন ওঝা কিন্তু মোটেও নাগিন সিনেমার ওঝার মত ভয়ংকর দর্শন ছিলো না সে ছিলো ছিঁচকা চোরের মত ছোট খাঁটো চিমশা শরীরের। আর তালি তুলি দেওয়া মলিন ধুতি আর আলখেল্লা টাইপ কিছু পরা ছিলো। সে গোবর ঝাড়া ঝাঁটা, ছেঁড়া জুতার তলা, সরিষার তেল, ছোট বাচ্চাদের কাজললতা আরও কি কি যেন আনার অর্ডার দিয়ে যাচ্ছিলো। তাকে ঘিরে দাঁড়ানো ছিলো এ বাড়ি ওবাড়ি মিলে আসা অনেকগুলো মানুষ পরম উৎসুকে ও কৌতুকে। ওঝা তার পাঁটি বিছিয়ে সামনে বক্কুভাইকে নিয়ে বসালেন। একটা কাসার বাটি থেকে পানিতে বিড়বিড় মন্ত্র পড়ে তার চোখে মুখে ছিটালেন। আমি তো ভয়ে শেষ কারণ ওঝা ভূত আনবে কোথা থেকে। সেই ভূত তো ছিলাম স্বয়ং আমি! তবে সত্যিই শ্রীদেবীর নাগিন সিনেমার মত সাপ না হতে পারি তখন যদি সত্যিকারের জ্বীন বা ভূতও হতে পারতাম তবেই মুক্তি হত আমার। ওঝার বাচ্চার ঘাড়ে চেপে তার কল্লা টেনে ছিড়তাম আমি কিন্তু না সে সব কিছুই হবার ছিলো না। এসবই হচ্ছিলো ভেতরবাড়ির উঠানে। আর দাদুর অগোচরে খুব চুপচাপ সঙ্গোপনে করার কথা ছিলো। কিন্তু কি করে যেন চারিদিকে হাক ডাক হই হই রই রই অবস্থা হয়ে গেলো।


যাইহোক আমি যখন ওঝার কার্য্যক্রম শুরু হবার পর উদ্ধার পাবার পথ বাতলাচ্ছি এবং উদ্ধার পেতে সাপ ব্যাঙ , ভূত প্রেত সব হতেই রাজী আছি এমন নানান চিন্তায় মশগুল। আমার প্রার্থনাতেই বুঝি হঠাৎ সেখানে রক্ষাকর্তার মত উদয় হলেন দাদু। এই সব কর্মকান্ড দেখে ভীষন অবাক হলেন। হুঙ্কার দিয়ে ডাকলেন, সাইফুল!!!!!!!!! সেজোচাচা দৌড়ে এলেন। দাদু বললেন কি হচ্ছে এসব!!! এখুনি বন্ধ কর এসব বুজরুকি! কোন আক্কেলে তুমি এসব কাজে সায় দাও! ওঝাকে কিছু টাকা দিয়ে এখুনি বিদায় করো। সেজচাচা কিছু বলতে চাচ্ছিলেন। কিন্তু দাদু বললেন কোনো কথাই আমি শুনতে চাইনা। দাদুর কথা শুনে হাফ ছেড়ে বাঁচলাম আমি। সৃষ্টিকর্তাকে কত কত বার যে ধন্যবাদ দিলাম জানা নেই আমার।

কিন্তু আমাদের ঐ মফস্বল টাউনের সেই নিস্তরঙ্গ জীবনে এমন একটি বিনোদন থেকে বঞ্চিত হয়ে সকলেই ভীষন মনোক্ষুন্ন হলো। ভগ্ন মনোরথ হয়ে যে যার ঘরে ফিরে গেলো। সেই পড়ন্ত দুপুরে ১৫ মিনিটের মাঝেই সেই বিশাল আয়োজন ভেঙ্গে উঠানে নেমে এলো শুনশান নীরবতা। আর আমি হাফ ছেড়ে বাঁচলাম। আর মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলাম বক্কুর বাবার ঘাড়ে যদি এইবার সত্যিকারের জ্বীন চালান না দেই!! হঠাৎ কিছু পরেই ফের হই হট্টগোল উঠলো। উঠান ভরে গেলো এ বাড়ির লোকজনেদের ভয়ার্ত কলরবে। আমেনা বিবি নাকি আমাদের বাড়ির পিছের বাগানে আমাদের ঘরের জানালায় ঝুলন্ত অবস্থায় পেয়েছেন সাদা ধপধপে জ্বীনের শাড়ি। হায় খোদা কাল রাতে রুনিকে দেখে তড়িঘড়ি শাড়ি লুকাতে না পেরে আমি সেই শাড়ি জানালা দিয়ে নীচে ফেলে দিয়েছিলাম। ইচ্ছা ছিলো সময় সুযোগ বুঝে তুলে আনার। কিন্তু সকাল থেকে নানান হট্টগোলে তা আর হলো না।

এখন সেই জ্বীনের শাড়ি নিয়ে জোর গবেষনা চলতে লাগলো। সবাই বলাবলি করছিলো জ্বীন নাকি চলে যাবার সময় একটা চিহ্ন রেখে যায়। ছোটচাচী বললো হ্যাঁ তার বাবার বাড়িতে তাদের কাজের মেয়েকে জ্বীন ধরেছিলো। পীর ফকির ডেকে এনে ঝাড়াই বাছায়ের পর সে যাবার সময় একটা দরজা ভেঙ্গে দিয়ে গেছিলো। ত চাচী বললেন, আমাদের বাড়িতে তো জ্বীন এক রাতে সারা রাত ধরে ইট ফেলেছিলো অনবরত। শেষে অনেক বড় বড় মৌলভী এনে সেই ইট পড়া বন্ধ করতে হয়েছিলো। তাই শুনে আমাদের এক প্রতিবেশী রসিকতা করে বলেছিলো বাবা জ্বীনেরা তোমরা ইট না ফেলে টাকার থলি ফেললেই তো পারো। বলার সাথে সাথে তার বাড়িতেই জ্বীনেরা ইট ফেলা শুরু করেছিলো। নানান রকম জ্বীন ভূতের কেচ্ছার ভরে উঠলো ফের উঠোন। আমেনা বলছিলো আমার এই ওঝা কি যে সে ওঝা! মন্তর টন্ত্রর পড়ার আগেই জ্বীন ভয় পাইয়ে পালাইসে। আমি মনে মনে বললাম হ্যাঁ শুধু পালাইনিই এক্কেরে শাড়ি খুলে পালাইছে। এই ভাবনাটার সময় আমার মুখে একটু মনে হয় মুচকী হাসি ফুটে উঠেছিলো। হঠাৎ তাকিয়ে দেখি মা আমার দিকে সোজা কটমট করে তাকিয়ে আছে। আমি অমনি করুন গোবেচারা চেহারা বানিয়ে ফেললাম। ছোট থেকেই আমি আসলে ভালোই অভিনেত্রী ছিলাম। শুধু মা বাবা এর অনাগ্রহ অবহেলায় আমার ম্যুভি থিয়েটারে অভিনয় করার সুযোগ এলো না জীবনে আর।

সে যাই হোক জ্বীন যতই শাড়ি ফেলে প্রমান দিয়ে পালাক না কেনো বক্কুমিয়ার বাবা আর বক্কুমিয়াকে এ বাড়িতে রাখতে রাজী হলেন না। ভর সন্ধ্যায় সকলের নিষেধ সত্ত্বেও আরও একটি ভয়ংকর রাত বাড়ানোর কোনো রিস্ক না নিয়েই বক্কুমিয়ার বাবা ছেলেকে নিয়ে চলে গেলেন গ্রামে। কিছুদিন পরে ছেলেকে যদি কলেজেও পাঠায় তো এ বাড়িতে আর না জানিয়ে গেলেন। বক্কুমিয়া তার টিনের পদ্মফুল আঁকা পেটরাটা নিয়ে, বাড়ির বড়দের পায়ে ধরে সালাম করে বিদায় নিলেন। আমার এ ঘটনায় খুব খুশী হবার কথা ছিলো কিন্তু আমি হঠাৎ খেয়াল করে দেখলাম এই ভর সন্ধ্যায় এই বিদায় আমার বুকের ভেতরে এক অজানা কষ্টের সৃষ্টি করেছে। আমি আমার নিজেকেই চিনতাম না সে সব দিনে। আজও চিনিই না হয়ত কারণ কখন কোন ঘটনা যে আমাকে আনন্দে ভাসায় আর কোন ঘটনা যে কাঁদায় আমি নিজেও বুঝে উঠতে পারিনা মাঝে মাঝে।


জ্বীনও চলে গেলো, চলে গেলো বক্কু মিয়াও। শুধু রয়ে গেলো সাদা ধপধপে সেই জ্বীনের শাড়িটা। সেই ভূতের শাড়ি তখনও ঝুলছিলো জানালায়। দাদীমার সব শাড়িগুলিই মোটামুটি একই ধাঁচের ছিলো আর জ্বীনের শাড়িও ঐ ধাঁচের হওয়ার পরেও কারো মাথায় এলো না শাড়িটা যে দাদীমার। শুধু মাই মনে হয় আঁচ করতে পেরেছিলেন এই কাজ কার আর কিই বা তার উদ্দেশ্য।

আগের পর্ব
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই অক্টোবর, ২০২২ সকাল ১১:০০
৬৬টি মন্তব্য ৭২টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নিউ জার্সিতে নেমন্তন্ন খেতে গিয়ে পেয়ে গেলাম একজন পুরনো ব্লগারের বই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৪ ই জুন, ২০২৪ দুপুর ১২:৩৭



জাকিউল ইসলাম ফারূকী (Zakiul Faruque) ওরফে সাকী আমার দুই ঘনিষ্ঠ বন্ধুর ঘনিষ্ঠ বন্ধু; ডাঃ আনিসুর রহমান, এনডক্রিনোলজিস্ট আর ডাঃ শরীফ হাসান, প্লাস্টিক সার্জন এর। ওরা তিনজনই ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের একই... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেনজীর তার মেয়েদের চোখে কীভাবে চোখ রাখে?

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ১৪ ই জুন, ২০২৪ বিকাল ৩:০৬


১. আমি সবসময় ভাবি দুর্নীতিবাজ, ঘুষখোর যারা মিডিয়ায় আসার আগ পর্যন্ত পরিবারের কাছে সৎ ব্যক্তি হিসেবে থাকে, কিন্তু যখন সবার কাছে জানাজানি হয়ে যায় তখন তারা কীভাবে তাদের স্ত্রী,... ...বাকিটুকু পড়ুন

এই বাড়িটি বয়ে বেড়াচ্ছে কিছু স্মৃতি।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১৪ ই জুন, ২০২৪ বিকাল ৪:০৫



ছবিটি ফেসবুক থেকে সংগ্রীহিত।

মনে করুন, সময়টি ১৯৮০ সালের। গ্রামের এক সামর্থ্যবান ব্যক্তি এই বাড়িটি নির্মাণ করেন। তিনি স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে সুখে-শান্তিতে দিন কাটাচ্ছিলেন। সময়ের সাথে সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগের সাতকাহন

লিখেছেন বিষাদ সময়, ১৪ ই জুন, ২০২৪ রাত ৮:০১

অনেকদিন হল জানা আপার খবর জানিনা, ব্লগে কোন আপডেটও নেই বা হয়তো চোখে পড়েনি। তাঁর স্বাস্খ্য নিয়ে ব্লগে নিয়মিত আপডেট থাকা উচিত ছিল। এ ব্লগের প্রায় সকলেই তাঁকে শ্রদ্ধা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আত্মস্মৃতি: কাঁটালতা উঠবে ঘরের দ্বারগুলায় (চতুর্থাংশ)

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ১৪ ই জুন, ২০২৪ রাত ৯:২৭


আত্মস্মৃতি: কাঁটালতা উঠবে ঘরের দ্বারগুলায় (তৃতীয়াংশ)
আমার ছয় কাকার কোনো কাকা আমাদের কখনও একটা লজেন্স বা একটা বিস্কুট কিনে দিয়েছেন বলে মনে পড়ে না। আমাদের দুর্দিনে তারা কখনও এগিয়ে আসেননি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×