
আমার কালপুরুষ ভাইয়া। গত ৭ই মার্চ যিনি এই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন না ফেরার দেশে। খবরটা আমি জানার পর থেকেই মনটা খারাপ হয়ে আছে। ভাইয়া আমার কাছে ছিলো যেন পরম প্রতিভাবান ব্যক্তিদের একজন। সদাই হাস্যজ্জ্বল মুখের ভাইয়ার ছবি তাই আমার মনে চির জাগরুক থাকবে। এই ব্লগে আমার প্রথম নিকে আবোল তাবোল লিখেও আমি ভাইয়ার মন্তব্য পেয়ে উৎসাহিত হয়েছিলাম। আমার লেখাও কেউ পড়বে এবং প্রশংসা করবে সেটা তখন স্বপ্নেও ভাবিনি। আমার এক বছর পূর্তির পোস্টে ব্লগ পরিবারে একটি বছর ৩১ শে জুলাই, ২০০৯ রাত ১:১০ আমি তাই সবার আগে ভাইয়ার নামটাই লিখেছিলাম। কারণ আর কিছুই নহে তখন এবং এখনও সামু ব্লগে প্রিয় মানুষগুলোর মাঝে ভাইয়ার নাম থাকবে এক নম্বরে।
এটা ছিলো সেই লেখায় ভাইয়ার জন্য আমার মনোভাব।
কালপুরুষ- এইভাইয়াটা আমার অনেক অনেক প্রিয় একজন ভাইয়া। তার মত করে সকলকে সবসময় সবরকম লেখায় অনুপ্ররেনা যোগানো আর কারোই সাধ্য নেই হয়তোবা। তার বিভিন্নমুখী শিল্প প্রতিভার কথা জেনে আমি রিতীমত মুগ্ধ! ভাইয়া তোমার গুড়িয়া ডাকটা আর আমার জন্য ছড়া বানানো এই জীবনে কখনও ভোলা হবেনা আমার।
ভাইয়া আমাকে গুড়িয়া বলে ডাকতেন। আমার কাছে ভাইয়া ছিলেন এক বড় ভায়ের প্রতিচ্ছবি। সদা ও সর্বদা আমি তার স্নেহ পেয়েছি। ভাইয়ার জন্য আমার ভালোবাসা চিরদিন একই রকম থাকবে।
ভাইয়া এই ব্লগের একদম প্রথম দিককার ব্লগার ছিলেন। ভাইয়ার সাথে জানা আপু, শরৎ ভাইয়া, মনজুরুল ভাইয়াদের অনেক সখ্যতা ছিলো। ভাইয়ার বাড়ির ছাদেই বসত তাদের আড্ডা। তবে একটা সময় ভাইয়ার সাথে কিছু ব্লগারের মতানৈক্যের কারণে ভাইয়া ব্লগে আসা কমিয়ে দেয় কিন্তু ভাইয়ার সাথে আমার ফেসবুকে কথা হত। ভাইয়া তার আদরের ফুটফুটে নাতনীর ছবি শেয়ার করেছিলেন আমার সাথে।
ভাইয়ার আদরের নাতনী



আমাদের ভাবী। যেন পুরোনো দিনের সাদাকালো সিনেমার নায়িকা। এই ছবিটাও এবং এমন অনেক ছবি দেখে অবাক হতাম আমি। ভাইয়ার যোগ্য সহধর্মিনী বুঝি ছিলেন আমাদের ভাবী। শিল্পবোদ্ধা ও নিজেই এক শিল্প যেন তিনি।

ভাইয়ার ছোট ছেলের ছোটবেলার ছবি। আমার বেবি এলবাম পোস্টে মনে হয় এই ছবিটা দিয়েছিলেন ভাইয়া আমাকে।

ভাইয়ার ফোটোগ্রাফী





ভাইয়া শুধু একজন কবি সাহিত্যক ও উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাই ছিলেন না। তিনি ছিলেন একজন প্রকৃত শিল্পী আর সুন্দরের পূজারী। ভাইয়ার কিছু ফটোগ্রাফীই সেই কথা বলে। ভাইয়া ঠিক আমার মতন খানা পিনার পোস্ট দিতেন। ফেসবুকে সেসব ছবিও অনেক অনেক আছে।
পুরোনো দিনের ভাইয়া

ভাইয়ার আঁকা ছবি

সবচেয়ে অবাক হয়েছিলাম আমি ভাইয়ার আঁকা ছবি দেখে। সেই কত দিন আগের কথা। ভাইয়া নাকি তার স্কুল না কলেজ লাইফে এমন সব পেনসিল স্কেচ করেছিলেন।
ভাইয়া আমাকে তুই করে ডাকতেন আর সব সময় গুড়িয়া বলে ডাকতেন। আজ বসে বসে ভাইয়ার মেসেঞ্জারের লেখাগুলো পড়ছিলাম। জানতে চেয়েছিলো ভাইয়া কি মামা হয়েছেন? আমি বলেছিলাম আমি আমার ব্যক্তিগত কথা কিছু বলতে চাইনা। ভাইয়া বলেছিলেন তুই তো তুই .... সারাজীবন গুড়িয়াই রয়ে গেলি....... ভাইয়ার তার গুড়িয়াকে জানা হলো না..... তাই বুঝি না জানিয়েই চলে গেলেন না ফেরার দেশে........
অনেক ভালোবাসা, শ্রদ্ধা আর প্রার্থনা তোমার জন্য ভাইয়ামনি! অনেক ভালো থেকো না ফেরার দেশে!!! বেহেস্তের ফুল বাগানে জায়গা হোক তোমার। মর্ত্যের এই ধরিত্রীতে এখন বসন্ত..... এমন বসন্তে হারিয়ে গেলে তুমি .......
অনেক ভালোবাসা তোমার জন্য ভাইয়ামনি ........
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:০২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



