somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এসো ঈদের গল্প লিখি.....

১৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


সামুতে নেই আর সেই আগের দিনের ঈদগুলো। ঈদের পোস্ট, গল্প লেখা,কবিতা, স্মৃতিচারণ কিছুই আর আজ নেই। সব কোলাহল ছাপিয়ে সামু আজ দাঁড়িয়ে আছে প্রায় অনেকটাই নিশ্চুপ। কেউ কেউ এখনও উঁকিঝুকি দেয় তবে সবাই যেন আজ বড়ই ক্লান্ত, লিখতে, কথা বলতে, কমেন্ট করতে বড়ই আলস্য।

তবুও যখন ঈদ আসে আমি জানি আমাদের কোনো না কোনো ঈদের দিনের স্মৃতি বিশেষ করে ছেলেবেলার ঈদ সবারই কিছু না কিছু মনে পড়ে যায়। আমাদের ছেলেবেলার ঈদে সব যেন ছিলো একই রুটিন, সব বাড়িতেই একই মেন্যু, প্রায় সবারই একই টাইপ জামা কাপড় জুতো। এখনকার মত একটাই একজন ফ্যাশন তখনও আসেনি।

আমার আজ মনে পড়ছে একটা ঈদের দিনের স্মৃতি। তখন আমি ক্লাস সিক্স বা সেভেনে। লেমন কালারের একটা ভীষন সুন্দর তুলতুলে রেশম সাটিন কাপড়ের উপরে টান টান দেওয়া সিলভার জরির কাজ। এত পছন্দের জামাটা ঈদের দিন পরতেই সন্ধ্যা বেলা দেখা গেলো ফেসে গেছে একটু। মা তো তখনই দোকানদারকে এই মারে কি সেই মারে। ভাগ্যিস ঈদের দিন দোকান বন্ধ ছিলো। যাইহোক মা বললেন, দোকান খুললেই এই জামা ফেরৎ দেওয়া হবে। আমার সেই জামাটা এতই প্রিয় হয়ে গেছিলো যে সেই ফেসে যাওয়া জামাটাই আমার কিছুতেই দিতে ইচ্ছা করছিলো না। :(

তখন আমি খুব ছোট। মনে হয় স্কুলে যাওয়াও শুরু করিনি। আমরা আমাদের ছেলেবেলায় সবাই পাড়া প্রতিবেশীদের বাড়িতে ঢু মারা ছিলো অবশ্য কর্তব্য। বড়রা বলত ঈদের দিনে নাকি সবার দূয়ার খোলা। সবার বাড়িতেই সবাই যেতে পারে। সে কথা কেউ মানুক না মানুক আমরা ছোটরা ঠিকই মানতাম। ঈদের দিন সকাল সকাল গোসল করে সেজে গুজে বড়রা নামাজ পড়ে বাসায় ফিরতেই শুরু হত আমাদের অভিযান।তেমনই কোনো এক ঈদে কোনো এক প্রতিবেশী খালাম্মর বাসায় খেয়েছিলাম অদ্ভুৎ এক মজাদার কমলা রঙের পুডিং বা হালুয়া। ঈদের সুন্দর স্মৃতিগুলির মাঝে এই স্মৃতিটাও আমার মনে হানা দেয় প্রায়ই। আমরা তখনও আন্টি বলতাম না, খালাম্মা বা চাচীআম্মাই বলতাম পাড়া প্রতিবেশীদেরকে। :)

ঈদের মেহেদী সে ছিলো আরেক আনন্দের নাম। পাটার উল্টো পিঠে বাঁটা হত মেহেদী পাতা। সেই বাটা মেহেদীর গোবর গোবর গন্ধ তবুও বড়ই অদ্ভূৎ যেন ঈদের ঘ্রান মিশে থাকতো সেখানে। কাঁঠি দিয়ে ডট ডট ফুল পাতা এঁকে দিত বড় আপুরা বা চাচী মামীরা। তখনও আমি সর্বগুনে পণ্ডিত হয়ে উঠিনি। কাজেই আমার টার্নের জন্য মলিন মুখে ওয়েট করে থাকতাম। পণ্ডিত বানানটা লিখতে গেলেই মনে পড়ে যায় একজন হারিয়ে যাওয়া মানুষের কথা।

সে যাইহোক সব কিছুই একদিন হারিয়ে যায়, মানুষ হারায়, ভালোবাসা হারায় বেদনারাও হারায়, শুধু জেগে থাকে স্মৃতি। কখনও আনন্দের , কখনও বেদনার। ঈদ যদিও শুধুই আনন্দ আনে তবুও কোনো কোনো ঈদ হয় ভয়ংকর বিষাদের। এমনই এক ঈদে আমার এক ছোটমামার মৃত্যু সংবাদ এসেছিলো। যারা ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরার টানে ছুটে যায় তাদেরও কখনও কখনও মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় বাড়ি ফেরা হয় না। বেঁচে থাকেন যারা পরিজন সেই ভয়াবহ দুঃখের স্মৃতি তাদেরও কাতর করে কোনো কোনো ঈদে।

এমনই নানান স্মৃতি ঘিরে থাকে আমাদের ঈদকে। এই মুহুর্তে অনলাইনে আছেন ১২ জন ব্লগার আমাকে নিয়ে। অনলাইনে আছেন
১২ জন ব্লগার, ৭০৫ জন ভিজিটর,৫০৯ জন মোবাইল থেকে ,অপ্‌সরা, ঘোর অমানিশায় একলা.....আমি নিশাচর, রানার ব্লগ, শেহজাদ আমান, ডঃ এম এ আলী, প্রবাসীকালো, নজসু, মহাজাগতিক চিন্তা, সৈয়দ কুতুব, এইচ এন নার্গিস,সুলাইমান হোসেন, ওমর খাইয়াম

সবাইকে জানাই ঈদের শুভেচ্ছা। আর সবার কাছে ঈদের স্মৃতি জানতে চাই। হোক না দু এক লাইনের। সে সব স্মৃতি নিয়ে জুড়ে দেবো আমার এই স্মৃতিকাতর ঈদ আনন্দ লেখায় ...

গল্প হলো শুরু
সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: ঈদ মোবারক আপু।

সকল ব্লগারের প্রতি ঈদের শুভেচ্ছা। জানা আপার প্রতি বিশেষ দোয়া ও ভালোবাসা, আল্লাহ তাকে দীর্ঘায়ু দান করুন।

খুবই ছোটোবেলার ঈদের কথা মনে পড়ে। ঈদের আগের দিন বাজার থেকে কাগজের রঙিন টুপি আর পটকা কিনে দিতেন বাবা। চাঁদ দেখার সাথে সাথে সেই পটকা ফোটানোর ধুম পড়ে যেত। রঙিন টুপিটা খুব যত্ন করে রাখতাম, ঈদের দিন সকালে কড়ার শীতের মধ্যে নামাজের আগে পুকুরে গোসল করতাম দল বেঁধে। তারপর ঈদের নামাজে যেতাম। তবে প্রথম প্রথম নামাজে না দাঁড়িয়ে বাইরে অন্য পোলাপানের সাথে একত্রে দাঁড়িয়ে দেখতাম কীভাবে নামাজ পরা হয়।

আমাদের বয়সী মানুষদের ছোটোবেলাকার ঈদ প্রায় একইরকমই হওয়ার কথা। অধুনার মতো মানুষের এত সচ্ছলতা ছিল না, এত রান্নাবান্নাও ছিল না। ঈদের আগের রাতে মা-চাচিদের দেখতাম হাতে-কাটা শেমাই বানাতো, ঈদের দিন সকালে রাঁধতো। সাথে খির, বাজার থেকে আনা কলের শেমাই তখনো এত সুলভ এবং জনপ্রিয় হয় নাই, এবং সেগুলো তত মজাও লাগতো না।


নীল-দর্পণ বলেছেন: ঈদের স্মৃতি বললেই মনে পড়ে পায়ের সাইজের চেয়ে একসাইজ বড় সু কিনে দিতেন আম্মা বাটা থেকে, সেই জুতোর ভেতর কাপড় গুঁজে পুরো এলাকা ঘুরে বেড়াতাম। পায়ে ফোস্কা পড়লেও জুতো হাতে নিয়ে হাঁটলে প্রেস্টিজ যাবে তাই খুলে হাতে নিতাম না অন্যদের মত।

অন্যের বাড়ীর রংয়ের সেমাই, সিরিঞ্জের ফুল পিঠা বা সাবু দানার পিঠার দিকে ছিল লোভ বেশি।

এখন ঈদ হচ্ছে কন্যাদের। গত বছর পার্স গলায় ঝুলিয়ে ঘুরেছে আর একটু পর পর সালামী এনে আমার কাছে এসে বলেছে ''মা দেকো আবার টাকা এনেচি"।
আমার খুবই মজা লাগে ওর দাদা বাড়ীর দিকের বাচ্চাদের দেখে। সকালে এসে সালাম দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে চুপচাপ। কী খাবে জিজ্ঞেস করলে বলবে, "আঁই কিছু নঁ হাইয়ুমদে, গরোত হাই আইসসি, ফ্যাড বরা" । খাবে না যাবেও না, মানে হল সালামী দাও। সালামী দিলে খুশি মনে অন্য বাড়ীতে যাবে সালাম করতে। :D

সৈয়দ কুতুবভাইয়ার স্মৃতির অপেক্ষায় আছি।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:৪৩
১০টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমার একটু ঘুম দরকার

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ১৮ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:০৭


আমার একটু ঘুম দরকার—
শান্তির, স্বস্তির গভীর এক ঘুম।
গা এলিয়ে, পা ছড়িয়ে দিয়ে
নিবিড়, নির্বিঘ্ন এমন এক ঘুম;
যে ঘুম পশুপাখির ডাক, মেঘের গর্জন,
বা বাঁশির সুরেও কখনও ভাঙবে না।

প্রভাত থেকে নিশীথ—বিরামহীন পথচলা,
ভাবনারা অহর্নিশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

না ফেরার দেশে চলে গেলেন আমার দাদা

লিখেছেন সাব্বির আহমেদ সাকিল, ১৮ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:৩৮



ঘড়িতে তখন সন্ধ্যা ৭টা ৫৪ মিনিট । চারিদিকে এশার নামাজের আজান শেষ হয়েছে । বাড়ির পুরুষরা সব মসজিদের দিকে ছুটে যাচ্ছে । কিন্তু একজন পুরুষ এইখানে শুয়ে আছেন । পুরুষটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মশা কামড়ায় রে, কামড়ায় ইরানী মশা

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৯ শে মার্চ, ২০২৬ ভোর ৪:৫৭


মশা কামড়ায় রে, কামড়ায় ইরানী মশা
সীমানা পেরিয়ে নীরবে হামলা চালায়
কেউ বলে ড্রোন, কেউ বলে গুপ্তচর
আঁধার রাতে আদান-প্রদান করে খবর!

এর হুলের যন্ত্রণায় আইরন ডোমও কাতরায়
মিসাইলও ভাবে এই যুদ্ধে কে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নবীজি ﷺ -এর অতুলনীয় উপমা: হাদিসে প্রকৃতি ও প্রাণের অপূর্ব ছবি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১৯ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:০৪

নবীজি ﷺ -এর অতুলনীয় উপমা: হাদিসে প্রকৃতি ও প্রাণের অপূর্ব ছবি

এআই দ্বারা তৈরিকৃত ছবি।

আরবের সাহিত্যের স্বর্ণযুগে, যখন কবিতা ছিল জাতির প্রাণশক্তি এবং ওকাজের মেলায় কাব্য প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠ কবিতা... ...বাকিটুকু পড়ুন

এসো ঈদের গল্প লিখি.....

লিখেছেন অপ্‌সরা, ১৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:১১


সামুতে নেই আর সেই আগের দিনের ঈদগুলো। ঈদের পোস্ট, গল্প লেখা,কবিতা, স্মৃতিচারণ কিছুই আর আজ নেই। সব কোলাহল ছাপিয়ে সামু আজ দাঁড়িয়ে আছে প্রায় অনেকটাই নিশ্চুপ। কেউ কেউ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×