somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

অপলক
আমি সাদামাটা মানুষ। ভালবাসার কাঙ্গাল। অল্পতেই তুষ্ট। সবাই আমাকে ঠকায়, তবুও শুরুতে সবাইকে সৎ ভাবি। ভেবেই নেই, এই মানুষটা হয়ত ঠকাবেনা। তারপরেও দিনশেষে আমি আমার মত...

যদি কামের কাম না হয়, সংখ্যা দেখলে বিগাড় ওঠে

২০ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



বগুড়া জিয়াউর রহমান মেডিকেল বর্তমানে ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট। এতেই রুগিরা সেবা পায়না, অপরিচ্ছন্ন, লোকবল নেই, যন্ত্রাংশ নষ্ট, ওষূধ নেই, ১৫০০ শষ্যাবিশিষ্ট করে লাভ কি? সেবা নিশ্চিত হবে না...

এখন ডাক্তাররা যথাসময়ে আসেন না। আসলেও নাস্তার ব্যাপার থাকে, অন্য ডাক্তারের রুমে গল্পগুজব থাকে, মিটিং থাকে, মেডিকেল রিপিরিজেনটিভদের ভিজিট থাকে। আবার কেউ কেউ বাচ্চা আনা নেয়ায় সময় হলে ডেস্কে ছেড়ে উঠে যান।


এসব ছাড়াও, দিনে দিনে সব ডিপার্টমেন্টে রিপোর্ট পাওয়া যায় না। তদবিরের মাধ্যমে পাওয়া গেলেও ডাক্তার বেরিয়ে যান। এমন কোন টয়লেট নেই যে সেখানে নোংরা থাকে না। দুই তিন দিন পর পর পরিষ্কার হয়। অথচ উচিত ৬ ঘন্টার পরপর ক্লিন করা।

ডাইরিয়া ইউনিটে প্রত্যেকটা বেড বা গদি পূর্বের কোন রুগির মলমূত্র দিয়ে মাখানো। মাতৃ ইউনিটে কোনটা রক্ত আর কোনটা পানের পিক বোঝা দায়। হাসপাতালে ১ ঘন্টা থাকলে নিজের কাপড় নিজের কাছে ঘেন্না লাগে, কেউ দুদিন থাকলে সেই সুস্থ্য মানুষও রুগি হয়ে যায়।

ডাক্তাররা শজিমেক হাসপাতালে অপারেশন নিয়ে সচেতন, তার চেয়ে বাহিরের ক্লিনিকে বেশি গুরুত্ব দেন। হাসপাতালের আচরন আর প্রাইভেটের আচরন সম্পূর্ন আলাদা।

রুগির স্বজনরা নার্সদের ডাকলে নিজেদের মন মর্জি মত আসেন। পরিষ্কার বেডশিট বা বালিশ বা অক্সিজেন পেতে ব্রাদারদের টাকা দিতে হয়। ট্রলি ঠেলতেও টাকা দিতে হয়। ইমার্জেন্সি ইউনিটে রুগির অবস্থার চেয়ে ফর্মালিটি বেশি। যেমন, টিকিট কাটা, পুলিশ কেস কিনা, রুগির স্বজনের বন্ড সই কে দেবে... রুগির ব্যাকগ্রাউন্ড কি... আজব আজব কাজে ১০-২০ মিনিট গায়েব। তারা মনেই করেনা যে, জরুরী বিভাগের রুগির ১মিনিট সুস্থ্য মানুষের ১ ঘন্টার চেয়েও বেশি ইম্পরটেন্ট। অন্য দিকে হাসপাতালের এম্বুলেন্স কখনই আমি পা্ইনি।

যাই হোক, আমি আমার নিজের অভিঞ্জতা ছবি সহ কিছুদিন আগে পোস্ট দিয়েছিলাম। লিঙ্ক এখানে : তারেক রহমান: বগুড়ায় খাল খননের কিছু নেই, হসপিটালের অবস্থা দেখেন এখানে

বস্তুত: স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করা যেমন কঠিন, প্রতিষ্ঠান তৈরীর আগে ভাবা উচিত সেটা চালাতে পারবে কিনা। সরকারের উচিত ৫০০ শষ্যা আছে, সেটাকেই আগে ঠিকঠাক করুক। বিশেষায়ীত বা আধুনিক করার নামে অথবা ৫০০ কে ১৫০০ শয্যা করার অযুহাতে টাকা অপচয়ের দরকার নেই।

আমি নিজে দেখেছি, চুলকানি রোগের জন্যেও এই শজিমেকে এসেছে। পা মচকে গেছে তার জন্যে এখানে এসেছে। গর্ভবতী মহিলার মাথা ঘোরায়, তার জন্যে সদর হাসপাতালে এসেছে। এগুলো থানা স্বাস্থ্য কম্পেক্সেই সেবা দেয়া সম্পন্ন করা যায়। এরজন্যে সদর হাসপাতালে আসতে হয় না। কিন্তু ঐ সব উপজেলা বা থানা স্বাস্থ্য কম্পেক্সে ডাক্তারই থাকে না, মানুষ করবেটা কি?


বর্তমান সরকার যেহেতু সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে শজিমেক কে উন্নত করার। আমার কিছু চাওয়া লিস্ট করে রাখলাম, যদি কখনও দৃষ্টি গোচর হয়, তাহলে খুশি হবো।

১. নিজস্ব অক্সিজেন তৈরীর ইউনিট রাখা যাতে প্রয়োজনে অন্যান্য হাসপাতাল ও থানা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে দ্রুত সাপলায় দেয়া যায়।
২. অনলাইন ভিত্তিক এ্যাম্বুলেন্স ভাড়া যাবার ব্যবস্থা করা এবং এ্যাম্বুলেন্সের সংখ্যাও বাড়ানো।
৩. পরমানু সংশ্লিষ্ট পরীক্ষাগার শজিমেক চত্তরেই রাখা। রুগীকে যেন অন্য কোথায় গিয়ে করাতে না হয়।
৪. ডায়াগনিষ্টিক সেন্টারকে ডিজিটালাইড করা এবং পরিসর আরো বাড়ানো। সব টেস্টের রিপোর্ট যেন হার্ড কপি এবং সফট কপি পাওয়া সম্ভব হয়। তাহলে যে কোন একটা দেখেই ডাক্তার সেবা দিতে পারবেন।
৫. সমস্ত নতুন ভবন গুলো গাড়ি পার্কিঙের জন্যে আন্ডার গ্রাউন্ড ব্যবস্থা রাখা।
৬. আবাসিক ভবন তৈরী করা। শুধুমা্ত্র জরুরী বিভাগের রুগীর স্বজনরা কাগজপত্রের মাধ্যমে ১টি সিট বা রুম, রাত্রি যাপনের জন্যে পাবেন। এতে দূর দূরান্তের রুগীরা হসপিটালের ময়লা ফ্লোরে থাকার দরকার পরবে না বা শহরের বোর্ডিয়ে গিয়ে থাকতে হবে না। সেখানকার ক্যান্টিন এ খেয়ে নিরাপদে বিশ্রাম নিতে পারবে।
৭. মেডিকেলের গেটে ২টি ফুট ওভার ব্রিজ দরকার।
৮. রেডিও থেরাপীর মেশিন, এক্সরে মেশিন, ইসিজি মেশিন, সিটি স্ক্যান, এম আর আই সহ সব ধরনের ব্যয় বহুল টেস্টের যন্ত্রাংশের সংখ্যা বহুগুনে বাড়ানো দরকার।
৯. ডায়াগনিস্টিক সার্ভিস সাধারনদের জন্যে ৮ ঘন্টার পরিবর্তে ২৪ ঘন্টা করা দরকার।
১০. সমস্ত ডাক্তার, নার্স বা কর্মচারীদের মনিটরিঙের জন্যে এন্ট্রি সিস্টেম ডিজিটালাইড করা দরকার, একেত্রে ইলেকট্রিক আইডি কার্ড সবার জন্যে বাধ্যতামূলক করা।


প্রকাশিত সংবাদের লিঙ্ক: বগুড়া শজিমেক হাসপাতাল ১৫০০ শয্যায় উন্নীত হচ্ছে
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:২৫
৪টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের শাহেদ জামাল- ৯৮

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৯ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:২২



আজ শুক্রবার। শুক্রবার মুসলমানদের জন্য বিশেষ একটি দিন।
আজ বাংলা আষাঢ় মাসের ৫ তারিখ। যদিও বর্ষাকাল। আজ আকাশে মেঘ নেই। বরং রোদ উঠেছে। রোদের তাপ ভালোই। শাহেদ পথে বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইউরোপের সবচেয়ে বড় ফিনটেঁক কোম্পানী রিপাবলিক ইউরোপকে ছেড়ে দেওয়ার সত্য ঘটনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৩

বাংলাদেশের আইটি ফার্মগুলোর মাঝে আমার ফার্মই তাঁর ইঞ্জিনিয়রাদের সবচেয়ে বেশি বেতন দিতো। আমার সিনিয়র রুবি অন রেইলস ব্যাকএন্ড ডেভেলপার ছিলো রিফাত। বয়স ৩০, সেই বয়সেই সে মাসে পেতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে এসো পূর্ণিমায়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:৫৫



তুমি ছাড়া ভালো লাগে না পূর্ণিমা চাঁদ, তুমি লুকিয়ে চন্দ্রিমার হলুদ বর্ণে। মায়াবী জোছনা মাখা রাত সবই যেন নিস্ফল, মন যেন হারিয়েছে আঁধারে সব সময় কাঁদে। চারিদিকে যেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারতীয় দূতাবাস অভিমুখে মিছিল কেন?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে জুন, ২০২৬ রাত ১:২১


ঢাকার রাজপথে আজ এক নতুন কুশীলবের আবির্ভাব ঘটলো। নাম তার ‘বাংলাদেশ আজাদ পার্টি’। এই নামের কোনো রাজনৈতিক অস্তিত্বের কথা দেশের আমজনতা না জানলেও, হঠাৎ এক রাতে তারা ‘অবৈধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যদি কামের কাম না হয়, সংখ্যা দেখলে বিগাড় ওঠে

লিখেছেন অপলক , ২০ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:২২



বগুড়া জিয়াউর রহমান মেডিকেল বর্তমানে ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট। এতেই রুগিরা সেবা পায়না, অপরিচ্ছন্ন, লোকবল নেই, যন্ত্রাংশ নষ্ট, ওষূধ নেই, ১৫০০ শষ্যাবিশিষ্ট করে লাভ কি? সেবা নিশ্চিত হবে না...

এখন ডাক্তাররা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×