somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

অপলক
আমি সাদামাটা মানুষ। ভালবাসার কাঙ্গাল। অল্পতেই তুষ্ট। সবাই আমাকে ঠকায়, তবুও শুরুতে সবাইকে সৎ ভাবি। ভেবেই নেই, এই মানুষটা হয়ত ঠকাবেনা। তারপরেও দিনশেষে আমি আমার মত...

পদ্মা ব্যারাজের ডিজাইনার : খাল বাবা স্বয়ং

১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আসন্ন বিসিএস পরীক্ষার কমন প্রশ্ন ফাঁস করে দিলাম। পদ্মা ব্যারাজের ডিজাইনার মহাপ্রতিভাবান খাম্বা/খাল বাবা। তিনি HSC ডিগ্রীধারী হলেও তার প্রতিভা আকাশচুম্বী। রবিঠাকুর বা নজরুলের সাথে তার কোন তুলনা হয় না। আগের সরকারের সময় আমরা পেয়েছিলাম, বিশ্ব বরেণ্য আইটি বিশেষজ্ঞ এবং ডিজিটাল ধারনার প্রবক্তা, সাড়ে হাজারের প্রতিবন্ধি জয় কে, এবার পেলাম, পানামা খালের চেয়েও স্বয়ংসম্পূর্ণ ও অনন্য ডিজাইনের চেয়েও শ্রেষ্ঠ পদ্মা ব্যারাজের ডিজাইনারকে। গর্বে আমার ৩৮ ইঞ্চি বুকের ছাতি ৩২ হয়ে গেল।

ভাবতেই ভাল লাগে, বাংলার রত্ন ঘরে ঘরে... কথায় আছে: সত্য এবং প্রতিভা কখনও চাঁপা থাকে না। একটু না হয় খোলশা করে বলি। প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ‘বর্তমান বাস্তবতার আঙ্গিকে পদ্মা ব্যারাজের ডিজাইন (নকশা) করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেই পদ্মা ব্যারাজের ডিজাইন করছেন। আপনারা পানামা খালের কথা শুনেছেন, পানামা খালের চেয়েও বড় কায়দায় স্বয়ংসম্পূর্ণ পদ্মা ব্যারাজ নির্মিত হবে।’



প্রকল্পের বিবরণ ও লক্ষ্য:
অবস্থান: রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলা।
ব্যয় ও মেয়াদ: প্রথম পর্যায়ে প্রায় ৩৪,৪৯৭ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে এবং ২০৩৩ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে।
কাঠামো: ২.১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ব্যারেজে ৭৮টি স্পিলওয়ে গেট, ১৮টি আন্ডার স্লুইস গেট এবং দুটি ফিশ পাস থাকবে।
মূল উদ্দেশ্য: শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট দূর করা, সেচ সুবিধা বাড়ানো এবং লবণাক্ততা রোধ করা, মৎস উৎপাদন বৃদ্ধি এবং নদী ভাঙন হ্রাস।


আমি এই ২০২৬ এ দাঁড়িয়ে বলতে পারি, এই প্রকল্প ব্যর্থ প্রকল্প হিসেবে সারা দুনিয়ায় উদাহরন হয়ে থাকবে। কেন? নিচের পয়েন্টগুলো পড়লেই বুঝবেন।

১. ফারাক্কা চুক্তির অনিশ্চয়তা এবং পানির অভাব: যদি নতুন কোনো শক্তিশালী গঙ্গা পানিবন্টন চুক্তি না হয় অথবা ভারত যদি শুষ্ক মৌসুমে পর্যাপ্ত পানি না ছাড়ে, তবে ব্যারাজের পেছনে জমা করার মতো কোনো পানিই থাকবে না। পানি না থাকলে এই ব্যারেজ কোনো কাজেই আসবে না।

২. পলির সমস্যা ও নদীগর্ভ ভরাট হওয়া : ফারাক্কা ব্যারেজের কারণে যেমন ভারতের বিহার অংশে নদীগর্ভ প্রায় ২০ ফুট ভরাট হয়ে গেছে, পদ্মা ব্যারেজের কারণেও পাংশা থেকে রাজশাহী পর্যন্ত প্রায় ১৪৫ কিলোমিটার দীর্ঘ নদীগর্ভে পলি জমে নদীর গভীরতা কমে যেতে পারে। এতে ব্যারেজের পানি ধারণক্ষমতা দ্রুত কমে যাবে এবং বর্ষাকালে ভয়াবহ বন্যার ঝুঁকি তৈরি হবে। ২.১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ব্যারেজ তখন ১৭ টি জেলার মানুষের জীবন দুর্বিষহ করে তুলবে। যদিও খাল বাবাকে স্বপ্ন দেখানো হয়েছে, ২৬টি জেলার সাড়ে ৭ কোটি মানুষ উপকৃত হবে।

৩. "ডাবল ফারাক্কা" পরিস্থিতি ও ভাটির অবক্ষয়: শুষ্ক মৌসুমে এই ব্যারেজের মাধ্যমে যদি পদ্মার সব পানি আটকে সেচ কাজে ব্যবহার করা হয়, তবে ব্যারেজ থেকে গোয়ালন্দ পর্যন্ত এই ২০ কিলোমিটার নদী সম্পূর্ণ শুকিয়ে যাবে। এর ফলে ভাটির অঞ্চলের পরিবেশ ধ্বংস হবে এবং এই এলাকাটি একপ্রকার "ডাবল ফারাক্কা" বা দ্বিগুণ পানিশূন্যতার কবলে পড়বে।

৪. অপর্যাপ্ত পানি ধারণ ক্ষমতা: জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে সুন্দরবন ও উপকূলীয় অঞ্চলে যে পরিমাণ লবণাক্ততা বাড়ছে, তা দূর করতে এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিশাল কৃষি জমিতে সেচ দিতে এই পরিমাণ পানি অত্যন্ত অপ্রতুল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সব পানি সেচে ব্যবহার করলেও চাহিদার একাংশও পূরণ হবে না, ফলে নদীর নাব্যতা বাড়ানোর দাবিটি অবাস্তব থেকে যেতে পারে। পদ্মা দিয়ে ৫৫০ বিসিএম পরিমান বা তার বেশি পানি বাংলাদেশ অংশে পার হয়। পদ্মা ব্যারাজ ধরে রাখবে সর্বোচ্চ মাত্র ৩ বিসিএম পরিমান পানি। কিন্তু রাজবাড়ীতে লাগে ১৯-২৬ বিসিএম পানি। তাহলে ব্যারাজের সব পানি দিয়েও সেচ নিশ্চিত করা যাবে না। তাহলে ব্যারাজ করে লাভ কি? বাস্তুচ্যুত করা আর প্রাকৃতিক প্রবাহের পরিবেশ নষ্ট করা ?

৫. মাত্র ১৪ বছরের পুরোনো অবিশ্বস্ত সমীক্ষার ওপর ভিত্তি: ২০১২ সাল থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে পদ্মার গতিপথ, নদীর গভীরতা, পলি জমার হার এবং জলবায়ুর ধরনে বিশাল পরিবর্তন এসেছে। পুরোনো ডেটা ও গাণিতিক মডেলের ওপর ভিত্তি করে এত বড় মেগা প্রকল্প নির্মাণ করলে বাস্তবতার সাথে নকশার অমিল দেখা দিতে পারে, যা প্রকল্পের স্থায়ীত্ব ও লক্ষ্যকে হুমকিতে ফেলবে।

৬. জীববৈচিত্র্য ও ইলিশের প্রজননে বাধা: যদিও প্রকল্পে 'ফিশ পাস' বা মাছ চলাচলের পথের কথা বলা হয়েছে, কিন্তু বিশ্বজুড়ে দেখা গেছে কৃত্রিম ফিশ পাসগুলো ইলিশের মতো তীব্র স্রোতের মাছের পরিযায়নের ক্ষেত্রে খুব একটা কার্যকর হয় না। পদ্মা ব্যারেজের কারণে ইলিশ ও গাঙ্গেয় ডলফিনের (Sushuk) অবাধ বিচরণ ও বংশবৃদ্ধি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। তারচেয়েও বড় কথা পদ্মায় শুধু ইলিশ, রুই, কাতল, পাঙ্গাশ বা ডলফিন থাকে না, অসংখ্য দেশী প্রজাতির ছোট বা গুড়া মাছও থাকে। আবার পানির গভীরতা ভেদে ভিন্ন ভিন্ন মাছ ভিন্ন ভিন্ন গভীরতায় থাকে। কাজেই স্পষ্টতই দুটি ফিশ পাস ব্যর্থ হবে। এর জন্যে রকেট সাইন্স জানা লাগে না। অন্যদিকে নদীর পানিতে ব্যরাজের কারনে স্রোত কম থাকবে, মানে অক্সিজেন কম থাকে। বহু মাছের প্রজননে তা প্রভাব ফেলবে, মাছের উৎপাদন কমে যাবে।

৭. লবনাক্ততা হ্রাসে কোন প্রভাব ফেলবে না: যেখানে ৫৫০ বিসিএম পানি বাংলাদেশের খুলনা অঞ্চলে লবনাক্ততা বাড়িয়ে চলেছে, সেখানে মাত্র ৩ বিসিএম পরিমান পানি কি করে লবনাক্ততা দূর করতে সহায়ক হবে মাথায় আসে না। তাও আবার সেই ৩ বিসিএম পানি সেচ প্রকল্পে ব্যবহার করা ঘোষনা দিয়েছে। যদি তাও হয়, তবে নৌ চলাচল বাড়বে এই আশ্বাস বস্তুত মিথ্যাচার। পানি সম্পদ মন্ত্রীর আরও একটি মিথ্যাচার হল, পদ্মা ব্যারাজের কারনে নাকি সাড়ে ৭ কোটি মানুষ সুবিধা পাবে। ২.১ কিমি দীর্ঘ পদ্মা ব্যারাজ পাবনা ও রাজবাড়ীর দুটে উপজেলা কে সংযুক্ত করছে, যেখানে মাত্র ২ লাখ মানুষ বাস করে। আর এই দুটো জেলাতে মোট ৪১ লাখ মানুষ বাস করে। কোন সূত্রে সাড়ে ৭ কোটি লোক উপকৃত হবে বুঝলাম না।


৮. নদী শাসন ও ভাঙন রোধ: আমি জানি না পৃথিবীর কোন ব্যারাজ ভাটি বা উজানের নদীপাড় ভাঙ্গা রোধ করেছে !!! বরং প্রতিবেশী দেশ ভারতের জলজ্যান্ত উদাহরন আমরা দেখেছি। যেমন মুর্শিদাবাদের ভাটিতে ১০০ কিমি ভেঙে নদীর গর্ভে চলে গেছে। অন্যদিকে উজানে পলি পড়ে নদী ভরাট হয়ে বন্যায় ঘটায় যখন তখন। এ পর্যন্ত সেখানে ৪০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ভারতের অভ্যন্তরে ব্যারাজের সৃষ্ট ক্ষতির কারণে পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের আন্দোলনগুলোর অজস্র রিপোর্ট এবং ইউটিউব ভিডিও নেট দুনিয়ায় ছড়িয়ে আছে। আমাদের রাজবাড়ী- পাবনার ৪১লক্ষ মানুষ অদূর ভবীষ্যতে পস্তাবে। তাদের খবরও নেট দুনিয়ায় গরম খবর হবে ২০৩৩ এর পর।



আমার সাধারন চিন্তারেখায় দেখি যে, ভারতের সাথে শক্তিশালী এবং গ্যারান্টিযুক্ত পানি চুক্তি ছাড়া এবং আধুনিক Sediment-Morphological বিবেচনা না করে কেবল কংক্রিটের কাঠামো তৈরি করলে, পদ্মা ব্যারেজ উপকারের চেয়ে "নিজেদের মাটিতে নিজেদের তৈরি ফারাক্কা ট্র্যাজেডি" হিসেবে রূপ নেবে। অযথা ৩৫ হাজার কোটি টাকা নষ্ট করার কোন মানে হয় না। খাল বাবার মাথায়, কোন অপদার্থ পদ্মা ব্যারাজ করার স্বপ্ন ঢুকিয়েছে আল্লাহ ভাল জানে। মরার উপর খাড়ার ঘা হল, খাল বাবা নিজেই ব্যারাজের প্রকৌশলী। একবার বোঝেন অবস্থা... !!! কি ঘটতে যাচ্ছে।


পত্রিকার লিঙ্ক: জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে পদ্মা ব্যারাজের কাজ শুরু হবে: পানিসম্পদমন্ত্রী
কেন পদ্মা ব্যারেজ বাংলাদেশের জন্য একটি বিপর্যয় হবে
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:২১
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সে আমার এআইনোক্কিও

লিখেছেন শায়মা, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:৪৪


এক জীবনে কত কিছু দেখা হয় কত কিছু জানা হয় মানুষের! আসলেই কত অজানারে! লেখক শংকরের এই নামে একটি বই আছে। কবিগুরুর আছে কবিতা কত অজানারে জানাইলে তুমি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগ সাইটের জন্য ডোমেইন নাম সাজেস্ট করুন

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৪:৫৫


বাংলায় ব্লগিং করার জন্য একটি ওয়েব সাইট তৈরী করতে চাচ্ছি। আপাতত মূল উদ্দেশ্য হলো সামুতে লিখা আমার সবগুলো পোস্ট ধীরে ধীরে সাইটটিতে আর্কাইভ করে রাখা। সামুতে অনেকে নিবেদিত প্রাণ ব্লগার... ...বাকিটুকু পড়ুন

ড্যাম কেয়ার সেই মেয়েটি AI দিয়ে সাজে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:২২



ড্যাম কেয়ার সেই মেয়েটি AI দিয়ে সাজে
==================================
পিঠ ছুঁয়ে নামা মেঘবরণ তার লম্বা কালো চুল,
তারই মাঝে লুকিয়ে হাসে একটি সাদা ফুল।
চোখ দুটো তার ডাগর ডাগর, অবাক করা আলো,
দুষ্টুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

দরজায় কড়া নাড়ছে সংকট: ডেঙ্গু কি তবে শুধুই দূরের পরিসংখ্যান?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:০০


অনেক দিন আগে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের একটি লেখায় এমন একটি ভাবনা পড়েছিলাম—যুদ্ধ যখন দূরে থাকে, তখন তাকে নিয়ে আমরা উত্তেজিত হই, আলোচনা করি, পক্ষ-বিপক্ষ নিই। কিন্তু সেই যুদ্ধ যখন নিজের উঠোনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

Somewhereinblog.net বাঁধ ভাঙ্গার আওয়াজ থেকে ডিজিটাল পাবলিশিংএ পরিনিত করে আর্থিক দিক দিয়ে স্বাবলম্বির লক্ষ্যে Substack-inspired Membership/Subscription Model প্রস্তাবনা

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৯


একজন সাধারণ নিয়মিত ব্লগার হিসেবে প্রতিদিন আমি লক্ষ্য করি, আমাদের এই Somewhereinblog.net ( সামু) প্ল্যাটফর্মটি কত চমৎকারভাবে বাংলা সাহিত্যের এবং তথ্যভিত্তিক লেখার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×