somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

|| সমাপ্তি ||

১১ ই জুলাই, ২০১৫ বিকাল ৫:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১.

রৌনককে যখন পাওয়া গেছে তখন প্রায় রাত ১০ টা। প্রায় কারণ ইন্সপেক্টর হাফিজের হাত ঘড়িটা গত ২০ দিন যাবৎ চলছে না। প্রথম প্রথম সমস্যা হতো,এখন আন্দাজে সময় ধরে নেয়।

রাত ১০ টায় ফার্মগেট ওভারব্রিজের গোড়ায় পুরানো টং দোকানটার সামনে রৌনক ছিল।মুখ দিয়ে ফেনা বের হচ্ছে,বুঝাই যায় ড্রাগ এডিক্ট। রাত ৯ টার পর ফার্মগেট এলাকার নিয়মিত দৃশ্য এই নেশাখোর। তাদের নিয়ে কেউ খুব বেশি মাথা ঘামায় না।

রৌনক চা খেতে খেতে হঠাৎ মাটিতে পরে যায়। দোকানদারের কাজের ছেলেটা এগিয়ে যায় তবে ছোঁয় না।
দোকানের সামনে অজ্ঞান হবার জন্য দোকানদার দুটা গালি দেয়।

- "ও স্যার,হেতে দেহি নড়ে না"

- "দুইটা লাথি মারলেই নড়বো"

- "স্যার মইরা গেছেনি!"

জহির মিয়ার টনক নড়ে। ছ'মাস আগে এভাবে একজন মারা যায়। গাঁজা না হিরোইন কি জানি নিতে বসেই শেষ..তার দোকান উঠে যাবার মত হয়েছিল। পুলিশি ঝামেলাকে এরপর থেকেই জহির মিয়া ভয় পায়।

- "কুদ্দুস থানায় খবর দে! হালা সারাদিন খুন খারাবি কইরা মরার জন্য খালি আমার দোকানটাই পাস"
জহির মিয়া বিতৃষ্ণা নিয়ে রৌনকের নিথর দেহের দিকে তাকিয়ে থাকে...


২.

প্রচন্ড যন্ত্রণা নিয়ে রাবেয়ার প্রতিটা রাত কাটে। যন্ত্রণা এজন্য না যে ২৭ বছরের সাজানো সংসার শেষ হয়ে যাবে, এরথেকে রৌনককে সত্যটা জানানোই বেশি কঠিন।বাবাকে সে আদর্শ মানে। দিনে রৌনক আর রাবেয়ার দেখা প্রায় হয় না।ব্যাস্ত জীবন দুজনের। রৌনককে কীভাবে বলবেন, এই ব্যাস্ততার জীবনে ভাঙ্গন আসবে। রাবেয়ার বড্ড ভয় হয়। উঠতি বয়সের ছেলে,রাগে কিছু করে না ফেলে!


সকাল ১০ টায় গাজীপুর থেকে হারুন ভাইয়ের কাছ থেকে প্যাকেট নেবার কথা,এক প্যাকেট পুরিয়া। হিরোইনকে লোকাল ভাষায় পুরিয়া ডাকে হারুন ভাই। সিগারেটে অনভ্যস্ত রৌনক পুরিয়া নিতে সময়মত চলে যায়। ওভারডোজ নিলেই সব সমস্যার একসাথে সমাধান হবে।
হারুন ভাইয়ের খোঁজ দিয়েছে আফরান। ক্লাসের সবাই তাকে গাঞ্জাখোর হিসেবেই চিনে।
আফরান ভাবে নি রৌনকের মত ছেলেও একদিন তার কাছে আসবে,তাও পুরিয়ার খোঁজ নিতে!

এক সপ্তাহ আগেই জয়িতা আন্টির সাথে বাবাকে আবিষ্কার করে রৌনক। বুঝে ফেলে গত কয়েকমাস মা এর কান্নার কারণ।
স্কুল কলেজে তুখোড় ছাত্র হিসেবে রৌনককে সবাই চিনে। মাঝে মাঝে মনে হয়,এত তুখোড় না হলেও হতো। বেঁচে থাকার জন্য এত বুদ্ধিমান না হলেও চলে !


৩.

রৌনকের মৃতদেহটি মেডিকেল কলেজের বারান্দায় পরে আছে। লাশের নাম ঠিকানা জানা যায় নি। ড্রাগের ওভারডোজ। হাফিজ সাহেব বিড়বিড় করে "কুত্তার বাচ্চা" গালি দেন। বাবা মায়ের টাকা উড়িয়ে ড্রাগ খেয়ে আনন্দ করা এই ছেলেগুলাকে দেখে তার বারবার মনে হয় নিঃসন্তান হয়ে ভালই হয়েছে!

রাবেয়া গভীর রাত পর্যন্ত ছেলের জন্য অপেক্ষা করেন। উঠতি বয়সের ছেলে,কখন কী করে রাবেয়ার ভীষণ ভয় হয় !
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুলাই, ২০১৫ বিকাল ৫:২৯
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বেঁচে থাকাই পরম বিস্ময়

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ২৬ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৩


পথেঘাটে ঘুরিফিরি, যেকোনো সময়
পটল তুলতে পারি গাড়ির ধাক্কায়।
মাঝেমধ্যে থাকি এমনও আশঙ্কায়,
নির্মাণাধীন ভবন থেকে ইট পড়ে
মাথা ফেটে রক্তক্ষরণে প্রাণটা যায়!
এমন পরিণতিতে লোকে দুঃখ করে।
গাড়ি, ট্রেন, প্লেন, হয়তোবা ইস্টিমার
দুর্ঘটনায় প্রাণটা চলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ মা'কে লেখা প্রীতিলতার শেষ চিঠি

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৬ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:০৯




আমায় তুমি পিছু ডেকো না'গো মা
আমার ফেরা সম্ভব  না।
দেশ মাতৃকায় উৎসর্গিতা আমি
আমি তো সেই ক্ষণজন্মা! 

আমায় তুমি আশীর্বাদ করো মা,
মোছো তোমার চোখের জল।
নিপীড়িতদের আর্তনাদ শুনছো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-২)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ২:০৮



সূরাঃ ২ বাকারা, ২১ নং আয়াতের অনুবাদ-
২১। হে মানব সম্প্রদায়! তোমরা তোমোদের সেই রবের ইবাদত কর যিনি তোমাদেরকে ও তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে সৃষ্টি করেছেন, যেন তোমরা মোত্তাকী হও।

সূরাঃ ২... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিনাশ গ্রহাণুপুঞ্জের অধিবাসী - সাইন্স ফিকশন

লিখেছেন আরাফাত৫২৯, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ ভোর ৫:১০




১/
বিজ্ঞান একাডেমির প্রধাণ মহামতি গ্রাহাম উনার অফিসের বিশাল জানালা দিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। সময়টা প্রায় শেষ বিকেল। সন্ধ্যার রক্তিম আভা দূর আকাশে দেখা যাচ্ছে। মনে হচ্ছে পুরো আকাশটাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইমাম, মুয়াজ্জিন, কুরআনের শিক্ষক ও দ্বীন প্রচারকদের বেতন বা সম্মানী গ্রহণের শরয়ী হুকুম

লিখেছেন নতুন নকিব, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:১৪

ইমাম, মুয়াজ্জিন, কুরআনের শিক্ষক ও দ্বীন প্রচারকদের বেতন বা সম্মানী গ্রহণের শরয়ী হুকুম

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মসজিদে ইমামতি করা, আযান দেয়া, কুরআন শিক্ষাদান করা কিংবা সাধারণভাবে দ্বীন প্রচারের কাজে বিনিময়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×