somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

অভ্র তুষার
মনটা নাকি একদমই কথা শুনতে চায় না,তবে নিজে প্রচুর কথা বলতে চায়।আর সেসব কথাই রক্ত হয়ে বের হত আগে কলম ফুঁড়ে।এখন নাহয় আঙুলের ডগার কুচকাওয়াজে কীবোর্ডে উঠুক মনের ধূলিঝড়,ক্ষতি কী?nnলেখালেখিটা তাই এখন একটা ভাইরাসের মতন হয়ে গেছে।সরল মানুষের মতন তাই মনের কথা শুনি

একজন রেণুর গল্প

০৫ ই নভেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৩:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



তখন আমরা 'একুশের গল্প' পড়তাম-আমার খুব প্রিয় একটা গল্প। তখনো বুঝিনি, 'একজন রেণু' ঠিক আমার আশেপাশেই ছিল। তপুর রেণুর মতই আপেল রঙা,তন্বী মেয়ে ছিল যেন ও;সম্পর্কে আমাদের একটু দূরের আত্মীয়া। রেণু চশমা পরত কিনা জানিনা,তবে নিভৃতে আমার পথে আলো ছড়ানো এই রেণু মেয়েটা চশমা পরত। যখন বুঝেছিলাম,তখন বড্ড দেরী হয়ে গেছে হয়ত। পরীক্ষার খাতা হাতড়ে নাম খুঁজে ফিরেছিলাম,বৃষ্টিভেজা রাস্তায় ফেলেছিলাম দীর্ঘশ্বাস,করেছিলাম শত অভিনয়।তবু বৃথা সব-আসেনি সে।

ওর নামটা ছিল কবিগুরুর একটা কাব্যগ্রন্থের নামে। তখনো আমি কবিতা লেখা শুরু করিনি যদিও।নতুবা অমৃতার জন্য মীর্চা এলিয়াদ যেমন আবেগের বর্ষা ছুটিয়েছিল ওর ভাষায়,কে জানত হয়ত আমিও লিখতে পারতাম।

আমি কখনো শুনিনি,তবু শুনেছিলাম নাকি ভাল গান করত মেয়েটা। ওর চুলের বেণী তে আমি বহুবার চোখ রেখেছি একাডেমির জানালা গলে,কখনো জানেনি হয়ত ও। গল্পগুলো জানত সিটি কলেজের সেকশন-বি এর কিছু হারিয়ে যাওয়া বন্ধুরা।ওরা হাসত,আমি লজ্জা পেতাম।

আমার ছোট বোনটা ভালবাসত অনেক মেয়েটাকে। বাড়িতে যাতায়াতও ছিল নাকি। ওর মুখেই শুনেছিলাম সেই নিশ্চুপ কান্নার কথা।হয়ত কেউ বকছে না,তবু শ্রাবণ নেমেছিল ওর লালচে গাল বেয়ে। আমি যেন ছুঁয়ে দেখেছিলাম সে কান্না। একটিবার অসম্ভব এর মতন, চেয়েছিলামও হয়ত, আমার রেজাল্ট এর খুশির ভাগ খানিকটা ওকে দিয়ে দিতে। তবে শত অপূর্ণ ইচ্ছের খাতায় এটাও একটা আঁচড়।

সিটি কলেজের তিন তলার করিডোরটা হয়ত ঐ একটা কারণেই আমার প্রিয় ছিল। পা টিপে টিপে সাইন্সের একটা আতেল টাইপ ছেলে যে প্রায়শ ওখানে বেড়াতে আসত-কেউ খেয়াল করত কিনা,কে জানে।একটা নাম,একটা মুখ,কিছু না বলা কথা আর কিছু অবুঝ অনুভূতি। তারপর তো কেটে গেল বহু বছর নিভৃতেই।আমাদের গল্পটা আর লেখা হল না।

শুনেছি,কবিরা নাকি স্মৃতির বোঝা বয়ে নিয়ে চলে। আমি তো বলি-এ স্মৃতি নয়,পাপ। আর আমি হলাম সেই পাপী। নাহলে হঠাৎ কেন হারিয়ে যাওয়া মানুষগুলোকে মনে পড়ে যায় এভাবে?
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই নভেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৩:৪৬
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"বন্যরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে"-.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৪০




"বন্যরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে"- বাংলা সাহিত্যের এই বহুল পরিচিত পঙ্‌ক্তির মর্মার্থ আমরা সবাই জানি। তবে মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা, বিশেষ করে শিশুদের প্রতি স্বতঃস্ফূর্ত স্নেহ ও আন্তরিকতারও... ...বাকিটুকু পড়ুন

মিথ্যে বলতে পারি না

লিখেছেন স্প্যানকড, ২৮ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৪


ছবি নেট


মিথ্যে বলতে পারি না,
আজও আমি স্পষ্ট দেখি
ঘরের মেঝেতে এক টুকরো রোদ
জানি না কী করে যেতে হয় ভুলে
পুরনো সব রোগ
সেই ভালো হতো যদি মিশে যেতাম স্রোতে।

মিথ্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেন নিজে নিজে এআই দিয়ে, নেট ঘেটে ডাঃ জাহাঙ্গীর কবির স্যারের সব সত্যতা পাচ্ছে...!

লিখেছেন লিংকন বাবু০০৭, ২৮ শে জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৬

বারডেম সহ সকল ডাক্তারদের উচিত নন কমিউনিকেবল ডিজিজ গুলো বেশি বেশি ঔষধ দিয়ে, ছয় বেলার জায়গায় দরকার হলে আরো কয়য়েক বেলা মুড়ি, বিস্কুট, খই এর সাথে আরো কিছু যোগ করে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেবদাস, কালজয়ী উপন্যাস এবং চিত্রনাট্যের পটভূমি

লিখেছেন মেহবুবা, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:২৮


প্রথম ১৯২৮ সনে নির্বাক "দেবদাস" মুক্তি পায় ফনী বর্মা এবং তারকবালা অভিনীত ছিল সেটি। এরপর প্রমথেশ বড়ুয়া এবং যমুনা বড়ুয়া অভিনীত সবাক দেবদাস মুক্তি পায় ১৯৩৫ সনে। তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে হৃদয় বিলিয়ে দেয়, বিশ্ব চরাচরে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:৪৩




যে হৃদয় বিলিয়ে দেয়, বিশ্ব চরাচরে
শান্ত গৌরবে, সেই আত্মারা কোথায় বেঁচে রয়।
দয়ার প্রতিটি বীজ সর্ন্তপণে বপন করা হয়,
সপ্তাকাশে উজ্জ্বল ফসল তবে অবধারিত রয়।

সাত আকাশের চরাচরে , ছায়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

×