somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পালাবদলের গল্প, সনি হল থেকে সিনেপ্লেক্স

১৪ ই নভেম্বর, ২০২১ দুপুর ১২:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


মিরপুরের সবচেয়ে পশ জায়গা সম্ভবত এখন সনির আশপাশটা। ওখানে এখন সিনেপ্লেক্স, পিজ্জা হাট, কেএফসি, বার্গার কিং, ওপাশে আড়ং, সুপ্রিম ডাইনার্স!
সিনেপ্লেক্সে এখনও যাওয়া হয় নি। এই সপ্তাহেই হয়তো যাবো রেহানা-মরিয়ম-নূর দেখতে। এর আগে সনি সিনেমা হল ছিলো যখন, তখন সেখানে সিনেমা দেখেছিলাম তিনটি। শাবনূর, ওমর সানির প্রেমের অহংকার, সূবর্ণা মোস্তফার রাক্ষস, আর মান্না-মুনমুনের রাজা নাম্বার ওয়ান। প্রেমের অহংকার দেখার কাহিনীটা মজার। তখন আমি নয় ক্লাসে পড়ি। দুপুরবেলায় সবাই মিলে নিয়ম করে রেডিওতে গানের অনুষ্ঠান শুনি। তো সেদিন দুপুরে রেডিওতে সিনেমার গান শুনতে শুনতে হঠাৎ সবার ইচ্ছা হলো একটা বাংলা সিনেমা হলে গিয়ে দেখে আসলে কেমন হয়! তখন আমরা, মানে কাজিনরা আর দুলাভাই মিলে গেলাম সিনেমা দেখতে। জাহিদ ভাই (দুলাভাই) সবাইকে দেখালেন সিনেমা। সিনেমার কাহিনী তেমন কিছু মনে নাই, তবে মনে আছে শাবনূরকে অসম্ভব সুন্দর লেগেছিলো ওখানে। তখন থেকেই শাবনূর আমার প্রিয় নায়িকা। আর বেচারা ওমর সানি, তাকে লাস্টে কী কারণে যেন এক বোতল সায়ানাইড খাইয়ে দেয়া হয় হত্যা করার জন্যে। কিন্তু তাও সে বেঁচে যায়। দৃশ্যটা আমাদের মধ্যে বেশ আলোড়ন তৈরি করেছিলো।
'রাক্ষস' রানা ভাইয়ার সাথে এক সন্ধ্যায় হুট করে দেখতে যাওয়া। আমার নানুবাড়ি থেকে একটু হাঁটলেই সনি হল। সেখান থেকে গিয়েছিলাম ম্যাটিনি শো দেখতে। রাক্ষসী ছিলো গ্রাম থেকে শহরে আসা সূবর্ণা মোস্তফার সংগ্রামের গল্প। সেখানে একটা সিনে সুবর্ণাকে যখন শহুরে ভাবীরা অপমান করছিলো, তখন সে শুদ্ধ ইংরেজিতে জবাব দিয়ে সবাইকে হতবাক করে দিয়েছিলো। সেই সময় দর্শকের সে কি তুমুল করতালি!
রাজা নাম্বার ওয়ান যখন দেখতে যাই তখন আমি লায়েক হয়েছি। খুলনায় পড়ালেখা করতে গেছি তখন। ছুটিতে ঢাকায় এসেছি। শুনলাম মুনমুন অভিনীত রাজা নাম্বার ওয়ান সিনেমাতে নাকি বিশেষ কিছু দৃশ্য আছে। তাই একাই চলে গেলাম দেখতে। নাহ, তেমন কিছু ছিলো না। তবে মুনমুনকে খুব ভালো লেগেছিলো। কাটপিস যুগের নায়িকাদের মধ্যে মুনমুন আমার ফেভারিট ছিলো। তার সাথে মেহেদী নামক এক নায়কের নাচগুলির জন্যে অপেক্ষা করতাম।
সনি হলের পাশেই ছিলো সনি মার্কেট। সেখানে কিছু ক্যাসেটের দোকান ছিলো, আর ছিলো প্রচুর ভিডিও গেমস খেলার দোকান। দুই টাকা কয়েন। তিন কয়েন পাঁচ টাকা। দশ টাকা দিলে পুরা গেম। আমাকে স্কুলে যাওয়ার জন্যে দেয়া হত ত্রিশ টাকা রিকশা ভাড়া। আমি মাঝেমধ্যে হেঁটে সনিতে গিয়ে পুরো টাকা দিয়ে সারাদিন ভিডিও গেম খেলে চলে আসতাম। যারা ভিডিও গেমগুলি বানিয়েছে,তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতাবনত হয়ে যেতাম।মাত্র দুই টাকা দিয়ে এই অসাধারণ আনন্দের অনুভূতি পাওয়া যাচ্ছে, মনে হত যে আমার প্রতি তারা দয়া করছে!



দুই টাকার দিন শেষ। এখন চড়া দামে আনন্দ কিনতে হয়। সনি হল এখন অতীত। তারপরেও যখন রিকশাওলাকে বলবেন আপনার গন্তব্য, সনি হলই বলতে হবে। তারা কেএফসি অথবা সিনেপ্লেক্স চিনবে না। এই যেমন এখন শ্যামলী হল ভেঙে শ্যামলী স্কয়ার হয়ে গেছে, কিন্তু বাস থেকে নামার সময় আপনাকে "হল শ্যামলী"তেই নামতে হবে! এশিয়া হলে বহুদিন ধরে সিনেমা আসে না। ওটা নিয়েও নিশ্চয়ই মালিক ডিপজল ভায়ার কোন পরিকল্পনা আছে। সিনেমা হলের আসলে কোথাও কোন ভবিষ্যত নেই। বিশেষ করে ঢাকা শহরে তো একদমই নেই।
ঢাকার সিনেমা হল নিয়ে আমার তেমন কোন স্মৃতি নেই, কাতরতাও নেই। তারপরেও কোন একটা যুগের অবসান ঘটছে, নতুন এসে সব দখল করে নিচ্ছে, এই পালাবদলের মধ্যে যে বিষণ্ণতার সুর বাজে, সেটায় আমি নিজেকে কিছুটা নিমজ্জিত হতে দিতে আপত্তি করবো না একদম!
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই নভেম্বর, ২০২১ দুপুর ১২:১৬
১৩টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ২০১

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৩১



এবছর দেশে আমড়ার ফলন ভালো হয়েছে।
আমড়ায় আছে প্রচুর ফাইবার যা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। এক কেজি আমড়া মাত্র ৫০ টাকা। এক কেজি আপেল ৩৫০ টাকা। মালটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার : বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নির্বাচন করা হয়েছে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

গাজা গণহত্যা’ প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকালে, পরিষদটি ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে
বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত প্রস্তাবের চেয়েও বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×