বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষে একটি বেসরকারি কলেজে শিক্ষকতা শুরু করেছিলেন এম এ হোসেন। তখন মাসিক রোজগার ছিল ৬০ হাজার টাকা। কিন্তু' ভাল প্রশাসনিক কর্মকর্তা হওয়ার নেশা মাথায় চেপে বসায় সক্ষমতা প্রমাণ করতে অংশ নেন ২২তম বিসিএস পরীক্ষায়। কৃতকার্য হয়ে প্রশিক্ষণ শেষে যোগ দেন কাজে। ৯ম গ্রেডে এখন বেতন পান ৬ হাজার ৮শ এবং চিকিৎসা ভাতা পান ৫শ টাকা। সরকারি কোয়ার্টারে থাকেন বলে বাসা ভাড়া পান না। বরং বাড়ি উন্নয়ন কর বাবদ কেটে নেয়া হয় সাড়ে ৭ ভাগ (৫শ) টাকা। শিক্ষকতার সময় প্রিয় ছোট ভাইকে সঙ্গে রেখে পড়ানোর খরচ জোগাতেন। এখন স্ত্রী-সন্তান নিয়ে চলতেই কষ্ট হয়, তাই পাষণ্ডের মতো প্রিয় ভাইটিকে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছেন। মনোযন্ত্রণায় এখন স্বাভাবিক কাজে মন বসাতে পারছেন না।
এম এ হোসেনসহ বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস) প্রশাসন ক্যাডারের মধ্য ও নিচের অধিকাংশ কর্মকর্তার মধ্যেই এ ধরনের হতাশা কাজ করছে। বিশেষ করে সততার সঙ্গে কাজ করছেন এমন কর্মকর্তারা এখন সংসার চালাতেই হিমশিম খাচ্ছেন। অনেকে ইতোমধ্যেই সৎ থাকার মনোবাসনা ত্যাগ করেছেন। কারণ প্রত্যাশার সঙ্গে অর্থনৈতিক ও চলমান অসঙ্গতিকে কোনোভাবেই মিলাতে পারছেন না তারা।
পরিবার-পরিজন নিয়ে এক ধরনের অর্থকষ্টেই অধিকাংশের জীবন কাটছে। জোড়াতালির মাধ্যমে সংসার চালাতে গিয়ে কাজের প্রতি মনোযোগী হতে পারছেন না তারা। ফলে জনগণের জন্য কাজ করার আগ্রহ নেই তাদের।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


