১.
রেইস, প্রতিযোগিতা আর জয়ের মধ্য দিয়ে জন্ম । অজস্র শুক্রাণু হারিয়ে যখন প্রবেশ করলাম ডিম্বাণুতে অস্তিত্ব জানান দিলো । জয়ের সান্নিধ্য নিলো অনু পরমাণু জল ও কোষ । সমস্ত পেছনে থাকা প্রকৃত অর্থে থেমে যাওয়া অর্থাৎ মৃত । মৃত হারিয়ে যেতে হয় নয়ত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে সচল গন্তব্যে অভিমুখের যাত্রা থেকে । আর বিচ্ছিন্ন সম্পর্কে যারা বসবাস, চিন্তায় প্রত্যেকে লাশ এবং লাশের গন্তব্য নিয়ে সক্রিয় চিন্তা কখনও খুব একটা ভাবনায় তাড়িত হয় না । নিষ্ক্রিয় চিন্তায় সুখি, ভালো থাকার মানুষগুলো খুব একটা প্রভাবে রাখে না সক্রিয় চিন্তার পথের ব্যাপ্তি বাড়ানোয় । তাই পথ অতিক্রমে ওদের ক্লান্তি ও ভীতি সমকাল সভ্যতার অমানবিকতা মনে হলেও গন্তব্যে পৌঁছনো চিন্তার কাছে অতিক্রম করে আসাটুকু প্রাসঙ্গিক হয়ে দাঁড়ায় হয়ত সেখান থেকে আরো সক্রিয় চিন্তা নতুন পথের গন্তব্য প্রাসঙ্গিক করে পূর্ববর্তী কম সক্রিয় চিন্তা বাতিল করে তথাকথিত অর্থে অমানবিকতা ও মৃতদের মাড়িয়ে যাবে ।
পিতা মাতা যাদের দৈনন্দিন আনন্দ ভিন্ন ধ্যান কিংবা মগজের ব্যায়াম থেকে জন্ম হয়নি । বরং একজন জারজের পৃথিবীতে আসার যৌক্তিক কারণ বিদ্যামান । তার আগমণের পেছনে পরিপূর্ণ যুক্তি দাঁড়ার করার যায় । এই যুক্তিহীন এবং প্রক্রিয়াকে বহন করে বেঁচে থাকার জন্য সমাজ ও সামাজিক জীবন পুরো প্রক্রিয়া এবং ফলাফলকে নাম দিয়েছে আবেগ, ভালবাসা ও মায়া । আরো সুক্ষভাবে বলতে গেলে, পৃথিবীর সামাজিক প্রক্রিয়া ঠিকিয়ে রাখার জন্য প্রক্রিয়া সচলকারক দাসের সৃষ্টি করে পিতা মাতা সমকাল সভ্যতার দায় দায়িত্ব পূর্ণ করেছে । আমার জন্ম দায় থেকে, সামাজিক প্রক্রিয়া সচল রাখার কতর্ব্য নিয়ে পূরিপূর্ণ দাস ।
শৃংখল বাধ্যতামূলক, দায়গুলো উত্তরাধিকার এবং নিজেকে বিলীন করে সমকাল সামাজিক প্রক্রিয়া টিকিয়ে রাখা মৃত্যুর মূল কারণ । একই চক্র টিকিয়ে রাখার ভেতর দিয়ে মৃত্যু প্রকৃত অর্থে মৃত্যু নয় । জন্মের শুরুতে প্রাণ বলতে যা কিছু ছিলো তা এক ভ্রান্তি জীবগুলোকে কর্মক্ষম করার ।
নিজের জীবন, আয়ুষ্কাল ও শরীর যেটাই এক মাত্র আমার । কারণ এগুলোর উপর পরিবার, রাষ্ট্র ও সমাজের যত অধিকার সব একটি প্রক্রিয়াকে টিকিয়ে রাখার ঢাল । নিজের জীবন, আয়ুষ্কাল ও শরীর সম্পূর্ণ নিজের বলে বিবেচিত তাই এগুলোকে ব্যবহার করে নিষ্ক্রিয় ও মৃত প্রক্রিয়ার বাইরে আরেকটি প্রক্রিয়ার আবিষ্কার বেঁচে থাকার, আমি যে জীবিত এবং মৃত্যুকে সম্পূর্ণ জায়েজ করার দিকে এগিয়ে যেতে হবে । সক্রিয় চিন্তার মৃত্যু অর্থাৎ চিন্তার স্তর ক্রমাগত পার করে যাওয়া, বেঁচে থাকা ও প্রাণকে স্বীকৃতি দেয় ।
ফয়সল অভি
চট্টগ্রাম
মে মাস, ২০১২
খনন : আত্ম দৃশ্য
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জুলাই, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:৪৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


